রাঙামাটির কাউখালীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৩২ লাখ টাকা সমমূল্যের ৩১ কার্টন ভারতীয় সিগারেটসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৪ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৫ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার বেতছড়ি এলাকার শামসুদ্দিনের বাড়ি থেকে ভারতীয় ওরিশ ও মুন ব্র্যান্ডের সিগারেট উদ্ধারের পর জব্দ করা হয়।
আটকরা হলেন- কাউখালী উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল (৩৮), উপজেলা তাঁতীদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. রিপন (৩৫), কাউখালী উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ (৪০) ও মো. সামশুদ্দিন (৬৩)।
জানা গেছে, এসব ভারতীয় সিগারেট রাঙামাটি থেকে কাউখালী উপজেলার পানছড়ির উগলছড়ি হয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে মজুত করা হয়েছিল। কিন্তু পাচারের আগেই যৌথ বাহিনীর অভিযানে পাচারকারীসহ আটক হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী গ্রুপ রাঙামাটি জেলার ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে এসব ভারতীয় অবৈধ সিগারেট আনছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় এই পাচারকারী গ্রুপের সদস্যরাও।
সর্বশেষ বুধবার রাতে রাঙামাটি থেকে কাউখালী বেতছড়িতে পাচারকারী চক্রের সিগারেট মজুতের খবর পায় যৌথ বাহিনী। পরে কাউখালী আর্মি ক্যাম্পের সেনাবাহিনী ও কাউখালী থানা পুলিশের যৌথ একটি টিম ঘটনাস্থল থেকে সিগারেটসহ তিনজনকে আটক করে। পরে সিগারেট রাখার দায়ে বাড়ির মালিক মো. সামশুদ্দিনকেও আটক করে কাউখালী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
অভিযোগ উঠেছে, রাঙামাটির বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, উপদলসহ বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করে এই সিগারেট পাচার করছে। এদের মধ্যে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া এলাকার বিএনপি নেতা ও সাবেক এক জনপ্রতিনিধি এবং আঞ্চলিক দলের এক নেতা এসব সিগারেট পাচারের মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করছে।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, অবৈধ ভারতীয় সিগারেট আটকের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে কাউখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুলফিকার বাদী হয়ে মামলা করেছে। আটক ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এদের বাইরেও যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেদী/