চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে কাদা থেকে উদ্ধার করা হাতিটির বাম পা এবং লেজ অবশ হয়ে গেছে। এ কারণে হাতিটি এখন নড়তে পারছে না। সেটির অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইন সাংবাদকিদের বলেন, হাতিটি পানি ছাড়া অন্য কোনো খাবার খেতে পারছে না। তবে চিকিৎসা চলছে। এখন এটিকে বিভিন্ন ধরনের খনিজ, ভিটামিন এবং স্টেরয়েড এবং লবণাক্ত পানি দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের জলদী অভয়ারণ্য রেঞ্জের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, হাতিটির আনুমানিক বয়স ৪০। পুষ্টিহীনতায় দুর্বল হয়ে এটি গত বুধবার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের নাপোড়া গ্রামের বইস্যার জুম এলাকায় কাদায় আটকে যায়।
স্থানীয়রা জানান, গত ৬ মার্চ সকালে গহীন পাহাড়ে কৃষকরা ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে হাতিটি দেখতে পান। তাৎক্ষণিক তারা ঘটনাটি স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে জানান। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন হাতিটি উদ্ধার করতে আসেন। পরে শুক্রবার সকালে হাতিটিকে উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগের জলদী রেঞ্জের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ‘প্রথমে আমরা একটি পাম্প দিয়ে পানি ছিটিয়ে হাতির গায়ের কাদা পরিষ্কার করি। পরে অন্তত ৩৫ জন গ্রামবাসীর সহায়তায় হাতিটি ডাঙায় তুলতে সক্ষম হই।
হাতিটি আগে থেকেই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তারপর কাদায় আটকে যাওয়ায় আরও দুর্বল হয়ে গেছে। উদ্ধারের পর আমরা হাতিকে স্যালাইনযুক্ত পানি খাইয়েছি। হাতিটি দাঁড়াতে পারছিল না।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক থেকে ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ এসে হাতিটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছেন। আশাকরি এটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে।
দিনা/অমিয়/