‘আগে মশা বেড়ে গেলে পৌর সভার লোকজন কিছু না হলেও স্প্রে করত। কিন্তু এখন কিছুই দেখি না। যেখানে অভিযোগ করব, সেই পৌর সভার মেয়র ও কাউন্সিলরও নেই। এখন মশার অত্যাচারে ঘর-বাড়িতে থাকাটাই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।’ কথাগুলো বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীনগর মহল্লার বাসিন্দা সাদ মুনতাসির হাসান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ বাসাবাড়ি, দোকানপাট, অফিস-আদালত, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল সব জায়গায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। রাতে তো বটেই, দিনের বেলায়ও মশা থেকে নিস্তার মিলছে না। মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে, মশা মারার ইলেকট্রনিক ব্যাট কিংবা মশানাশক ওষুধ স্প্রে করেও সুফল মিলছে না। বিকেল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই মশার উৎপাত তীব্র আকার ধারণ করে।
শুধু পৌরবাসী নয় অন্য উপজেলাগুলোতেও একই চিত্র। দিনে কিংবা রাতে সবসময় কানের কাছে ভনভন করে মশা। বর্তমানে জনপ্রতিনিধিরা না থাকায় পৌর সভার মশকনিধন কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, এখন প্রজনন মৌসুম বলে মশার উৎপাত বেড়েছে। পৌর সভার ১৫ ওয়ার্ডের মশকনিধন কার্যক্রম চলমান আছে।
পৌর এলাকার হরিপুর মহল্লার বাসিন্দা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘মশার অসহনীয় যন্ত্রণায় রয়েছি। বিকেলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। মনে হচ্ছে আমরা কোনো মশার শহরে বসবাস করছি।’
আলীনগর ভূতপুকুর এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ‘মশার যন্ত্রণায় মসজিদে নামাজ পড়তে মুসল্লিদের ভীষণ কষ্ট হয়। কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা মশানাশক স্প্রে করেও এ যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাচ্ছি না।’
মহাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘বাচ্চারা ঘরের ভেতরে পড়াশোনা করতে পারছে না। সারাক্ষণ কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে। কয়েলের ধোঁয়াতেও ছেলেমেয়েদের সমস্যা হচ্ছে। মানুষের পাশাপাশি বাড়িতে থাকা গরু-ছাগলগুলোও মশার কামড়ে ছটফট করে।’
নয়াগোলা এলাকার বাসিন্দা আবদুস সবুর সুজন বলেন, ‘পৌরসভার মেয়র নেই, কাউন্সিলর নেই। কোনো রকম তদারকিও নেই। মশানিধনের কোনো কার্যক্রম চলছে কি না তা বুঝতে পারছি না। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মশার যন্ত্রণায় থাকতে পারি না। আমাদের
এলাকায় শেষ কবে মশকনিধন দেখেছি মনে করতে পারছি না।’
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মশারির ব্যবস্থা আছে। ড্রেনসহ হাসপাতাল ও আশপাশের আঙিনা পরিষ্কার করে থাকি। পৌর সভার পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন আগে মশকনিধন ওষুধ স্প্রে করেছে। মশার উপদ্রব অনেক বেশি হলেও মশাবাহিত কোনো রোগবালাই আপাতত নেই।’
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ১৫টি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি তো যাওয়া সম্ভব হয় না। বর্তমানে শহরকে প্রাধান্য দিয়ে মশানিধনে ৫টি ফগার মেশিন নিয়মিত কাজ করছে।’