ঠাকুরগাঁওয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। টানা কয়েক দিন ধরে ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ। গতকাল শনিবার বেলা ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলা সদরের রিকশাচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা রিকশা চালাতাম। এখন গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাই অল্প সময় চালিয়েই বাসায় চলে যেতে হয়। আয়ও অনেক কমে গেছে।’
সদর উপজেলার আনোয়ার হোসেন জানান, ‘গরমে ঠিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। একেক দিন একেক জায়গায় কাজ খুঁজতে বের হই। কাজ পেলেও গরমের জন্য বেশিক্ষণ কাজ করা সম্ভব হয় না।’
শহরতলী এলাকার রুমানা আক্তার বলেন, ‘গরমে বাচ্চাদের কষ্ট হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বৃষ্টি হলে একটু শান্তি মিলবে। এখনকার অবস্থা খুবই কষ্টকর।’
গরমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকেই রাস্তায় চলার সময় বারবার বিশ্রাম নিচ্ছে। কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য ঠাণ্ডা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী তিন দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে আবহাওয়া অনেকটা স্বস্তিদায়ক হবে।’
এদিকে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমে নাকাল হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন শ্রমজীবীরা। শনিবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান। তিনি জানান, বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনও একই অবস্থা বিরাজ করতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত বুধবার ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গত বৃহস্পতিবার ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গত শুক্রবার ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলার বড় বাজারের ভ্যানচালক কবির বলেন, ‘গরমে হাঁসফাঁস লাগছে। কিন্তু ভ্যান না চালালে খাব কী? রাস্তায় রোদে থাকলে শরীরের পানি শুকিয়ে যায়। অনেক কষ্ট হয় ভ্যান চালাতে।’
দিনমজুর সুজন বলেন, ‘কাজ বন্ধ রাখলে আয় হবে না। আবার কাজে গেলেও মনে হয় শরীর আগুনে পুড়তেছে। দুপুরের পর কাজ করা খুবই কষ্টকর। তবুও পেটের দায়ে কাজে যেতে হচ্ছে।’
কুলি হামিদ বলেন, ‘এই গরমে স্টেশনে মাল টানতে হচ্ছে। ৫ মিনিট কাজ করলে মনে হয় সারা শরীর আগুন হয়ে গেছে। একটু পর পর বিশ্রাম নিতে হয়।’
এ অস্বাভাবিক আবহাওয়ায় শুধু নিম্নবিত্ত নয়, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।