পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন ভারত থেকে পুশইন হওয়া শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষ। তবে তাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা কিংবা সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারেনি বিজিবি ও বিএসএফ।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোর ৬টায় তাদের পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ায় তারা ভারতীয় সীমান্তরেখায় আটকা পড়েন। তবে ভুক্তভোগী ১০ জন ভারত থেকে আসার কথা বললেও বিষয়টি অস্বীকার করছে বিএসএফ। পাশাপাশি তিন দফা পতাকা বৈঠক হওয়ার পরও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিজিবি ও বিএসএফ। বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে বিজিবি সদস্যরাও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে ভারতীয় কোনো অনুপ্রবেশ বা পুশইন মেনে নেওয়া হবে না বলে তারা জানিয়েছে। এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদও জানিয়েছে বিজিবি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুশইন হওয়া শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষ ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখার একটি কৃষিজমির আইলের ওপর অবস্থান নিয়েছেন। চারপাশে পানি, নেই খাবারের ব্যবস্থা। না খেয়ে তারা দিন-রাত পার করছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে সামান্য পানিসহ শুকনো খাবার দেওয়া হলেও বিএসএফ কোনো সহযোগিতা করছে না। এছাড়া শুক্রবার ঝড়বৃষ্টিতে ভিজে তারা রাত কাটিয়েছেন। ১০ জনের মধ্যে ৩ শিশু, ২ নারী, ১ জন বৃদ্ধ ও ৪ জন পুরুষ রয়েছেন।
পুশইন হওয়া নারী-পুরুষরা জানান, তারা অনাহারে রয়েছেন। শুক্রবার থেকে ঝড়-বৃষ্টি ও রৌদ্রের মধ্যে পানিবেষ্টিত এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, যেহেতু তারা ভারত থেকে এসেছে, তাই তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। ভারত থেকে আসায় তাদের ভারতেই ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। তবে বিএসএফ যে কাজ করেছে, তা অমানবিক। গত দুই দিন ধরে পুশইন হওয়া মানুষগুলো চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। না খেয়ে, পানির মধ্যে খেতের আইলে বসে অবস্থান করছেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং তাদের ফেরত নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ভুক্তভোগীরা স্বীকার করেছেন যে, তাদের ভারত থেকে সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবির টহল ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে পুশইন বা অনুপ্রবেশ না ঘটে, সে জন্য আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’
রনি মিয়াজী/রিফাত/