সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বালাগঞ্জ-খসরুপুর সড়কের বিশাল অংশ ও একটি সেতু ধসে পড়েছে।মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে নদীর তীরবর্তী এই স্থানটি হঠাৎ দেবে যায়। এরপর বুধবার(৭ মে) সকালে সড়কের এই অংশ ও পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের পৈলনপুর-ফাজিলপুর গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় একটি সেতু ধসে যায়। এতে এই সড়কের প্রায় ৩০০ মিটার অংশে ফাটল ধরে। এতে অন্তত পাঁচ ফুট দেবে গর্ত হয়ে গেছে। তবে জনদুর্ভোগ লাঘবে বিকল্প সড়ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে শিগগিরই কাজ শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির দায়িত্বরতরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী সময়ে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে এই সড়কের কয়েকটি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর সঙ্গে এই স্থানটিতেও নদীর তীর মেরামত করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথভাবে নদীর তীর মেরামতের কাজ না করায় এই ধস নেমেছে। তাই গত বুধবার থেকে এই সড়ক ব্যবহারকারী আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। দুই বছর আগে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার নদীভাঙনের ফলে সড়কের এই উন্নয়ন কোনো কাজে আসছে না।
এ ব্যাপারে পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘ভাঙনে এই এলাকার মানুষ সীমাহীন ভোগান্তিতে আছেন। যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে সড়কের দেবে যাওয়া স্থানটি জরুরি মেরামত করা খুবই প্রয়োজন।’ এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম বারী খবরের কাগজকে বলেন, ‘এর আগে ২০২২-২৩ সালে ভাঙন প্রতিরোধে একটা প্রকল্পে আমরা কাজ করেছি। সেই প্রকল্প এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে। গত ৩ মে টেন্ডার হয়েছে। ১৪ মে টেন্ডার খোলা হবে। প্রাথমিকভাবে নদীভাঙন রোধে আমরা জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ করব। যেহেতু সড়ক ও সেতু ভেঙেছে, তাই এলজিইডির দায়িত্বরতদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।’
এ ব্যাপারে এলজিইডি বালাগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র দেবনাথ খবরের কাগজকে বলেন, ‘এটি আসলে বেড়িবাঁধ। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটি ফেলে দেওয়ার পর ২০২২-২৩ সালে আমরা সড়ক করে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার নদীভাঙনের ফলে ধসে পড়ছে সড়ক ও সেতু। আমরা ইতোমধ্যে এই জায়গা পরিদর্শন করেছি। এই কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা লাগবে। যেখানে ধস নেমেছে, সেটার ডান দিকে মাটির রাস্তা করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। পাশাপাশি যে কালভার্টটি আছে, সেটা বন্ধ করার জন্য আবেদন করব। এখন সবার সমন্বয়ে শিগগিরই বিকল্প সড়কের কাজ শুরু হবে।’