চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কমছে চিনির দাম। এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনিতে দাম কমেছে ৫ টাকা। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।
গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাইকারিতে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছিল ১১৪ থেকে ১১৮ টাকায়। সে সময় ব্যবসায়ীরা সরবরাহসংকটের অজুহাত দেখিয়ে চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
গত ১০ এপ্রিল পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছিল ১০৮ টাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার দাম আরও কমে বিক্রি হয়েছে ১০৩ টাকায়। সে হিসাবে, মাসের ব্যবধানে (১০ এপ্রিল-৮ মে) প্রতি কেজি চিনিতে দাম কমল ৫ টাকা।
এদিকে মণপ্রতি হিসাবে, মাসের ব্যবধানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩৭ কেজি) চিনিতে দাম কমেছে ১৬০ টাকা। গত ১০ এপ্রিল পাইকারিতে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয় ৩ হাজার ৯৮০ টাকায়। গত ৩ মে দাম কমে বিক্রি হয় ৩ হাজার ৮৫০ টাকায়। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৮২০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হতো ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। এরপর চিনির বাজার দর বাড়তে বাড়তে গত বছরের শেষদিকে ৪ হাজার টাকার ওপরে চলে যায়। গত এক মাসে কয়েক দফায় চিনির দাম কমেছে। বর্তমানে ৩ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পণ্যটির সরবরাহ বেশ ভালো। দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখছি না।’
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বড় বড় শিল্পগ্রুপ চিনি আমদানি করছে। পাশাপাশি অনেকে ব্যক্তিপর্যায়েও অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি চিনিও আনছে। এ কারণে পণ্যটির সরবরাহ বেড়েছে। পাইকারি পর্যায়ে চিনির কোনো ঘাটতি নেই। তাই দামও অনেক কমে গেছে। পণ্যটির দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই।
তবে পাইকারিতে দফায় দফায় দাম কমলেও এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। পাইকারি বাজারে যখন দাম বেশি ছিল অর্থাৎ মাসখানেক আগেও খুচরায় প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। বর্তমানে পাইকারিতে দাম কমার পরও খুচরা ব্যবসায়ীরা আগের ১২০ টাকা দরেই বিক্রি করছেন।
চট্টগ্রাম মহানগরের আগ্রাবাদ এলাকার আল মক্কা স্টোরের মালিক মো. শোয়েব বলেন, ‘সপ্তাহখানেক আগে থেকে চিনির বাজার দর কমতে শুরু করেছে। কিন্তু আমরা এখনো নতুন করে চিনি কিনে আনিনি। বর্তমানে আগের চিনিগুলোই বিক্রি করছি। নতুন দরে কিনে আনলে তখন অবশ্যই কম দামে মানুষ চিনি পাবেন।’
নগরের ব্যাপারী পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম কমলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম কমাতে চান না। অনেক সময় পাইকারিতে দাম কমার খবরটা সাধারণ মানুষ জানতে পারেন না। তাই খুচরা পর্যায়ে বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা একবার কোনো একটি পণ্যের দাম বাড়াতে পারলে, সেটি আর কমাতে চান না। একসময় মিলার, আড়তদার বা পাইকাররা কারসাজি করতেন। এখন খুচরা ব্যবসায়ীরাও সে পথে নেমেছেন। তারাও এখন অতি মুনাফালোভী হয়ে উঠেছেন। কাজেই ভোক্তা অধিকার, প্রশাসনকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় পাইকারিতে দাম কমার সুফল ভোক্তারা পাবেন না।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘আমরা যখনই কোনো বাজারে অভিযানে যাই, আমরা শুধু অভিযানই পরিচালনা করি না। জরিমানার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সতর্ক করি। বাজার সমিতির সঙ্গে বৈঠক করি, আলোচনা করি। তখন আমরা তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দিয়ে থাকি। পাশাপাশি প্রতিদিনই আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’