টাঙ্গাইলে আয়োজিত জেমসের কনসার্টে মোবাইল চুরির ঘটনায় থানায় শতাধিক জিডি করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে।
বুধবার (১৪ মে) দুপুর পর্যন্ত কমপক্ষে ১১০ জন থানায় জিডি করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে।
এদিকে অনেক গণমাধ্যমকর্মী আয়োজক কমিটির বাধার কারণে স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারেননি।
জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়। এ চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এর ট্রফি উন্মোচন করেন হয়। উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ বিএনপির ও আয়োজক কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে জেমসের কনসার্টে উপলক্ষে বিকেল থেকেই ঢল নামে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে। পরে রাত ৯টার দিকে জেমস মঞ্চে ওঠেন। বিভিন্ন গান পরিবেশন করে তিনি দর্শকদের মাতোয়ারা করেন। এ সময় স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে কনসার্টের একপর্যায়ে কয়েকশ মোবাইল চুরি হয়।
অপরদিকে কয়েকজন নারীকে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট করছেন। এ নিয়ে জেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
দর্শনার্থীরা অভিযোগ করেন, আয়োজক কমিটি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি। বিশেষ করে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কারণে হিমশিম খেতে হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। এতে সাধারণ অনেক দর্শনার্থীই ঠিকমতো কনসার্ট উপভোগ করতে পারেননি।
সাংবাদিক নাঈম খান রাব্বি বলেন, পেশাগত কাজের জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু জেমসের কনসার্টে আমার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। এ ছাড়া আমার ভাগনেরও ফোন হারিয়েছে।
টাঙ্গাইলের ক্রীড়া সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য সাংবাদিক হিসেবে ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকতে গিয়ে ফিরে এসেছি। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও টিকিট ছাড়া ঢুকতে দেয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
শেখ ফরাশ নামে একজন বলেন,আমার আইফোন পকেটে নিয়ে গেটে ঢোকার সময় কে যেন হাত দিয়ে মোবাইলটি নিয়ে চলে যায়। পরে মাঠে ঢুকে দেখি মোবাইল নেই। আসলে গেটে যদি পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকত তাহলে এই চুরির ঘটনা ঘটত না।
টাঙ্গাইল সদর থানার বারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। মোবাইল চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১০ জন জিডি করেছেন। এখনো সিরিয়াল রয়েছে।
জুয়েল/মেহেদী/