ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও চট্টগ্রামে এখনো হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। সেই কারণে হালদা নদীতে এখনো পাহাড়ি ঢল নামেনি। এরই মধ্যে হালদার মা-মাছ তিন দিনের মাথায় দ্বিতীয়বার নমুনা ডিম ছেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে হালদার আজিমের ঘাট এলাকায় নমুনা ডিম পেয়েছেন কিছু ডিম আহরণকারী।
আজিমের ঘাট থেকে হালদা প্রকল্পের পাহারাদার বখতিয়ার জানান, ডিম সংগ্রহকারীরা দিনরাত পালা করে হালদা নদী পাহারা দিচ্ছেন। কখন রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে, তার ঠিক নেই। অনেক সময় তপ্ত রোদেও ডিম ছাড়ে। আবার কোনো কোনো সময় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সময় মা-মাছ ডিম ছাড়ে। যেহেতু নমুনা ডিম পেয়েছেন, তাই ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম পাওয়ার ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী।
দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা কার্প জাতীয় মাছ, রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ মাছ প্রতিবছর এই মৌসুমে ডিম ছাড়ে। জেলেরা উৎসবের আমেজে তা সংগ্রহ করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘এপ্রিল থেকে জুন মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতসহ পানির বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক প্যারামিটারের ওপর নির্ভর করে হালদা নদীতে মা-মাছ ডিম ছাড়ে।’
নমুনা ডিম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হালদা নদীতে মা-মাছ পূর্ণাঙ্গ ডিম ছাড়ার আগে একটি-দুইটি করে অল্প পরিমাণ ডিম ছাড়ে। স্থানীয়রা সেগুলোকে নমুনা ডিম বলেন। প্রজননকালে যখন মাছের ডিম পরিপক্ব হয় এবং নদীর পরিবেশ কিছুটা অনুকূল দেখে, তখন মা-মাছ পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি ডিম ছাড়ে। এর মাধ্যমে মাছ তাদের ডিম নদীর এ গুণাগুণের পানি এবং পরিবেশে টিকে থাকতে পারবে কিনা তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করে। যদি তারা পরিবেশ অনুকূল মনে করে, তাহলে এরপরের জোয়ার বা ভাটায় পূর্ণাঙ্গ ডিম ছেড়ে দেয়। এক মৌসুমে একাধিকবার নমুনা ডিম ছাড়তে পারে। যেমন গত মঙ্গলবার ভোরে নাপিতের ঘাট থেকে নোয়াহাট পর্যন্ত এলাকায় একবার নমুনা ডিম ছেড়েছিল। নমুনা ডিম ছাড়ার পর মাছ যদি মনে করে পরিবেশ এখনো উপযুক্ত হয়নি, তাহলে তারা ডিম ছাড়ে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল এখনো না নামলেও হালদা নদীর পানি ঘোলাটে হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘোলাটের হার ছিল ২২২। পাহাড়ে তুমুল বৃষ্টিপাত হলে ঢল নামবে। তখন এই ঘোলাটের হার ৬০০ থেকে ৭০০ পর্যন্ত হয়ে যাবে। অতীত গবেষণা বলছে, পানি যত ঘোলাটে হয়, ডিম ছাড়ার পরিমাণ তত বাড়ে।’