খুলনায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ২২টি কোরবানির পশুর হাটে কেনাবেচা জমে উঠেছে। গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই পুরোদমে এ সব হাটে গরু-ছাগল কেনাবেচা হচ্ছে। গ্রামের হাটগুলোতে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বড় গরু নিয়ে কিছুটা চিন্তিত রয়েছেন ব্যাপারীরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার নগরীর জোড়াগেট কোরবানির হাটের পাশাপাশি ফুলতলায় ১টি, দিঘলিয়ায় ৪টি, তেরখাদায় ১টি, রূপসায় ১টি, দাকোপে ২টি, কয়রায় ২টি, পাইকগাছায় ৩টি, ডুমুরিয়ায় ৩টি ও বটিয়াঘাটায় ৩টি হাটে গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু কিছু অস্থায়ী হাটে ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত কোরবানির পশু বিক্রি হবে।
এর মধ্যে সরেজমিনে তেরখাদার ইখড়ি গো-হাটে দেখা যায়, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশি গরু-ছাগল বিক্রির জন্য এসেছে। হাটে সরবরাহ বেশি থাকায় আশপাশের সড়কেও গরু বিক্রির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন ক্রেতারা।
উপজেলার বারাসাত গ্রামের আজিজুল মোল্লা বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ক্রেতা সমাগম বেশি। তবে বিগত বছরগুলোতে যারা বড় বড় গরু কিনতেন অনেকেই ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। ফলে বাজারে বড় আকারের গরু কেনাবেচা কমেছে।’ জানা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে সোমবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এখানে হাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে এবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পৌনে চার লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ২৮৫টি। বিপরীতে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৮৫টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত আরও পশু অন্য জেলায় পাঠানো হবে।
এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খুলনার ডুমুরিয়ার খামারি ও কৃষকরা। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়তির কারণে পশু মোটাতাজা করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন খামারিরা। ডুমুরিয়ার শাহপুর এলাকার খামারি মিনু সাহা জানান, চার বছর ধরে তিনি গরু লালন-পালন করছেন। বড় আকারের গরু লালন-পালন করতে যে খরচ সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। ফলে গরু আকারে বড় করতে রাজি হয় না অনেকে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, কোরবানির পশু কেনাবেচার সময় ২২টি হাটে ৩০টি মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা বিক্রি করতে নেওয়া গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন ও অসুস্থ হলে চিকিৎসা দেবেন।
তিনি বলেন, কোরবানির জন্য খুলনা অঞ্চলের খামারিদের মাধ্যমে নিরাপদ পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করার কার্যক্রম সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত কৃমিনাশকের ব্যবস্থাসহ পশু পালনের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার জন্য খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ কারণে গরু উৎপাদনে সফলতা এসেছে।