রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পাওনা টাকা না পাওয়ায় শ্বশুরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জামাইয়ের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার যশাই ইউনিয়নের সমসপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতনের শিকার শ্বশুর সাইদুল প্রামানিককে (৫০) উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত জামাই দাউদ মন্ডলসহ তিনজনকে আটক করে।
আটক অন্য দুজন হলেন- দাউদ মন্ডলের বাবা মিজান মন্ডল ও ভাই নাজমুল মন্ডল। তাদের সবার বাড়ি একই ইউনিয়নের সমসপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সাইদুল প্রামাণিকের বড় মেয়ের সঙ্গে দাউদ মন্ডলের বিয়ে হয় প্রায় ৭ বছর আগে। তবে তারও আগে শ্বশুর সাইদুল প্রামানিক নিজের ভাগনে তথা ভবিষ্যৎ জামাই দাউদ মন্ডলের কাছ থেকে জমি লিজ দেওয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা অগ্রিম নেন। কিন্তু জমি হস্তান্তর না হওয়ায় পরবর্তীতে দাউদ টাকা ফেরত চান। এ সময় সাইদুল এক মাস সময় চাইলেও দীর্ঘ ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত দেননি তিনি। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশ হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে- এ
টাকার দ্বন্দ্ব দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে।
দাউদের দাবি, শ্বশুরের প্রতারণার কথা বললে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। বৃহস্পতিবার সকালে সাইদুল প্রামানিক নিজ বাড়ির পাশে কাজ করছিলেন। এ সময় জামাই দাউদ ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক ধরে এনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। স্থানীয়রা খবর দিলে পাংশা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাইদুলকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দাউদ মন্ডল বলেন, 'সাইদুল আমার আপন মামা। তিনি আমাকে জমি লিজ দেওয়ার কথা বলে ৮ বছর আগে এক লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে নানা কৌশলে আমাকে ভুল বুঝিয়ে তার মেয়েকে বিয়ে দেন। বিয়ের পর সংসারে শান্তি ছিল না। আমি গরিব মানুষ। রাজমিস্ত্রির কাজ করি। টাকার জন্য বারবার বললেও তিনি ফেরত দেননি। এলাকার মানুষের কাছে বললে বলেন নিজেরা মীমাংসা করো। বাধ্য হয়েই গাছে বেঁধেছিলাম।'
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ভুক্তভোগী সাইদুল প্রামানিককে উদ্ধার করি। অভিযুক্ত জামাই দাউদ মন্ডল, তার বাবা মিজান মন্ডল ও ভাই নাজমুল মন্ডলকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে পারিবারিক আর্থিক বিরোধ থাকলেও প্রকাশ্যে কাউকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা ফৌজদারি অপরাধ। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সুমন/মেহেদী/