সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ছাতকের বালুমহালে বিস্তৃত ‘পিয়াইন সিন্ডিকেটের’ চারটি ইঞ্জিনচালিত স্টিলের বালুভর্তি নৌকা যৌথ বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়েছে। চারটি নৌযানের সঙ্গে চারজনকে আটক করে অবৈধ বালু পরিবহনের দায়ে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (২৯ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
ছাতক নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, একটি চক্র সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পিয়াইন ও উৎমাছড়া এলাকার ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির উদ্দেশ্যে ছাতকের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে ভোররাতে চারটি বালুবোঝাই নৌকাসহ চারজনকে আটক করে। নৌকাগুলোতে আনুমানিক দুই হাজার ঘনফুট বালু রয়েছে।
আটকরা হলেন- সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাটিবহর গ্রামের মো. আলামিন (২৬), একই গ্রামের আব্দুল আহাদ (২৯), ছাতকের বারকাহন গ্রামের কওছর উদ্দিন (৪৫) এবং জামালগঞ্জ থানার ফতেহপুর গ্রামের মো. আশরাফ (৩৪)।
পরে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তরিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা আদায় শেষে নৌকাগুলো তাদের প্রকৃত মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং জব্দ করা বালু ছাতক বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সংরক্ষণে রাখা হয়।
ইউএনও তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
একই নৌপথে গত ২০ জুন যৌথ বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়েছিল ‘বোমা মেশিন’সহ বালুভর্তি ৯টি নৌযান। গত ১৮ জুন ‘বোমা মেশিনে বেহাল বালুমহালও’ শিরোনামে খবরের কাগজে একটি বিশেষ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান হয়েছিল। সিলেট ও সুনামগঞ্জের ইজারাবিহীন বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কয়েকটি বালু সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ছাতকে বিস্তৃত সিন্ডিকেটটি ‘পিয়াইন সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত। খবরের কাগজের অনুসন্ধানে প্রকাশ হয় পিয়াইন সিন্ডিকেটের তৎপরতা।
চক্রটি বালুমহাল থেকে বালু পরিবহনের জন্য সিলেটে একাধিক নৌপথ ব্যবহার করে। এর মধ্যে পিয়াইন-ইছাকলস-চেঙ্গেরখাল নৌপথের বেশি ব্যবহার হয়। সেখান থেকে গন্তব্য সুনামগঞ্জের ছাতক। পিয়াইন থেকে ছাতক পর্যন্ত পৌঁছে গেলে প্রতি ঘনফুট বালুর দর তিনগুণ বেড়ে যায়। ২৩ টাকা ঘনফুট দরের বালু হয়ে যায় ৭৭ টাকা। বালুমহাল থেকে পরিবহন এবং বোমা মেশিনসহ যাবতীয় যন্ত্র পরিচালনারও নিয়ন্ত্রক এই পিয়াইন সিন্ডিকেট। আগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন এই সিন্ডিকেটে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সালমান/