চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত হালদা নদীর দু’টি বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বাঁধের ফাটল ও দেবে যাওয়া অংশ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে এবং এই আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে প্রায় ৫০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা, কৃষি জমি, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু হুমকির মুখে পড়বে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভূজপুর সিংহরিয়া কুম্ভারপাড় এলাকার এই বাঁধের কয়েকটি স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু অংশ দেবে গেছে। গত বছরের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবারও ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন ওখানকার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভিডিপি সদস্য জয়নাল আবেদিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত বছর মেরামত হলেও হালদার বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চলাচল করছে, যেকোনো সময় ভেঙে সব তলিয়ে যায়। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
কৃষক জামাল উদ্দিন তার গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘গত বছর বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর পানি বাড়ে আর বাঁধের ফাটলগুলো দেখে বুক ধড়ফড় করে। গত বছর আমার ঘর ও পুরো ফসলি জমি তলিয়ে গিয়েছিল, আবার যদি এমন হয়, আমাদের পথে বসতে হবে।
সোমবার (১৪ জুলাই) ভূজপুর সিংহরিয়া কুম্ভারপাড় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হালদা বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী বাঁধের নাজুক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বাঁধটি খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বর্ষার পানিতে এটি ভেঙে যেতে পারে। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও যোগ করেন, বাঁধটি দ্রুত মেরামত বা শক্তিশালী করার ব্যবস্থা না নিলে ভূজপুরবাসী বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ জানান, আমরা হালদার বাঁধের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি। ভূজপুরের ক্ষতিগ্রস্ত দুই পয়েন্টে জিও ব্যাগ দিয়ে মেরামত করা হবে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বাজেট চেয়ে আবেদন করা হবে। আশা করছি দ্রুতই কাজ শুরু করা যাবে।
অন্যদিকে, ভূজপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।
তবে স্থানীয়রা দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেখতে চান, যাতে প্রতি বছর বর্ষা এলেই তাদের মধ্যে বন্যার আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় এবং এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষিত থাকে।
নাজমুল তারেক/মাহফুজ