ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কচুয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেপ্তার ক্যানভাসে নৃবিজ্ঞান: দৃশ্যপটে বাস্তবতার সমকালীন রূপ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রয়োজন প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি দাসত্বের আদেশনামা, বাজেটে ঠাঁই হয়নি শ্রমিক-কৃষকের: ওয়ার্কার্স পার্টি এজিই তৈরি করবে জেফ বেজোসের এআই স্টার্টআপ গোপালগঞ্জে ১০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন: ১০ ভেন্টিলেটরের ৯টিই নষ্ট! মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ভারতে যাওয়া সেই কিশোরীকে ফেরত রোমানিয়ার নেতৃত্বে নতুন মুখ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত আদ্রিয়ান ভেস্তেয়া ‘নতুন কুঁড়ি’ জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার বাতিঘর: কবীর আহমেদ ভূঁইয়া প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সফল হয়েও অপরাধবোধে ভোগেন? জেনে নিন ১০টি লক্ষণ সীমান্তে বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা, জয়পুরহাটে উত্তেজনা ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে চার শিশুর মৃত্যু কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা গণমাধ্যমকে অন্ধকার থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহিদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিক্ষোভ যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তেহরানে কাতারের প্রতিনিধি দল বন্ধুর ফাঁদে কিশোরী, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন শাকিব, পূর্ণিমার ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’ মানবতার এক ফোঁটা রক্ত জীবন বাঁচায় নতুন রূপে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠ দেশব্যাপী ‘Go For Gold’ রাইডিং ক্যাম্প শুরু করল উত্তরা মোটর্স প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র ধামরাইয়ে সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত যাত্রী ছাউনি, উপকার হচ্ছে না যাত্রীদের উদ্ভাবনের উৎসবের পর্দা নামল মাগুরায়, জাতীয় পর্যায়ে লড়বে বিজয়ী দল বেনজীরকে দ্রুত ফেরাতে সরকার কাজ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ উন্মাদনায়ও রুটিন থাকুন নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামে ২০০ দোকান উচ্ছেদ
Nagad desktop

ফটিকছড়ির হালদা বাঁধ চরম ঝুঁকিতে, বন্যার আশঙ্কায় এলাকাবাসী

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৭:০০ পিএম
ফটিকছড়ির হালদা বাঁধ চরম ঝুঁকিতে, বন্যার আশঙ্কায় এলাকাবাসী
হালদা নদীর দু’টি বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর ৫নং ওয়ার্ডে অবস্থিত হালদা নদীর দু’টি বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বাঁধের ফাটল ও দেবে যাওয়া অংশ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে এবং এই আশঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এতে প্রায় ৫০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা, কৃষি জমি, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু হুমকির মুখে পড়বে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভূজপুর সিংহরিয়া কুম্ভারপাড় এলাকার এই বাঁধের কয়েকটি স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু অংশ দেবে গেছে। গত বছরের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবারও ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন ওখানকার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভিডিপি সদস্য জয়নাল আবেদিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত বছর মেরামত হলেও হালদার বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চলাচল করছে, যেকোনো সময় ভেঙে সব তলিয়ে যায়। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষক জামাল উদ্দিন তার গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘গত বছর বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর পানি বাড়ে আর বাঁধের ফাটলগুলো দেখে বুক ধড়ফড় করে। গত বছর আমার ঘর ও পুরো ফসলি জমি তলিয়ে গিয়েছিল, আবার যদি এমন হয়, আমাদের পথে বসতে হবে।

সোমবার (১৪ জুলাই) ভূজপুর সিংহরিয়া কুম্ভারপাড় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হালদা বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী বাঁধের নাজুক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি বাঁধটি খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বর্ষার পানিতে এটি ভেঙে যেতে পারে। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও যোগ করেন, বাঁধটি দ্রুত মেরামত বা শক্তিশালী করার ব্যবস্থা না নিলে ভূজপুরবাসী বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ জানান, আমরা হালদার বাঁধের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি। ভূজপুরের ক্ষতিগ্রস্ত দুই পয়েন্টে জিও ব্যাগ দিয়ে মেরামত করা হবে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বাজেট চেয়ে আবেদন করা হবে। আশা করছি দ্রুতই কাজ শুরু করা যাবে।

অন্যদিকে, ভূজপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।

তবে স্থানীয়রা দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেখতে চান, যাতে প্রতি বছর বর্ষা এলেই তাদের মধ্যে বন্যার আতঙ্ক সৃষ্টি না হয় এবং এলাকার মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষিত থাকে।

নাজমুল তারেক/মাহফুজ

মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ভারতে যাওয়া সেই কিশোরীকে ফেরত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ভারতে যাওয়া সেই কিশোরীকে ফেরত
জয়নব। ছবি: খবরের কাগজ

মায়ের সঙ্গে অভিমান করে, ভুল করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় জয়নব খাতুন (১২) নামে এক বাংলাদেশি কিশোরীকে আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। দিনভর উত্তেজনা ও আলোচনার পর রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে আটক ওই কিশোরীকে ফেরত দেওয়া হয়। 

জয়নব খাতুন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঘগয়ারপাড় এলাকার জামাল উদ্দিন ও নাজমা বেগমের মেয়ে।

সীমান্তবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঘগয়ারপাড় এলাকার ওই কিশোরী জয়নব খাতুন মায়ের বকুনিতে অভিমান করে পাশের বাড়ির কথা বলে বাড়ি থেকে প্রায় দেড়-দুই কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী দক্ষিণ অনন্তপুর নাজিরহাট সীমান্ত এলাকায় চলে যায়।

সেখানে ভুলবশত আন্তর্জাতিক পিলার ৯৪৩/৩-এর কাছে দিয়ে সে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এ সময় টহলরত ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা তাকে দেখতে পেয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে কাশিপুর বিওপির সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেয়ে তাকে আবার ভারতের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দিনব্যাপী উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে ভারতের ১৩৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীন ধাপরাহাট বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ভারতের শুকারেরকুটি সীমান্ত থেকে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিএসএফ বিষয়টি বিজিবিকে জানায়। এরপর বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর রাত ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক পিলার ৯৪৩/৩ এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ফেরত দেওয়া হয়।

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক জানান, বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে কিশোরী জয়নবকে রাতে ফেরত দেওয়া হয়। সে বর্তমানে তার পরিবারের জিম্মায় রয়েছে এবং সে বাংলাদেশের নাগরিক।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি অধীন কাশিপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইব্রাহীম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটক কিশোরীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

সিরাজ/রিফাত/

‘নতুন কুঁড়ি’ জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার বাতিঘর: কবীর আহমেদ ভূঁইয়া

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
‘নতুন কুঁড়ি’ জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার বাতিঘর: কবীর আহমেদ ভূঁইয়া
ছবি: খবরের কাগজ

‘নতুন কুঁড়ি’ জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার বাতিঘর বলে মন্তব্য করেছেন ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য আলহাজ কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আন্তঃস্কুল বালিকা ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটবল প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হওয়া আখাউড়ার হীরাপুর শহিদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। 

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি’ জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখায় এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগায়।’

কবীর আহমেদ ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘হীরাপুর শহিদ নোয়াব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জেলা পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করে বিদ্যালয় ও এলাকার জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং একইসঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামের শিক্ষার্থীরা মেধা ও পরিশ্রমে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। যথাযথ সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।’

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাসুম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী জয়নাল আবেদীন আব্দু, সাধারণ সম্পাদক ডা. খোরশেদ আলম ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আখতার খানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে চ্যাম্পিয়ন বালিকা ক্রিকেট দলের কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

জুটন বনিক/রিফাত/

সীমান্তে বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা, জয়পুরহাটে উত্তেজনা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
সীমান্তে বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা, জয়পুরহাটে উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তে এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় এতে বাধা দেয়।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাটখোলা বিজিবির নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমান। এর আগে দুপুরের আগে হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

‎জানা গেছে, পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তের শূন্যরেখার একটি ডোবার পাশে ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে বসিয়ে রাখা বিএসএফ। এসময় বিষয়টি
জানতে পেরে ডোবার এপারে অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা। অপর পাশে ছিলেন বিএসএফ সদস্যরা। বিকেল পর্যন্ত ওই বৃদ্ধকে সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রেখেছে বিএসএফ। এ সময় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।

‎স্থানীয়দের জানায়, সীমান্তসংলগ্ন মাঠে কয়েকজন কৃষক কাজ করছিলেন। এ সময় ওই বৃদ্ধ তাদের কাছে এসে খাবার ও পানি চান। তিনি নিজেকে ভারতের নাগরিক পরিচয় দিয়ে জানান, ভোরের দিকে বিএসএফ তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। পরে কৃষকেরা বিষয়টি হাটখোলা বিজিবি ক্যাম্পে জানান।

বিজিবির নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমান জানান, বিএসএফ এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশ পুশইন করেছিল। আমরা খবর পেয়ে তাকে পুশব্যাক করেছি। তিনি ভারতের নাগরিক।
তারা আরও কয়েকজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে।

সাগর কুমার/এসএন

কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে দফায় দফায় দুই শিশুসহ নয়জন নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। কাঁটাতারের বেড়া থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় নিয়ে এলে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও এলাকাবাসী তা প্রতিহত করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফের দিকে ধাওয়া করে। পরে ওই নয়জন নাগরিক শূন্যরেখায় অবস্থান করেন।

এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে পুশইনের শিকার নাগরিকরা সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রৌমারীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা করে আসছে বিএসএফ। তবে দিনরাত স্থানীয় লোকজন ও বিজিবির পাহারার কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রবিবার (১৪ জুন) ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে একজন নারী, তিনজন পুরুষ ও দুই শিশুসহ মোট ছয়জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রথমে বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্থানীয় জনতা ও বিজিবি মিলে সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেয়।

এ ছাড়া একই সময়ে উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৫ নম্বর পিলার এলাকা দিয়েও আরও তিনজন নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানেও সীমান্তরেখায় তাদের আটকে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার দুপুরে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীনস্থ দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের বিএসএফের ঝালোরচর ক্যাম্পের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার। দীর্ঘ আলোচনা শেষে পুশইন করা নাগরিকদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। বিজিবি ও বিএসএফের অনড় অবস্থানের কারণে ওই নাগরিকরা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা (নো-ম্যানস ল্যান্ড) এলাকায় অবস্থান করছেন।

শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিএসএফ অবৈধভাবে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ছয়জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। বিজিবি ও স্থানীয় জনতা মিলে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। বিজিবি পতাকা বৈঠকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।’

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিওপির সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোররাতে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে তারা এখন পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় দেড়শ গজের মধ্যে অবস্থান করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পুশইন ঠেকাতে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী সীমান্তে কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিএসএফকে আমরা বলে দিয়েছি, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

সিরাজ/রিফাত/

বন্ধুর ফাঁদে কিশোরী, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
বন্ধুর ফাঁদে কিশোরী, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
অভিযুক্ত তিন ধর্ষক। ছবি: খবরের কাগজ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কালিতলা বাজারে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী ও ভুক্তভোগীর কথিত বন্ধুসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- কালিতলা বাজার এলাকার আনারুলের ছেলে তামিম ইসলাম (২২), মিন্টুর ছেলে রনি (২১) এবং রহমান মাজেদুরের ছেলে মাসুদ (২২)। বর্তমানে ওই কিশোরী ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলীর নির্দেশনায় একটি বিশেষ টহল দল কালিতলা বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে মামলার দ্বিতীয় আসামি রনির বাবা মিন্টুর পরিত্যক্ত গোডাউন ঘরের সামনে একটি মোটরসাইকেলের সন্দেহজনক চলাচল পুলিশের নজরে আসে। মোটরসাইকেলটি দ্রুত ওই গোডাউন থেকে বের হয়ে আবার সেখানে ফিরে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ দল ওই গোডাউন ঘরে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ভিকটিম কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত তিন আসামিকে পালানোর সময় ধাওয়া করে আটক করে পুলিশ। পরে দ্রুত কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পারিবার ও চিকিৎসাধীন কিশোরীর বর্ণনা অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে সে তার এক বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরবর্তীতে রাত গভীর হলে সে ফোনে পরিবারকে জানায় যে, অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় সে ওই বান্ধবীর বাসাতেই থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে  সপ্তাহখানেক আগে সেই বান্ধবীর মাধ্যমেই ১ নম্বর অভিযুক্ত তামিমের সাথে কিশোরীটির পরিচয় হয়েছিল। সেই সুবাদে তামিম তাকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে কৌশলে তাকে কালিতলা বাজারের ওই নির্জন গোডাউন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এবং সেখানে তামিম তার অন্য দুই বন্ধু রনি ও মাসুদকে ডেকে এনে তিনজন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। 

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বেডে শুয়ে  থাকা মেয়ের অবস্থা দেখে হাসপাতালের করিডোরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা।

হাসপাতালের বাইরে অশ্রুসিক্ত চোখে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বলেন, আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। মেয়েটা বান্ধবীর জন্মদিনের কথা বলে গেল, আর সকালে খবর পাইলাম আমার কলিজার টুকরা হাসপাতালে। পশুরা আমার মেয়ের জীবনটা শেষ করে দিল। আমি পুলিশ প্রশাসন ও মাননীয় আদালতের কাছে হাত জোড় করে আকুতি জানাচ্ছি, আমার মেয়ের ওপর যারা এই বর্বর অত্যাচার চালিয়েছে, তাদের যেন ফাঁসি দেওয়া হয়। 

মেয়ের শিয়রে বসে বিলাপ করতে করতে মা বলেন, তামিম নামের ওই ছেলেটা আমার সরল মেয়েটাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। আমার মেয়ে তো কোনো অপরাধ করেনি, তবে কেন তার সাথে এমন পৈশাচিক আচরণ করা হলো? আমি এই নরপশুদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠিন শাস্তি চাই। 

কালিতলা বাজার ও জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কালিতলা বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, মিন্টুর এই গোডাউন ঘরটি রাতের বেলা প্রায়ই ফাঁকা থাকে। লম্পটরা এই সুযোগটাই নিয়েছে।

আমাদের এলাকায় এমন জঘন্য ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। এই ঘটনার পর আমরা আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ছালমা বেগম বলেন, বন্ধুত্বের নামে ডেকে এনে এভাবে একটা বাচ্চার জীবন ধ্বংস করে দেওয়া মেনে নেয়া যায়না। দ্রুত তাদের শাস্তি না দিলে আমরা এলাকাবাসী রাজপথে নামতে বাধ্য হব।

এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, আমাদের টহল পুলিশের তৎপরতার কারণেই মেয়েটিকে  উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।  আমরা ঘটনাস্থল থেকেই মূল তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নবীন হাসান/এসএন