সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুর্গাপুর। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেড় বছর আগে উপজেলার চরমোনহারপুর বাজার থেকে স্থানীয় দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির কাজ এতদিনেও শেষ হয়নি।
এলাকাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করছেন। ইট, রড ও সিমেন্টের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে গাইডওয়াল বানানো হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। এই রাস্তাটির স্থায়িত্ব নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এলজিইডি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটির জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে কাজটি পায় নূর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রাস্তার কাজ শুরু হয়। সময় নির্ধারণ ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু উল্লেখিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ শেষ করতে পারেনি। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঠিকাদারও পালিয়ে যান। পরে ওই কাজের দায়িত্ব নেন রেজাউল করিম লিটন নামে আরেক ঠিকাদার।
কাজের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হয়নি। উল্টো নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাস্তার মেকাডাম ও সাব-বেজের কাজে নিম্নমানের খোয়া ও পোড়া মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি, প্রাইম কোডের জন্য ব্যবহৃত তেল বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে। এতে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল গফুর বলেন, ‘চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি যেভাবে মজবুত করে করার কথা ছিল ঠিকাদার তেমনটি করছে না। নিম্নমানের ইট ও খোয়া দিয়ে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে।’
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘খুবই নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ চলছে। এগুলোকে খোয়া না বলে বরং পোড়া মাটি বললে ভালো হবে। হাত দিয়ে চাপ দিলেই এগুলো ভেঙে যায়। প্রাইম কোড হিসেবে যে তেল ব্যবহার করেছে তা বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে। সড়কটি টেকসই হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
চরমোনহারপুর গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, ‘গাইডওয়াল ঢালাইয়ের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই গাইডওয়াল কয়েক দিন পরেই ভেঙে যাবে। আর রাস্তা যদি ভেঙে যায় তাহলে তো আমরা আর চলাচল করতে পারব না। আমাদেরই সমস্যায় পড়তে হবে।’
আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নামে শাহজাদপুর উপজেলার এক বাসিন্দা দাবি করেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসেই ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছেন। এগুলো দেখার যেন কেউই নেই।’
তবে ঠিকাদার রেজাউল করিম লিটন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, ‘কাজ তো এখনো শেষ হয়নি। কাজ চলমান রয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘সড়কের কাজ কখনো শতভাগ সঠিক হয় না।’
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সার্ভেয়ার লতিফুর রহমান বলেন, ‘কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজের মানের ভিত্তিতে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হবে। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। সড়কের কাজ আমি নিজেই তদারকি করছি।’
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী এ এইচ এম কামরুল হাসান রনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি জানতাম না। আপনার কাছ থেকে শুনলাম। এখন আমি নিজে গিয়ে দেখে শতভাগ কাজ করিয়ে নেব।’