ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইংল্যান্ড ফেবারিট না হলেও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে: টুখেল যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়ায় বাড়ল তেলের দাম লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত! হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের আজকের মুদ্রার বাজার: ১০ জুন, ২০২৬ বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ? আবারও কমল সোনার দাম, নতুন দর কত? ক্লিন ইমেজের আলী রেজাও দুদকের জালে দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে এসে আত্মহত্যা প্রেমিকার শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম আর্জেন্টিনার উত্তাপে গলে গেল আইসল্যান্ড ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্তে মাছ ধরায় ১৯ রোহিঙ্গা আটক বাড়ছে না বিড়ির দাম সারাদেশে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নেবে বিসিসিসিআই ইসলামী ব্যাংকের সিআরআরে বড় ধরনের ঘাটতি আক্কেলপুরে একদিনে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য কক্সবাজারে মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬ রাজশাহীতে বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত বিদেশি কোচদের চোখে নতুন ইতিহাস ল্যাবএইডে ডেঙ্গুবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত আবেগের বিয়েতে ঝুঁকিতে পড়ছে মেয়েরা শখ থেকে স্বাবলম্বী গৃহবধূ, ঘরের ছাদ যেন ক্যাকটাস রাজ্য ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: লেবাননে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত
Nagad desktop

সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে: জুলাই শহিদ রাকিবের বাবা

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫, ১০:২২ এএম
আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৯ এএম
সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে: জুলাই শহিদ রাকিবের বাবা
বরিশালের বানারীপাড়ার সদর ইউনিয়নের জম্বুদিপ গ্রামে জুলাইশহিদ রাকিব বেপারির কবর। ইনসেটে রাকিব বেপারি। ছবি: খবরের কাগজ

‘বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। আমি দিনমজুরের কাজ করি, যা আয় হয় তাতে সংসার চলে না। বড় ভাইয়ের ঘরে বসবাস করি। রাকিবই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা। তার স্বপ্ন ছিল আমাদের জন্য গ্রামে সুন্দর একটি ঘর বানানো। তবে পুলিশের গুলিতে রাকিব নিহত হওয়ার পর সব তছনছ হয়ে গেছে।’ বুকে চাপা আর্তনাদ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ রাকিব বেপারির বাবা মো. মোশারেফ বেপারি।

গত বছরের ২১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রাকিব। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জম্বুদিপ গ্রামে। 

নারায়ণগঞ্জে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি। বাবা মোশারেফ বেপারি, মা রাশিদা বেগম এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় ভাই শাকিল বেপারিকে নিয়ে থাকতেন ফতুল্লায়। তিনি ফতুল্লা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

রাকিবের গ্রামের বাড়ির প্রবেশপথে একটি গাছের সঙ্গে লাগানো সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। এতে লেখা ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ মো. রাকিব বেপারি। জন্ম ১৩-১০-২০০৬, মৃত্যু ২১-০৭-২০২৪।’ 

সাইনবোর্ডযুক্ত গাছটির পেছনের থাকা খালের ওপারে রাকিব বেপারির কবর। এর খানিকটা সামনেই তাদের বাড়ি। বাড়িতে রাকিবের বাবার একখণ্ড জমি থাকলেও নেই বসতঘর। তাই বর্তমানে শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাই শাকিল, বাবা মোশারেফ বেপারি ও মা রাশিদা বেগম রাকিবের চাচা নুরুল হক বেপারির ঘরে আশ্রয়ে আছেন। 

রাকিবের চাচা নুরুল হক বেপারি বলেন, খুব ছোট বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব রাকিব তার কাঁধে নিয়েছিল। তার মৃত্যুর পর পরিবারটির আর্থিক দুরবস্থা আরও বেড়েছে। সরকারি সহায়তা পেলেও তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নিজেদের ঘর নেই। তাই আমার ঘরে থাকে। রাকিবের ইচ্ছে ছিল এই জমিতে ঘর নির্মাণ করা । কিন্তু সেটা আর হলো না। রাকিবের বাবা ও ভাই দুজনের কারোরই কাজ করার সামর্থ্য নাই। আমরা সাধ্যমতো তাদের সহযোগিতা করছি। জুলাই ফাউন্ডেশনসহ যেসব জায়গা থেকে সাহায্য পেয়েছেন, তা পুরোপুরি ব্যয় হয়েছে জমি ভরাটে। ফলে বর্তমানে আর্থিক সংকটে ঘর নির্মাণ আটকে আছে। সরকার যদি তাদের একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়, তা হলে থাকার মতো একটা ব্যবস্থা হবে।’ 

রাকিবের বড় ভাই শাকিল বেপারি বলেন, ‘আম্মু রাগ করবে ভেবে রাকিব কাজে যাওয়ার কথা বলে আন্দোলনে যেত। যা আমরা জানতাম না। ওর বন্ধুরা জানলেও আমাদের জানাত না। ঘটনার দিন ২১ জুলাই রাকিবের বন্ধুরা জানায়, ওর শরীরে গুলি লেগেছে। খবর শুনে আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে রাকিবকে উদ্ধারে যাই। ততক্ষণে ওর বন্ধুরা রাকিবকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে রাকিব মারা যায়।’ 

শাকিল বেপারি আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে রাকিবের লাশ ছাড়িয়ে আনতেও অনেক কষ্ট হয়। তার পর আমরা যেখানে ভাড়া থাকতাম, সেই ফতুল্লায় লাশ নিয়ে যাই। আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীকে লাশ দেখাতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। তাদের জন্য লাশ নামাতে পারিনি, এমনকি দাফনও করতে দেওয়া হয়নি। ছাত্র আন্দোলনে যাওয়াটাই ওর দোষ ছিল। পরে গ্রামে নিয়ে এসে ২২ জুলাই দাফন করি। 

বাবার বয়স হয়ে গেছে। কাজ করতে পারেন না। আমি নিজেও সব কাজ করতে পারি না। মা অসুস্থ। আমার ভাই শহিদ হয়েছে, আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। এসব বিবেচনায় সরকার আমাদের একটু সাহায্য করুক। আমাদের একটা ঘর নির্মাণ করে দিলে ভালো হয়। রাকিব হত্যার ঘটনায় বাবা ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেছেন। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই। শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই।’ 

লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত!

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১১:২৫ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত!
ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত। ছবি: খবরের কাগজ
ময়মনসিংহে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে গিয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়েছে।
 
বুধবার (১০ জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন।
 
তিনি বলেন, লাইনচ্যুত হওয়া যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি বগি উদ্ধার করতে নগরীর কেওয়াটখালী থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রিলিফ ট্রেন রেলওয়ে স্টেশন এলাকার কাছাকাছি পর্যন্ত আসতেই লাইনচ্যুত হয়। এখন লাইনচ্যুত যাত্রীবাহী ট্রেনটি উদ্ধারের পরিবর্তে ইঞ্জিন কেটে লাইনচ্যুত হওয়া রিলিফ ট্রেন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
 
এর আগে সকালে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর কলেজ রোড এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এ সময় থেকেই জামালপুর-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
 
কামরুজ্জামান মিন্টু,/আজহার

বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১১:১০ এএম
বগি লাইনচ্যুত, জামালপুর- ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগি। ছবি:খবরের কাগজ
ময়মনসিংহে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে জামালপুর-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
 
বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোড এলাকায় রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।
 
বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, সকালে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজরোড এলাকায় রেলক্রসিং পর্যন্ত আসতেই ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় থেকেই জামালপুর-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
 
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছেছেন। উদ্ধারকারী ট্রেন দিয়ে বগি টেনে ময়মনসিংহ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। লাইনচ্যুত বগি রেললাইনে সংযুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
 
কামরুজ্জামান মিন্টু/আজহার

ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
ভারতে সাজাভোগের পর তামাবিল দিয়ে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের তামাবিলে দেশে ফেরা বাংলাদেশি। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সাজাভোগ শেষে সাত বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর উপস্থিতিতে তাদেরকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা সাত বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন সময় সিলেটের গোয়াইনঘাটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির পুলিশ তাদের আটক করলে, আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং ডিস্ট্রিক্ট কারাগারে দীর্ঘমেয়াদে সাজাভোগ শেষে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। 

তারা হলেন, সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার নইগাঙের মো. মুহিবুর রহমান ও আব্দুল কুদ্দুছ, টুকের বাজারের মানিক আহমেদ, চানপুরের মো. সুহেল আহমেদ, বনগাঁওয়ের মো. আল আমিন, শাল্লা উপজেলার শ্রীহাই গ্রামের আব্দুল হাই-এর ছেলে বাদশাহ মিয়া ও সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সংগ্রামপুঞ্জির রেস্টলি ব্লাহ।

হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বজলুর রশিদ খবরের কাগজকে জানান, বিজিবি- বিএসএফ ও উভয় দেশের পুলিশের উপস্থিতিতে সাত বাংলাদেশিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদেরকে নিজ নিজ আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

উজ্জ্বল মেহেদি/থিও

বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৪০ এএম
বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল শিশু
মেঘনা নদীতে নিখোঁজ শিশু তামিমকে উদ্ধারে নদীতে টহল দিচ্ছেন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাবাকে দুপুরের খাবার দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে তলিয়ে গেছে তামিম নামে এক শিশু।

খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিস ও পরে কোস্টগার্ডের দুটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশে মেঘনা নদীতে এই ঘটনা ঘটে। 

নিখোঁজ তামিম ওই গ্রামের জেলে শাহাদাত হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান শাহাদাত হোসেন। দুপুরের দিকে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় ছোট্ট তামিম। খাবার খাওয়ার পর শাহাদাত হোসেন নদীর পাড়ে উঠে চা পান করছিলেন। এ সময় শিশুটি তার সমবয়সী এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে নদীর তীরে খেলাধুলা করছিল।

একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে নদীতে পড়ে যায়। সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই ঘটনাটি দেখে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মন্নান রানা খবরের কাগজকে বলেন, একটা শিশু নদীতে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাকে উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফায়ার সার্ভিস এসে জানায়, তাদের ডুবুরি দল নেই। পরে কোস্টগার্ডও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানায়, সকালে ডুবুরি দল এলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

একমাত্র সন্তানকে হারানোর শঙ্কায় পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছেন মা-বাবা। তাদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্বজনদের চোখেমুখে এখন শুধুই উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  রাসেল ইকবাল খবরের কাগজকে বলেন, হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের কোনো ডুবুরি নেই। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকালে ভোলা থেকে ডুবুরি এনে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু করবে কোস্টগার্ড।

হানিফ উদ্দিন/আজহার/

গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত গাছ উপড়ে পড়েছে, মহাসড়কে তীব্র যানজট
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আকস্মিক ঝড়ে ভেঙে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর গাছ ভেঙে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এ দিকে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় বন্ধ রয়েছে সমগ্র উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল পৌনে চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো করে তীব্র বাতাসের সঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়।

এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা তীব্র বজ্রপাতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ঝড়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উপড়ে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ। শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশেই প্রায় ৩০টির মতো গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

এসব গাছের অধিকাংশই বিদ্যুৎ লাইনের উপর ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সমগ্র উপজেলা। মহাসড়কের দুই পাশে গাছ ভেঙে পড়ায় গজারিয়া অংশের ১৩ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

​স্থানীয় বাসিন্দা লতিফ ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, আমার জীবনে আমি এমন বজ্রপাত দেখিনি। টানা এক ঘণ্টা বজ্রপাত হয়েছে। বজ্রপাতের তীব্র শব্দে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কোথাও রাস্তা, কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটির উপর গাছ ভেঙে পড়েছে। ফলে বিকেল পৌনে চারটা থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছি আমরা।

গজারিয়া ​ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ কামাল আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, আকস্মিক ঝড়ে মহাসড়কের গজারিয়া অংশে অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে হাইওয়ে পুলিশ। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকাগামী লেনে যান চলাচল শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামগামী লেন থেকে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণের কাজ করছি আমরা। আশাকরি দ্রুত চট্টগ্রামগামী লেনেও যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

​বিষয়টি সম্পর্কে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর গজারিয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আশরাফুল আলম বলেন, 'বৈদ্যুতিক তারের ওপর অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমাদের কর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যতদ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করছি'।

সুমন/থিও