ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাবুল একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের তারাটি গ্রামের মো. শরীফ মিয়াকে (২২) ধর্ষক হিসেবে উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন।
প্রত্যয়নপত্রে ইউপি চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন, ‘মো. শরীফ মিয়া. পিতা. বারেক মিয়া, আমার জানামতে তিনি ইতোপূর্বে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করতে না পেরে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। তিনি একজন দুষ্কৃতকারী এবং দুশ্চরিত্রের। তা ছাড়া কিছুদিন আগে তিনি চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি সামাজিক বা আইনের কোনো তোয়াক্কা করেন না। আমি তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি'।
শরিফ মিয়াকে ‘ধর্ষক’ হিসেবে গত সপ্তাহে চেয়ারম্যান প্রত্যয়নপত্র দিলেও রবিবার (৩ আগস্ট) রাতে সবাই জানতে পারার পর থেকেই প্রত্যয়নপত্রটি ভাইরাল হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন একই এলাকার এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন শরীফ। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় শরীফকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে শরীফকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ।
স্থানীয় ইদ্রিস আলী নামে একজন বলেন, 'যে কেউ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে প্রত্যয়নপত্র চাইলেই তা পেয়ে যান। এতে লেখা থাকে, প্রত্যয়ন প্রদানকারী চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রত্যয়নপত্র গ্রহণকারীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তিনি সমাজ বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত নন। তিনি প্রত্যয়নপত্র গ্রহণকারীর সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন। এতে খুশি হন প্রত্যয়নপত্র গ্রহণকারী। চিন্তিত অপরাধী প্রত্যয়নপত্র চাইলে তাকেও দেওয়া হয়। আমরা এত বছর ধরে এমনটিই দেখে আসছি। কিন্তু এবার দেখলাম, ধর্ষককে ধর্ষক হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এতে চেয়ারম্যান প্রশংসার দাবিদার।'
এ বিষয়ে মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাবুল বলেন, 'খারাপ মানুষকে ভালো লিখে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ঠিক না। খারাপ কাজে জড়িত মানুষকে ভালো লিখে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণা। শরীফ ধর্ষণ করেছে। তাই তাকে উপযুক্ত প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে।'
মিন্টু/মেহেদী/