সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পর্যটন স্পট থেকে সাদাপাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনের কেউ জড়িত প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার রেজা উন নবী।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সাদাপাথর লুটের ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তর তদন্ত করছে। সবার তদন্তই সমন্বয় করা হবে। সময় হলেই অপরাধীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পাথর ও পর্যটন রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে কি না এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'পাথর রক্ষাসহ সীমান্ত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সিলেট সেক্টরে নতুন একটি বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগামীতে যেন পাথর লুট না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন সংরক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতেও চলবে।'
গত ৮ জুলাই পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য পাথর লুটপাটকারীদের উৎসাহ দিয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'আমি সেখানে বলেছিলাম যে সারা দেশের পাথর কোয়ারির মতো সিলেটের কোয়ারীও খুলে দেওয়া যায় কি না সে বিষয়টি গবেষণা করা যেতে পারে। কিন্তু আমার এ বক্তব্য কেউ টুইস্ট করলে তা আমার দায় না।'
তবে এখন তার বক্তব্য টুইস্ট করার কথা বললেও ৮ জুলাই পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের বৈঠকে তার দেওয়া বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল। ওই বক্তব্যের পরই 'পাথরখেকো' চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যার প্রেক্ষিতে জুলাইয়ের শেষের দিকে সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্রের মূল অংশের দৃশ্যমান বেশিরভাগ পাথর লুট করা হয়।
তখন সিলেটের পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের ওই বক্তব্যকে পাথরখেকোচক্র পাথর তোলার লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং প্রকাশ্যে এই পাথর লুটপাট বন্ধে কোনো উদ্যোগ না নেওয়াকে তারা প্রশাসনের সম্মতি হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
নাঈম/