মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের কমলাপুর দারুল উলুম ইসলামি মাদরাসায় হুজুরের (শিক্ষক) খাবার আনতে দেরি হওয়ায় ১২ বছরের এক শিক্ষার্থীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে অপর দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে।
গত বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী মো. জুনায়েদ (১২) মাগুরা শহরের আদর্শ কলেজপাড়ার রিকশাচালক সুজন পাটোয়ারির ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায় সে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, চারবছর আগে সুজন পাটোয়ারি তার ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানাতে ওই মাদরাসায় ভর্তি করান। এরই মধ্যে জুনায়েদ কোরআনের ১২ পারা মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ছোটখাটো কারণে তাকে প্রায়ই মাদরাসা সুপার মাওলানা আবু সাঈদের নির্যাতনের শিকার হতে হতো। ভয়ে এতদিন পরিবারকে কিছু জানায়নি জুনায়েদ।
জুনায়েদ জানায়, বুধবার রাতে হুজুরের নির্দেশে খাবার আনতে স্থানীয় আতিয়ার রহমানের বাড়িতে গেলে ডিম ভাজার কারণে কিছুটা দেরি হয়। এর পরও আধাঘণ্টার মধ্যেই খাবার নিয়ে ফেরে সে। খাবার নিয়ে ফিরিয়ে আনার পর মাদরাসার দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিদ ও সিজান তার হাত বেঁধে মুখে বালিশ চাপা দেয় এবং পায়জামা খুলে স্টিলের খুন্তি আগুনে পুড়িয়ে পশ্চাৎদেশে ছ্যাকা দেয়। এতে গুরুতরভাবে ঝলসে যায় তার শরীর। কাউকে জানালে আবারও মারধর করার হুমকিও দেয় তারা।
জুনায়েদের বাবা সুজন পাটোয়ারি বলেন, 'আমার ছেলেকে এর আগেও সুপার আবু সাঈদ বিভিন্ন সময়ে মারধর করেছেন। তার প্রশ্রয়েই ছেলেকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। কোনো বাবাই এমন নির্যাতন সহ্য করতে পারে না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।'
অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসার সুপার মাওলানা আবু সাঈদ বলেন, 'আমি রাতে মাদরাসায় তালা মেরে বাড়ি চলে যাওয়ার পর ঘটনাটি ঘটে। আজ দুপুরে জুনায়েদকে মাদরাসায় না পেয়ে তার পরিবারকে খবর দিলে তারা জানান এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমি ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে জানাই।
এ বিষয়ে নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুকুল হোসেন বলেন, শিশুটির বাবার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শ্রাবণ/মেহেদী/