টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে পাচার চক্রের কবল থেকে নারী-শিশুসহ ৬৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। প্রায় ৭ ঘণ্টার যৌথ অভিযানে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে অংশ নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সোয়াট টিমও।
অভিযানে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করা না গেলেও তাদের আস্তানা ও নাম-পরিচয় নিশ্চিত শনাক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই আস্তানাটি চিহ্নিত পাচারকারী জসিমের বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সেখানে অভিযান চলে। উদ্ধারদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি ও ৫৮ জন রোহিঙ্গা। এর মধ্যে মধ্যে পুরুষ ২২ জন, নারী ২৩ জন ও শিশু ২১ জন।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা নাগরিক। যাদের মালয়েশিয়া ও মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়েছিল। রোহিঙ্গারা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সাগর পথে ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। মায়ানমার ও মালয়েশিয়ায় থাকা আত্মীয়-স্বজনের ভরসায় তারা দালালদের কাছে নিজেদের সঁপে দেয়।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিম নুরুল আমিন জানান, তিনি টেকনাফের বাহারছড়ায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে শাপলাপুর বাজার থেকে তাকে অপহরণ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে পাহাড়ের ওই গহিন আস্তানায় আটকে রাখা হয়। মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
নুরুল আমিনের মতো আরও সাত বাংলাদেশি কাজের প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে পাহাড়ে কয়েক সপ্তাহ আটকা ছিল। তারা জানায়, অপহরণকারীরা টাকার বিনিময়ে তাদের ছাড়তে রাজি হয়নি। তাদের মালয়েশিয়া পাচারের জন্য মায়ানমারে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল।
থ্যাইংখালী ক্যাম্প-১৯-এর বাসিন্দা জুনাইদ জানান, টেকনাফ সদর মহেশখালীয়া পাড়ায় দিনমজুরের কাজের কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে অপহরণকারীদের আস্তানায় পৌঁছে দেয়। সেখানে তাকে পাহাড়ে আটকে রেখে জোর করে কাজ করানো হতো। শারীরিক নির্যাতন করা হয়। অপহরণকারীরা প্রাথমিকভাবে টাকা দাবি না করলেও জোর করে মালয়েশিয়া পাঠানোর হুমকি দেয়।
কোস্টগার্ডের টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সালাহ উদ্দীন রশিদ তানভীর জানান, বাহারছড়া কচ্ছপিয়ার গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত নারী-পুরুষ, শিশুসহ মোট ৬৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও মায়ানমারে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাহাড়ি এলাকা ও পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়া পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২ বিজিবি) ৫ ঘণ্টা সাঁড়াশি অভিযানে মানব পাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করে। এ সময় ১১ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।