‘বিছনাকান্দি বিওপি-সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)’ সাইনবোর্ড। পেছনে অস্ত্র তাক করা অভিযানিক সদস্যরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাদের ঠিক পেছনে সারি করে ডাঙায় তুলে রাখা চারটি ‘বারকি নাও’। এরমধ্যে দুটোর সম্মুখ ও পেছন দিক ভাঙা। আরেকটির মধ্যবর্তী অংশ ভেঙে পড়েছে। চতুর্থটিরও একই অবস্থা। অধিকাংশ ভাঙা ও উপড়ানো।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (৪৮ বিজিবি) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চোরাচালানবিরোধী অভিযানের ছবিতে দেখা গেছে এ চিত্র। চোরাচালানির দায়ে ডাঙায় রাখা ভাঙা বারকি নাওয়ের এ ছবি দেখে প্রশ্ন উঠেছে, ডাঙায় রাখা ভাঙা বারকি নাও কী করে চোরাচালানে ব্যবহার হয়?
তবে এমন প্রশ্নের উদ্রেকে এ বিষয়ে বিজিবির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করলে বিজিবির বিছনাকান্দি বিওপি থেকে ডাঙায় থাকা ভাঙা বারকি নাও জব্দ করার বিষয়টি অবশ্য খবরের কাগজকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবারের বর্ষার শুরু থেকে বিজিবির চোরাচালানবিরোধী চলমান অভিযানে প্রায়ই চোরাইপণ্যের সঙ্গে জব্দ করা হচ্ছে বারকি নাও। লম্বা আকৃতির যন্ত্রবিহীন হাতে বাওয়া ‘বারকি নাও’ প্রায় আড়াই শ বছরের পুরোনো। চলাচল করে কেবল সিলেট অঞ্চলে। বালু ও পাথরমহালে এটি বেশি ব্যবহার হয়। পাথরমহাল বন্ধ থাকায় একশ্রেণির চোরাকারবারি সাধারণ শ্রমজীবিকার এ বাহনটি জলপথে ভারতীয় চোরাইপণ্য বহনে ব্যবহার করায় বারকিও জব্দ তালিকায় উঠেছে।
স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, সতের শতকের শেষভাগে জলপথে চুনাপাথর পরিবহনে জন বারকি নামের এক ব্রিটিশ নৌ কারিগর তার উদ্ভাবনী চিন্তা থেকে নৌকাটি প্রথমে তৈরি করেন এবং তার হাতেই জলপথে চলাচলের প্রচলন ঘটে। সে কারণে নৌকাটির উদ্ভাবকের নামে প্রচলিত হয়।
৪৮ বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে, বিছনাকান্দিতে ডাঙায় রাখা ভাঙা বারকি ছাড়াও কোম্পানীগঞ্জের কালাসাদেক বিওপি সাতটি নৌকা জব্দ করেছে। এরমধ্যে চারটি বারকি নাও রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সীমান্তবর্তী এলাকার প্রতাপপুর, বিছনাকান্দি, ডিবিরহাওর, সোনারহাট, কালাসাদেক এবং কালাইরাগ বিওপি কর্তৃক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় গরু, টিশার্ট, ট্রাউজার, পেঁয়াজ, টমেটো, পান, বিড়ি ও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী নৌকা (বারকি নাও) জব্দ করে।
এ ছাড়াও সিলেট জেলার নাইওরপুল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিপুল পরিমান ভারতীয় শাড়ি, কম্বল, ক্রিম, বডি লোশন জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক দাম এক কোটি টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৪৮ বিজিবির অধিনায়কের বরাত দিয়ে বলা হয়, ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমানে এ সকল চোরাচালানী মালামাল জব্দ করা হয়।
অমিয়/