রামগড় সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের আঞ্চলিক সড়কটি এখন যেন ধানক্ষেত। পাকা রাস্তায় ধানের চারা—এ দৃশ্য যে কেবল বিস্ময়কর তাই নয়, বেদনাদায়কও বটে। বহুদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তায় জমে থাকা পানি আর কর্দমাক্ত গর্তে প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ধানের চারা রোপণ করেন এলাকাবাসী ও পরিবহনশ্রমিকরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এলাকাবাসী ও পরিবহনশ্রমিকরা এভাবেই তাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
সেদিন সকাল থেকে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান তারা। পরে কর্দমাক্ত রাস্তার ওপর ধানের চারা রোপণ করেন। বিক্ষুব্ধদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রামগড় পৌর বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. মহিউদ্দিন হারুন।
দীর্ঘদিন ধরে রামগড়ের মহামুনি স্থলবন্দর থেকে সোনাইপুল হয়ে পুরান রামগড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের চিত্র একেবারেই শোচনীয়। কোথাও গভীর গর্ত, কোথাও আবার উঠে গেছে ইটের খোয়া। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি জলাশয়ে পরিণত হয়। এর মধ্য দিয়েই চলছে আন্তজেলা বাস, ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা, টমটম এবং মোটরসাইকেলসহ অসংখ্য যানবাহন।
টমটমচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিনই গাড়ি নষ্ট হয়। একদিন চাকায় গর্তে পড়ে যাত্রী পড়ে গেছে, আরেকদিন ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে গাড়ি মেরামতের টাকাই ওঠে না।’
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী শিউলি জানায়, ‘রাস্তা এত কর্দমাক্ত যে হেঁটে গেলে জামা-কাপড় কাদা হয়ে যায়। আবার অটোরিকশায় উঠলে গর্তের কারণে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।’
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পৌরসভার প্রশাসক কাজী শামীম বলেন, ‘রাস্তা সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। সর্বশেষ রবিবারও ফোন করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে হাইস্কুলের সামনে কিছুটা কাজ করা হয়েছে।’
খাগড়াছড়ি সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রামগড়-বারৈয়ারহাট সড়কের উন্নয়নকাজ একটি মেগা প্রকল্পের আওতায় চলছে। নানা জটিলতায় কাজ বন্ধ ছিল। তবে সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই পুরোপুরি সংস্কারকাজ শুরু হবে।
রাজু/নাঈম