চালুর ৩ ঘণ্টা পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি পরিবহনের বাস চালককে মারধরের জেরে আবারও দূরপাল্লার বাস বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে রাজশাহীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে দেশ ট্রাভেলসের চালক মিলনকে মারধর করে শ্রমিকরা।
এর আগে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় প্রায় ৯০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সোমবার বিকাল ৪টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়। অল্প কিছুক্ষণের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য রুটে বাসে যাত্রী পরিসেবা স্বাভাবিক হলেও তা আবারও বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।
রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঢাকা বাস কাউন্টারের কয়েকজন টিকিট মাস্টার জানান, বাস চালুর কয়েক ঘণ্টা পর রাজশাহীতে একচালককে মারধরের জেরে আবারও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শ্রমিক নেতাদের দাবি, বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঢাকা কোচ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, সোমবার বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওর্নাস অ্যাসোসিয়েশেনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর জেলার বাস শ্রমিক নেতাদের পাশাপাশি বাস-ট্রাক ওর্নাস অ্যাসোসিয়শেনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মালিক-শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার সৃষ্ট বিরোধ কেটে গেলে বিকেল ৪টা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কয়েকটি বাস ছেড়েও গেছে। কিন্তু রাজশাহীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে দেশ ট্রাভেলসের এক চালককে মারধর করেছে রাজশাহীর শ্রমিকরা। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাস রাজশাহীর ওপর দিয়ে যেতে দিচ্ছে না।
ওই শ্রমিককে মারধরের বিষয়ে তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাস শ্রমিকরা সব দাবি দাওয়া মেনে নিয়ে বাস চলাচল শুরু করেছে। একই সঙ্গে রাজশাহীর বাস শ্রমিকদের বেতন ভাতা ও খোরাকি বৃদ্ধি করা হলেও তারা এসব মানতে নারাজ। এখন তাদের দাবি একটি বাসের ৩০টি আসন পূর্ণ হলে ১টি এবং ৪০ আসন পূর্ণ হলে দু’টি টিকিটের মূল্য নেবেন। এই দাবি না মানলে রাজশাহীর শ্রমিকরা বাস চলচাল করতে দেবেন না। তাই দূরপাল্লার বাস আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন চরম বিপাকে। দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের নিয়ে রাজশাহী থেকে ঘুরে এসেছেন। অনেক যাত্রী রাজশাহীতে নেমে কাটা-কাটা গাড়িতে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
সিরাজুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, বাস চলাচলের খবর পেয়ে ঢাকা যাব বলে কাউন্টারে এসেছিলাম। এসে শুনছি আবারও বাস চলাচল বন্ধ। এতে আমাদের অনেক হয়রানি হতে হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, গাড়ি চলাচল বন্ধ নেই। শ্রমিকদের যে ক্ষোভগুলো ছিল, হয়তো কেউ বিচ্ছিন্নভাবে গাড়ি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। বাস চালুর পর এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে এবং এটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রাজশাহীতে এক ড্রাইভারকে মারধর করার বিষয়ে জানতে চাইলে এই নেতা আরও বলেন, কে কাকে মেরেছে এটা বিচার করে দেব। তার ভয়ে কোনো গাড়ি বন্ধ থাকবে না।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাস মালিক পক্ষ দূরপাল্লার যাত্রীসেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তবে সোমবার বিকেলে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় বাস চলাচল শুরু হয়
মো. আসাদুল্লাহ/মাহফুজ