কুমিল্লায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দারসহ ১৪ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবিদ্বার উপজেলাধীন কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কের ভিংলা বাড়ি এলাকায় চেকপোষ্ট স্থাপন করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ১৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।
গ্রেপ্তাররা হচ্ছে- আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সরদার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার নদীয়াবাদ এলাকার শাহ আলম দুলাল (৪০), মুরাদনগর উড়িয়চর গ্রামের মো. মনির হোসেন (৪০), ব্রাহ্মণপাড়ার শিবলাই এলাকার মামুন মিয়া (২৪), একই উপজেলার মাহবুব আলম (৩৮), সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকার আলমগীর হোসেন (৩০), বুড়িচং উপজেলার জরুইন গ্রামের আল আমিন (৩২), বরুড়ার মহেশপুর এলাকার কামাল হোসেন (৩২), চান্দিনা উপজেলার কঙ্গাযই এলাকার মোশাররফ শরীফ (৩২), চিলোরা এলাকার মো. সুমন (৩৩), বরুড়ার বাঁশতলী এলাকার মো. খোকন (৪০), হোসেনপুর এলাকার আলামিন (২৫), চান্দিনারা চিরাল্লা এলাকার মোঃ সোহেল (২৬), বাঙ্গরা বাজার এলাকার হিরা কাশি গ্রামের আউয়াল (৫০) এবং চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার সন্তুপুর গ্রামের নিহার বিশ্বাস (৪৮)।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর লালমাই থানায় দুটি ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়। এরপর থেকে জেলা পুলিশ সমগ্র জেলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলার বাঙ্গরা থানা এলাকায় ডাকাতদল সঙ্ঘবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সংবাদে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ টহল জোরদার করায় ওই এলাকায় ডাকাতি করতে পারেনি। তখন ডাকাত দলটি সিদ্ধান্ত নেয় দেবিদ্বার থানায় ডাকাতি করবে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি কালো রঙের হাইস গাড়িতে করে ডাকাত দল রওনা দেয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলা বাড়ি এলাকায় চেকপোষ্ট স্থাপন করে। পুলিশের চেকপোস্ট দেখে ডাকাত দল দরজা খুলে ও জানলার গ্লাস ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ডাকাত দলের সর্দারসহ ১৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশি সুপার জানান, এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে লালমাই এলাকায় তিনটি, বরুড়ায় একটি ও নবীনগর থানা এলাকায় একটি করে ডাকাতি করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া নুপুর ও নগদ বিশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এসএন/