ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দারাজ ৬.৬ মিড-ইয়ার শপিং ফেস্টে থাকছে আকর্ষণীয় অফার, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট ও পুরস্কার গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি যৌক্তিক মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত জাতীয় ফুটবলার রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা ঢাকার পরিবেশ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি তিন মাসে অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ ভোলায় যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট মেসির চোট নিয়ে যা বললেন স্কালোনি হিলি সীমান্তে ভারতীয় ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি যে কারণে মুভি দেখব মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী সময়ের সঙ্গে বদলান লিডারশিপ স্টাইল পঞ্চগড়ে পুশইনের শিকার ১০ জন, নিচ্ছে না কোনো দেশ শিবালয়ে ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পরে চেইন ছিনতাই জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেট সীমান্তে জনগণকে সাথে নিয়ে বিজিবির মাইকিং ও টহল বৃদ্ধি গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি শ্রেয়াসের প্রত্যাবর্তন, তিলকের উত্থান, আর ১৫ বছরের বিস্ময় সূর্যবংশী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ কাশিয়ানীতে ট্রেনের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু পুশইনের আড়ালে সীমান্তে মানবপাচারের অপচেষ্টা, সতর্ক বিজিবি-জনতা হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি আনোয়ারায় দুই পরিবারের কাঁটায় বন্ধ শতাধিক পরিবারের চলার পথ হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
Nagad desktop

সাতক্ষীরায় নীরবে উজাড় হচ্ছে চর বনায়ন

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০৭ এএম
সাতক্ষীরায় নীরবে উজাড় হচ্ছে চর বনায়ন
চরে বনায়ন থেকে দুর্বৃত্তরা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ও গাবুরা ইউনিয়নের সংযোগস্থল চৌদ্দরশি ব্রিজের পশ্চিমে খোলপেটুয়া নদীর চর থেকে তোলা। ইনসেটে কেটে রাখা গাছ। ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদীর তীরে প্রায় ৬০০ বিঘা জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা বনায়নের গাছ দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার পদ্মপুকুর ও গাবুরা ইউনিয়নের সংযোগস্থল চৌদ্দরশি ব্রিজের পশ্চিমে গেলে দেখা যাবে এমন চিত্র। নদীর চরে বনায়ন অঞ্চলে যেখানে-সেখানে গর্ত খুঁড়ে মাছ শিকারের ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। শিকারিরা তাদের সুবিধার্থে বনায়নের গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলছে। গর্তে পানি আটকে থাকায় সেখানে নতুন গাছও জন্মাতে পারছে না। ফলে দিন দিন চরের বনায়ন ধ্বংস হচ্ছে। অথচ বহু বছর ধরে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ছোট-বড় দুর্যোগে প্রাচীর হিসেবে উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষা করছে চর বনায়নের এসব গাছ।

দিনের পর দিন নির্বিচারে এসব গাছ কেটে নেওয়া হলেও এ বিষয়ে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, দিন-রাত সমানতালে করাত, কুড়াল দিয়ে নিঃশব্দে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুই ইউনিয়নের সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বনের ভেতরে ছোট-বড় নানা প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের ডালপালা বনের ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অসংখ্য গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে, যা জোয়ারের সময় পানিতে ভরে যায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব গর্তে জোয়ারে রেণুপোনা আসে, যা পরে ধরে বাজারে বিক্রি করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গাবুরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খোলপেটুয়া, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ গাজীপাড়া এবং ওই চরে গড়ে ওঠা বনের কাছাকাছি বসবাসরতরা বনের গাছ নিধনে মেতে উঠেছে।

স্থানীয়রা বলেন, খোলপেটুয়া নদীতে প্রায় ৭০০ বিঘা জায়গাজুড়ে একটি বড় চর জেগে উঠেছে। এখানে প্রথমে স্থানীয়রা বনায়ন শুরু করে। জায়গাটি সুন্দরবনসংলগ্ন হওয়ায় নদীর জোয়ারে ভেসে আসা নানা গাছের ফল চরে আটকে আরও গাছ জন্মাতে থাকে। এতে প্রায় ৬০০ বিঘা জায়গাজুড়ে বেড়িবাঁধ ঘেঁষে চরে গড়ে ওঠে সবুজ ঘন বন। তবে এই সবুজ বন আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। 

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী গ্রামের খোকন সরদার বলেন, ‘আগে চরে প্রচুর গাছ ছিল। এখন প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। গাছ কাটার শব্দ যেন লোকালয়ে না আসে, সে জন্য করাত দিয়ে কাটা হয়। আবার অনেক সময় গাছ কেটে রেখে যায়। দুই-একদিন পর এসে সেই গাছ নিয়ে যায়। এতে মানুষকে বোঝানো যায় গাছটা মারা গেছে। তাই মরা গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে।’

ওই এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা আল আমিন বলেন, ‘খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ঘেঁষে প্রায় ৬০০ বিঘা জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা বনটি ধ্বংসের পথে। নদীপাড়ের মানুষ জ্বালানি কাঠ, ঘর তৈরির কাঠ আর আসবাবপত্রের জন্য পুরোপুরি এই বনের ওপর নির্ভর করে। তবে মাছ শিকারিদের দৌরাত্ম্যে এই বনে নতুন গাছ জন্মাচ্ছে না। এভাবে গাছ কাটা চলতে থাকলে বন আর টিকবে না। অথচ বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে প্রাচীর হিসেবে উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষা করছে চর বনায়নের এসব গাছ।’

এ বিষয়ে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ৮৩নং পশ্চিম পাতাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘গাবুরার খোলপেটুয়া গ্রামের কিছু লোক, পদ্মপুকুরের ৮নং ওয়ার্ড পূর্ব পাতাখালি গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার ২৫ থেকে ৩০ জন বাসিন্দা এবং ওই বনসংলগ্ন ওয়াপদার উপরে বসবাসরত লোকজন সরাসরি এ বন নিধনে জড়িত। এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত মাদকসেবী মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে এ বনের গাছ চুরি করে কেটে বিক্রি করে। আবার হরিণা চিংড়ির রেণু ধরার জন্য নির্ধারিত কিছু ব্যক্তি এ বনের মধ্যে গাছ কেটে শতাধিক গর্ত তৈরি করেছে। ফলে একদিকে পুরোনো গাছ নিধন হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন চারাগাছ জন্মাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’ ইতিপূর্বে যারা এ বন দেখভালের নামকাওয়াস্তে দায়িত্বে ছিলেন- তারাও ব্যক্তিস্বার্থে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বন উজাড়ের কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী পরিচালক সোহানুর রহমান বলেন, ‘বনের ভেতরে গর্ত করে মাছের পোনা ধরা আর নির্বিচারে গাছ কাটা পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এতে নতুন করে গাছ জন্মায় না। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়। অথচ এসব সামাজিক বন উপকূল রক্ষার প্রাকৃতিক বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে। বন ধ্বংস হলে পরিবেশের ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম বলেন, ‘খোলপেটুয়া নদীর চরে গড়ে ওঠা বনায়নের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিছু দুর্বৃত্ত চুরি করে এসব গাছ কাটছে এবং পাচার করছে। আমরা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরার চেষ্টা করছি।’ 

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রনী খাতুন বলেন, ‘চর বনায়নের গাছ এভাবে কাটার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি স্থানীয় দুই চেয়ারম্যান ও সামাজিক বন বিভাগকে জানাচ্ছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনও সরাসরি ব্যবস্থা নেবে।

গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি
ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জে সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ র‌্যালির আয়োজন করে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে জন সচেতনতামূলক একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে .এম. বাবর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ফারিহা তানজিন এবং সহকারী কমিশনার (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) অনিরুদ্ধ দেব রায়।

এসময় রেড ক্রিসেন্টের সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, স্কাউটস, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ র‍্যালিতে অংশ নেন।

র‍্যালি শেষে বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, “আগেও প্রতি শনিবার আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে আসছি। সেই কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার জন্য আজকের এই র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে। বছরের এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তাই কিভাবে ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, “ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এ রোগে মূলত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। এডিস মশা যেসব স্থানে জন্মায়, সেগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। আজ থেকে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এবং নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

জেলা প্রশাসন, গোপালগঞ্জের আয়োজনে এবং গোপালগঞ্জ পৌরসভার বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাদল সাহা/এসএন

ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক
ফয়জুল্লাহ মোল্যা। ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আম খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফয়জুল্লাহ মোল্যা (৩২) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

অভিযুক্ত ফয়জুল্লাহ মোল্যা উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের সোলেমান মোল্যার ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরের দিকে ফয়জুল্লাহর প্রতিবেশী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে আম খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে দরজা আটকিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটির চিৎকার শুনে ফয়জুলের ঘর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার চাচি। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় ফয়জুল। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী মেয়েটির বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও মা বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ফয়জুল। তার স্ত্রী সম্প্রতি বেড়াতে গেলে শুক্রবার দুপুরে মেয়েটিকে একা পেয়ে আম খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক ও ভুক্তভোগীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য শনিবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টেপ সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নয়ন/রিফাত/

মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

“রাখিব চারপাশ পরিষ্কার, গড়িব সুন্দর পরিবেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাদারীপুরে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‍্যালি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্টের মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে শকুনি লেক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) জুয়েল আহমেদ, মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মুরাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মাসুদ পারভেজসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, রেস্টুরেন্টের মালিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

এ সময় জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি-ঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। কোথাও যেন পরিষ্কার পানিতে মশার লার্ভা জন্ম নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, মাদারীপুর জেলাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। ডেঙ্গু যাতে বিস্তার লাভ করতে না পারে সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।

রফিকুল ইসলাম/নাঈম

রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা
কথা বলছেন আছিয়ার মা। ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলার রায় আজ ঘোষণা হবে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই আবারও সামনে এসেছে মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলা। মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো কার্যকর হয়নি সেই সাজা। আর এ নিয়েই ক্ষোভ, হতাশা ও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন।

২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আছিয়া। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

ঘটনার পর করা মামলায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন এবং আপিল শুনানি সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক তাই মামলাটি এখনও উচ্চ আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।

আছিয়ার পরিবারের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, মামলাটির আপিল শুনানি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের থেকে দ্রুত শুনানি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সোহেল আহমেদ জানান, সর্বশেষ শুনানি হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। বর্তমানে মামলার কার্যক্রম ঢাকায় উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে এসব আইনি ব্যাখ্যার মধ্যেও সন্তুষ্ট নন আছিয়ার মা। তার ভাষায়, আছিয়ার ঘটনায় পুরো দেশ আন্দোলন করেছে, বিচার চেয়েছে। আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায়ও দিয়েছেন। কিন্তু সেই রায় এখনো কার্যকর হয়নি।

আয়েশা খাতুন বলেন, এক বছর দুই মাস ধরে আমি বিচার চেয়ে আসতেছি। আদালত রায় দিল, কিন্তু সেই বিচার তো আমি চোখে দেখলাম না। যদি তখনই বিচারটা কার্যকর হইত, তাহলে হয়ত রামিসার মতো আরও অনেক শিশু বাঁচত। অনেক মায়ের বুক খালি হইত না।

তিনি বলেন, শিশু নির্যাতনের অনেক ঘটনা সংবাদে আসে, আবার কিছু ঘটনা অজানাই থেকে যায়। কিন্তু অপরাধীরা যখন শাস্তি কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগে দেখে, তখন সমাজে ভুল বার্তা যায় বলেও মনে করেন তিনি।

রামিসার ঘটনার কথা উঠতেই আবেগাপ্লুত হয়ে আছিয়ার মা বলেন, আমার মেয়ের জন্য যতটুকু কাঁদছি, ওই মেয়েটার জন্যও ততটুকুই কাঁদছি। এতটুকু একটা বাচ্চার সঙ্গে মানুষ কেমন করে এমন করতে পারে? ছোট শিশুদের যদি সম্মান না দিতে পারে, তাহলে বড়দের সঙ্গে তারা কী করতে পারে?

বিচার না পাওয়ার হতাশার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার দাবি, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এ কারণে তিনি নিজে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

তিনি বলেন, একটা সন্তান হারাইছি, আরেকটা সন্তান আছে। ওদের নিয়েই ভয় লাগে। স্বামী অসুস্থ, সবসময় তো পাহারা দিতে পারি না। কখন কে কী করে, সেই ভয় সবসময় কাজ করে।

বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আয়েশা খাতুন বলেন, এতদিনেও বিচার কার্যকর না হওয়ায় আস্থা অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে। মনে হয়, বিচার হলে এতদিনে হয়ে যেত।

রামিসার বাবা যেমন আল্লাহর বিচারের কথা বলেছেন, সেই প্রসঙ্গ টেনে আছিয়ার মাও বলেন, এখন মানুষ বলে, আল্লাহ ছাড়া বিচার করার কেউ নেই। কারণ এতদিন অপেক্ষা করেও আমরা বিচার দেখতে পেলাম না।

আজ যখন রামিসা হত্যা মামলার রায়ের দিকে দেশ তাকিয়ে আছে, তখন একইসঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে আছিয়ার পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্পও। একটি মামলায় রায় ঘোষণার দিনেই আরেকটি মামলার রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি, শাস্তি কার্যকর এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমতের আলোচনা।

কাসেমুর রহমান/নাঈম

ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে  ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা
ছবি: খবরের কাগজ

সীমান্ত দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৬ জুন) দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান নিশ্চিত করেছেন। 

শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধীন মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস-এর নিকটে বিএসএফের বহরগাঁও ক্যাম্পের সদস্যরা ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে  ৪ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে।

খবর পেয়ে মশালগাঁও বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখার অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দিনাজপুরের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায় এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখে। সেখানে আগে থেকেই আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন।

তাদের দাবি, প্রায় সাত দিন পর বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হয়। পরে পুলিশের একটি গাড়িতে করে তাদের ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে আনা হয়। সেখানে একদিন রাখার পর শুক্রবার ভোরে সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস এলাকায় নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।


সুলতান মাহমুদ/এসএন