পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে পাবনার ঈশ্বরদী, আমিনপুর, রাজশাহীর বাঘা এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) ভোর ৪টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত এই অভিযান চলে। এতে দেশি ও বিদেশি অস্ত্র, মাদক, মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৯ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পদ্মানদীর দুর্গম চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত আমান মণ্ডলের বাবা মিনহাজ মণ্ডল বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাকন বাহিনীর প্রধান কাকনসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার নিচ খানপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বাঘার মণ্ডল বাহিনী ও দৌলতপুরের কাকন বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঈশ্বরদীর সাঁড়া ঘাট ও লালপুরের বালুমহলে প্রায়ই কাকন বাহিনীর হামলায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, ঈশ্বরদী ও লালপুরের পদ্মানদীর চরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাকন বাহিনী। এ বাহিনীর প্রধান মো. হাসানুজ্জামান কাকন (৫০) দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা। ২০০১ সালে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এরপর তিনি পরিবারসহ ঈশ্বরদীর ভাটাপাড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
ইঞ্জিনিয়ার কাকন ১৯৯৪ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি পাস করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। ২০০৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং কয়েক বছর পর দেশে ফিরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে নিতে ‘কাকন বাহিনী’ গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই বাহিনী চাঁদাবাজি, দখলবাজি, হত্যা, অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িত।
রবিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ পরিচালিত হয়। এতে পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএন-এর প্রায় ১২০০ সদস্য অংশ নেন।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান সাংবাদিকদের জানান, অভিযানে ৫টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র, মাদক ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ জনকে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আব্দুন নূর বলেন, ‘রবিবার ভোর ৪টা থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ঈশ্বরদী, রাজশাহী ও কুষ্টিয়ার পদ্মানদীর চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করা হয়। এ অভিযান দুপুর পর্যন্ত চলে। এতে ২১ জন গ্রেপ্তার ও দেশি-বিদেশি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
জাহাঙ্গীর/রিফাত/