কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে দফায় দফায় দুই শিশুসহ নয়জন নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। কাঁটাতারের বেড়া থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় নিয়ে এলে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও এলাকাবাসী তা প্রতিহত করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিএসএফের দিকে ধাওয়া করে। পরে ওই নয়জন নাগরিক শূন্যরেখায় অবস্থান করেন।
এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে পুশইনের শিকার নাগরিকরা সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রৌমারীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা করে আসছে বিএসএফ। তবে দিনরাত স্থানীয় লোকজন ও বিজিবির পাহারার কারণে তারা সফল হতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রবিবার (১৪ জুন) ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে একজন নারী, তিনজন পুরুষ ও দুই শিশুসহ মোট ছয়জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রথমে বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্থানীয় জনতা ও বিজিবি মিলে সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেয়।
এ ছাড়া একই সময়ে উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৫ নম্বর পিলার এলাকা দিয়েও আরও তিনজন নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। সেখানেও সীমান্তরেখায় তাদের আটকে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার দুপুরে দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীনস্থ দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের বিএসএফের ঝালোরচর ক্যাম্পের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার। দীর্ঘ আলোচনা শেষে পুশইন করা নাগরিকদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। বিজিবি ও বিএসএফের অনড় অবস্থানের কারণে ওই নাগরিকরা বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখা (নো-ম্যানস ল্যান্ড) এলাকায় অবস্থান করছেন।
শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিএসএফ অবৈধভাবে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ছয়জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। বিজিবি ও স্থানীয় জনতা মিলে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। বিজিবি পতাকা বৈঠকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।’
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিওপির সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোররাতে ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে তারা এখন পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় দেড়শ গজের মধ্যে অবস্থান করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি, পুশইন করা নাগরিকদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পুশইন ঠেকাতে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী সীমান্তে কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিএসএফকে আমরা বলে দিয়েছি, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
সিরাজ/রিফাত/