নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। তার চোখে শূন্যতা, মুখে নীরবতা। যা সমাজের অবহেলা ও উদাসীনতার নির্মম চিত্র তুলে ধরে।
সম্প্রতি তার দুর্দশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা আর উপেক্ষা করার মতো নয়। তার একটি পায়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পচন, যা প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা নয় মানুষের সম্মিলিত অবহেলারই ফল।
সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা বাজার এলাকায় পথচারী ও স্থানীয়দের কাছে নারীটি পরিচিত এক মুখ। পথের ধুলো, আবর্জনা ও অনাহারে কাটে তার দিন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তিনি নিজের ব্যথাও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। ক্ষতটি ধীরে ধীরে গভীর হয়ে পচন ধরে পোকা পড়ে গেছে। শরীরে মাছি ভনভন করে। অথচ অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন দেখেও পাশ কাটিয়ে যায়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার অসহায়ত্বের ডাকে সাড়াদিয়ে এগিয়ে আসে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা। তারা নারীটির প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন। তরুণদের যত্নে ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে তার শারীরিক অবস্থার।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, নিজেদের পকেটের অর্থ এবং স্থানীয়দের সামান্য সহায়তায় অ্যান্টিসেপটিক, ড্রেসিং সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা হয়। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় পালাক্রমে এসে তারা ক্ষত পরিষ্কার এবং ড্রেসিং করেন। ফুটপাতের ধুলোবালি থেকে সরিয়ে তাকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় রাখা হয়েছে, যাতে তার ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের মানবিক উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই নারীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু প্রাথমিক চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নয়। তার পরিচয় শনাক্ত করা এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। পরিবার খুঁজে পাওয়া গেলে তার যথাযথ মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসা নিশ্চিত হবে।
এই নারী হয়তো কারও মা, বোন বা আপনজন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেন এই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটি পরিবারে ফিরে যেতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয়দের।
হানিফ উদ্দিন/সুমন/