উত্তরের জেলা নীলফামারীতে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। হিমেল হাওয়ার দাপটে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জবুথবু অবস্থা বিরাজ করছে সর্বত্র।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় নীলফামারী জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক সেলসিয়াস।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর ম্যানেজার এ কে এম বাহার উদ্দিন জাকারিয়া জানান, ঘন কুয়াশার কারণে কোনো বিমানের সিডিউল বিপর্যয় হয়নি। কুয়াশা শুরু হওয়ার আগেই বিমান সিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সূর্যের দেখা মিলছে অনেক দেরিতে। সূর্য উঠলেও কনকনে ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের প্রকোপ কমছে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠ, সড়ক ও জনবসতিগুলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে।
এ তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। কৃষক, রিকশাচালক ও দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবন কার্যত স্থবির হয়ে গেছে। শীতের কারণে কাজের সময় কমে যাওয়ায় আয়েও প্রভাব পড়েছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেকেই, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা।
শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিকাজেও। মাঠে কাজ ব্যাহত হওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে যেতে পারছেন না, যার ফলে বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। নীলফামারী সদর উপজেলার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ‘ভোরে মাঠে নামা যায় না। কুয়াশা আর ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ফসলের কাজ ঠিকমতো করতে পারছি না, এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।’
একই চিত্র শহরের রাস্তাঘাটেও দেখা যায়। তীব্র শীতে যাত্রী সংকটে পড়েছেন রিকশাচালকরা। রিকশাচালক গণেশ চন্দ্র জানান, শীতে মানুষ বাড়ি থেকে কম বের হয়। ঠান্ডায় শরীর কাঁপে, রিকশা চালানো খুব কষ্টকর। আয় অর্ধেকেরও কমে গেছে।
দিনমজুরদের অবস্থাও শোচনীয়। কাজ থাকলেও শীতের কারণে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কাজ না করলে খাবার জোটে না। কিন্তু এই শীতে কাজ করা খুব কষ্ট। গরম কাপড়েরও অভাব আছে।’
শীত সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে ছিন্নমূল ও বয়স্ক মানুষদের ওপর। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে বসবাসরত এক বৃদ্ধ জানান, রাতে ঘুমানো যায় না। ঠান্ডায় শরীর ব্যথা করে। সাহায্য না পেলে বাঁচাই মুশকিল।
এদিকে, শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘তীব্র শীতের কারণে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ভোর ও রাতের ঠান্ডা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজন ছাড়া শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডায় বের না হওয়া, গরম কাপড় ব্যবহার এবং গরম খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছি। জ্বর বা শ্বাসকষ্ট বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।’
মমিনুর/রিফাত/