মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের উদ্যোগে চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে হাইকোর্ট মাজার নামে প্রসিদ্ধ, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হিসেবে খ্যাত, বিখ্যাত সুফিসাধক হজরত শরফুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর পবিত্র উরস শরিফে হামলার প্রতিবাদ সমাবেশ ও উরস শরিফ সম্পন্ন হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে গত ১০ জানুয়ারিতে সংঘটিত হাইকোর্ট মাজারে উরস পালনে পুলিশি বাধা ও ধর্মীয় উগ্রগোষ্ঠীর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ উপলক্ষে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাদে মাগরিব থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠানটি রাত ১০টা নাগাদ চলে। এতে মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ সৈয়দুল হকের সভাপতিত্বে খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, মিলাদ-কিয়াম, মানববন্ধন এবং কাওয়ালি মাহফিল পরিচালিত হয়।
মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সৈয়দুল হক বলেন, “বাংলার মাটিতে সুফি ও আওলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে তাওহিদ, সাম্য ও ইনসাফের বাণী প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর দ্বারা সুফি মাজারে ২০০টিরও বেশি হামলা এবং বিভিন্ন জায়গায় উরস পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। গত দুদিন আগে হাইকোর্ট মাজারে উরস পালনে বাধার সাম্প্রতিক ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পুনরায় জমকালোভাবে উরস পালনের নিশ্চয়তা ও সহযোগিতার দাবি করছি।”
মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের সদস্য সচিব মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে সুফি সম্প্রদায়ের প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা অসহনীয়। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ। আমরা মাজার হামলা ও উরসে বাধার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জোবায়ের আরিফ সংহতি জানানোর উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়ে বলেন, “সুফি মাজারে হামলা ও উরসে বাধা নির্বাচনসহ সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিরোধী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা ও সফলতার লিটমাস টেস্ট হলো এই সরকার মাজারসমূহকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারছে কিনা।”
সাত্তার/মাহফুজ