রাজশাহী নগরীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে দিনদুপুরে বাড়ির সামনে ছুরিকাঘাতে মো. সাব্বির (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সন্ধ্যায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর শাহমখদুম থানা এলাকার পবা রাইসমিলপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সাব্বির ওই এলাকার বাসিন্দা শাহিন ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই মহল্লার আমিরুল ইসলামের ছেলে মো. জাসন (২৫) পূর্ব বিরোধের জেরে সাব্বিরকে বাড়ির সামনে বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাসন মাদকাসক্ত এবং গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় তার উৎপাত বেড়ে গিয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জাসনের মা শিরিন বেগম তার আধা কাঠা জমি সাব্বিরের বাবা শাহিন ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে জাসন ক্ষুব্ধ ছিলেন। মঙ্গলবার জাসন শাহিন ইসলামকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর আজ বুধবার দুপুরে সাব্বিরকে পেয়ে ছুরিকাঘাত করে সে।
ছুরিকাঘাতের পর গুরুতর আহত অবস্থায় সাব্বিরকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, সাব্বিরের বুকে গভীর ক্ষত ছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সপুরা এলাকার টিটিসির সামনে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা 'ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, হত্যাকারীর ফাঁসি চাই' ও 'আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ফায়ার সার্ভিস সড়কে জ্বালানো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, সাব্বির শান্ত-শিষ্ট ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ-এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুজ্জামান সোহেল বলেন, সাব্বির একজন মেধাবী বক্সিং খেলোয়াড় ছিলেন। খেলাধুলায় তার উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিল। আমরা একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে হারালাম। দ্রুত আসামিকে করে আইনের আওতায় না আনা হলে ক্রীড়াবিদরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নগরীর শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, মরদেহ হাসপাতালে নেওয়ার পর পুলিশ খবর পায়। এর আগেই অভিযুক্ত জাসন পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এনায়েত করিম/সুমন/