এক মাসের (ফেব্রুয়ারি) মধ্যে দুবার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল শুক্রবার মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও অনুভূত হয় বেশি মাত্রার। এ জন্য আতঙ্ক আরও চেপে বসেছে। এদিন বেলা ১টা ৫২ মিনিটে যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা ও সংলগ্ন অঞ্চলে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল খুলনা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সাতক্ষীরা থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। যা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়। আর ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এ ভূমিকম্পের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাতসহ বেশ কিছু এলাকায় এই ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাঝারি মাত্রার হলেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জোর কাঁপুনি অনুভূত হয়। আতঙ্কে লোকজন ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। যদিও কয়েকটি স্থানে ভবনে সামান্য ফাটল ছাড়া এখনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে এক মাসে দুবার ভূমিকম্প হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। যশোর ও তার আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া এই কম্পনে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও যশোরের কিছু পুরোনো ভবনে হালকা ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।
যশোর শহরের কলেজ শিক্ষক রুমি আক্তার জানান, জুমার নামাজের পরপরই ঘরের আসবাবপত্র প্রবলভাবে দুলতে শুরু করলে তারা দ্রুত পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এরকম ভূমিকম্প তিনি এর আগে অনুভূব করেননি বলে জানান। স্মিথ রোডের মীরপাড়ার বাসিন্দা আলী হাসান জানান, এ মাসের প্রথম সপ্তাহে একবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। জেনেছি দুটি ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরায়। এর আগে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল শোনা যায়নি। উৎপত্তিস্থল মানেই বড় ঘটনার শঙ্কা।
ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সাংবাদিক রেজাউল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হওয়া এলাকা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ জন্য এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। একই মাসে দুবার ভূমিকম্প ও এই অঞ্চলে উৎপত্তিস্থল হওয়ায় মানুষ ভয়ে রয়েছে।
খুলনার রূপসা এলাকার বাসিন্দা সমাজসেবা অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল বাসার জানান, চলতি মাসে দুবার ভূমিকম্প হয়েছে। যার উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরায়। এ নিয়ে আতঙ্কে আছি। কারণ উৎপত্তিস্থল এলাকায় ক্ষতি বেশি হয়। সাতক্ষীরা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, সাতক্ষীরায় ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা ও এর আশপাশের এলাকা। যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেও খুলনা বিভাগের মানুষ শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেছে। সাতক্ষীরায় এর উৎপত্তিস্থল। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার কলারোয়া ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।