চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মো. হাসান বাবু (১৬) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার যুবক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের কুরানগিরি গ্রামের চৈতার মার খালের ঢালের একটি বিল থেকে হাসান বাবুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর শুনে ছুটে গিয়ে একমাত্র ছেলের রক্তমাখা লাশ দেখে তিনি বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পুলিশ জানায়, মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রবিবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কুরানগিরি গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৈতার মার খালের ঢালে হাসান বাবুকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ খালে ফেলে দেওয়া হয়।
হাসান বাবু কুরানগিরি গ্রামের মো. আমিনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী হাছিনা আকতারের একমাত্র ছেলে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে লিমন (২০) কে দিবাগত রাত ১টার দিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাররাহুম আহমেদের আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, কয়েকজন মিলে হাসানকে হত্যার পর খালে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় হাসান বাবুর মা হাছিনা আকতার বাদী হয়ে লিমনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পটিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিন ধরে গ্রামের ফোরকান নামের এক ব্যক্তির ১১টি মহিষ পাশের বিলে চরাত কিশোর হাসান। রবিবার সকাল ৭টার দিকে মহিষগুলো নিয়ে সে কুরানগিরি গ্রামের চৈতার মার খালের পাশের বিলে যায়। দুপুরে বাড়িতে এসে ভাত খেয়ে আবার মাঠে ফিরে যায়।
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় মা ও স্বজনেরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চৈতার মার খালের ঢালে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তার শরীরে মাটি লেগে ছিল, নাক-মুখে রক্ত এবং গলায় একাধিক নখের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
হাসান বাবুর মা হাছিনা আকতার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টের রোগে ভুগছেন। তার ছেলে হাসান বাবুই ছিল তার একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন সকালে উঠে তাকে গরম পানি দিত, চা-নাশতা করে খেতে দিত।
কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘‘আমার একমাত্র ছেলেকে ফেলে আমি কীভাবে থাকব। আল্লাহর কাছে বিচার চাই, যারা আমার ছেলেকে মেরেছে তাদের শাস্তি চাই।’’
তিনি আরও জানান, হাসান বাবুর আগে তার আরও দুই ছেলে জন্মের পর মারা যায়। হাসানই ছিল তার শেষ সন্তান।
পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আলভী/মাহফুজ