প্রায় এক দশক পর বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ ও দুমকী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের বহু প্রতীক্ষিত ‘গোমা সেতু’ আজ বিকেল তিনটার পর সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি উদ্বোধন করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তরর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এবং সেতু নির্মাণকাজে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গোমা সেতুটি বরিশালের লক্ষ্মীপাশা ও পটুয়াখালীর দুমকী সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে। এ সড়কটি বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ উপজেলা এবং দুমকী উপজেলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কে দুটি ফেরিঘাট রয়েছে। গোমা সেতু চালু হলে একটি ফেরি পারাপারের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে এবং যাতায়াত আরও সহজ হবে।
সড়ক ও জনপদ দপ্তরের সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর গোমা সেতু প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে একবার সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। বিভিন্ন কারিগরি পরিবর্তন ও নৌযান চলাচলের সুবিধার জন্য সেতুর উচ্চতা বাড়ানোর কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোতে নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ৮ মিটার ও একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার এলাকায় নদী শাসনকাজ এবং ৩১ হাজার ৮৮৬ বর্গমিটার এলাকায় কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশন করা হয়েছে।
সওজ বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আজ সবাই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পর সেতুটি জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মাহফুজ খান বলেন, সেতুর উচ্চতাসংক্রান্ত কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। আমরা সে লক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বলেন, গোমা সেতু নির্মাণের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। বিশেষ করে বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। সেতুটি উদ্বোধনের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তিনি আরও বলেন, সেতুটি চালু হলে কৃষিপণ্য, মাছ ও বিভিন্ন পণ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সবুজ/নাঈম/