শেরপুরে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা ও আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জেলা ব্রাজিল ফ্রেন্ডস ক্লাবের আয়োজনে শেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
মিলনমেলা শেষে সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি আনন্দ র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় ব্রাজিল সমর্থকরা ভুভুজেলা বাঁশি বাজিয়ে, রঙিন ফেস্টুন, ব্যানার এবং বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের পতাকা হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
র্যালিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত শেরপুরের বাসিন্দা শিবুও অংশ নেন। আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক থেকে ব্রাজিলের সমর্থকে পরিণত হওয়ার ঘটনায় তিনি সম্প্রতি আলোচনায় আসেন। ব্রাজিল সমর্থকদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমরা ব্রাজিল ফুটবল দলের দীর্ঘদিনের সমর্থক। আমাদের বিশ্বাস, তারকা খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ ও নান্দনিক ফুটবল খেলার কারণে এবার ব্রাজিল বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার। সেই প্রত্যাশা থেকেই আমরা এই মিলনমেলা ও আনন্দ র্যালির আয়োজন করেছি। তিনি আরও জানান, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আগামী দিনে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ব্রাজিল দলের খেলা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।
শাকিল/আমান
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেকারিপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে বিএসটিআই লোগো ব্যবহার করায় ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার ফার্মপাড়া ও বেলগাছি রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করা হয়।
অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেকারিপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে বিএসটিআই লোগো ব্যবহারের কারণে হারুন অর রশিদের প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর ফুড প্রোডাক্টসকে ২৫ হাজার টাকা এবং বিটু ইসলামের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাকিল চানাচুরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়াও দ্রুততম সময়ে সমস্যাগুলো সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর গোলাম ফারুক ও জেলা আনসার সদস্যরা।
মিজানুর রহমান/খাদিজা রুমি/
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান হামলার শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
মাহাদীর সহযোগীদের দাবি, সকালে আগের দিনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য মাহাদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। পরে কার্যালয় থেকে বের হয়ে নীমতলা কালেক্টর প্রাঙ্গণে পৌঁছালে একদল যুবক তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন।
গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের কর্মীরা মাহাদীকে ধাওয়া করেন। এ সময় তিনি রিকশায় দ্রুত হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নেন। পুরো ঘটনাটি তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচার করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার সহযোগীরা ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব আশরাফুজ্জামান রিয়াজ।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। মাহাদী যখন হামলার অভিযোগ করেছেন, তখন আমরা কলেজের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করছিলাম।’
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে মাহাদীকে কয়েকজন ছেলে লাথি-ঘুষি মেরেছে বলে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়াও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।'
তিনি আরও বলেন, ‘গতকালও মাহাদী থানায় এসে অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করেছে। ওই ঘটনাতেও এখন পর্যন্ত ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।'
কাজল সরকার/থিও/
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এবার স্থানীয় এক ব্যস্ত মোড়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ব্রাজিল মোড়’। ব্রাজিলকে সমর্থন দিতেই এমন অভিনব উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ব্রাজিল সমর্থকরা।
তবে ওই গ্রামে পিছিয়ে নেই আর্জেন্টিনাও। যা জেলা জুড়ে সৃষ্টি করেছে তুমুল আলোচনার। দলের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন গ্রামবাসী।
বুধবার (১০ জুন) এই মোড়েই বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের ১৩টি ছোট পতাকা ও ৫০ ফুট দৈঘ্যের অপর একটি পতাকা টাঙ্গিয়েছেন ব্রাজিল ভক্তরা। ফলে গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে ৭০ ভাগ ব্রাজিলের সমর্থক হওয়ায় ব্রাজিলের তারকা খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মোড়টির নামকরণ করা হয় ‘ব্রাজিল মোড়’।
ইতোমধ্যে এই নামটি গ্রামবাসীর মধ্যে সাড়া ফেলেছে। এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে সমর্থন দিতে এমন অভিনব আয়োজন করেন তারা। তাদের আশা এবার ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২৪ বছরের খড়া কাটানোর পাশাপশি হেক্সা মিশন শেষ করবে। মোড়ের নাম ব্রাজিল মোড় নাম দেয়ায় গ্রাম জুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর বসে নেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও। এলাকা জুড়ে টাঙ্গিয়েছে এক হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের আর্জেন্টিনার পতাকা। আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়েছেন তারা। তবে একে দলের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেছেন তারা।
গোপালগঞ্জের এই ‘ব্রাজিল মোড়’ এখন ব্রাজিল সর্থকদের জন্য আকর্ষণীয় স্পটে পরিণত হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই কাশিয়ানীর এই মোড় জমিয়ে তুলেছে ফুটবল বিশ্বকাপের আগাম আমেজ।
বাদল সাহা/আজহার
যশোরের বেনাপোল সীমান্তবর্তী শার্শায় আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি পানের একমাত্র সরকারি বাওড়টি জবরদখল হয়ে পড়ায় তিন গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা তীব্র পানি পানির সংকটে পড়েছেন।
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি এই বাওড়টি কয়েকজন প্রভাবশালী জবরদখল করে মাছ চাষ শুরু করায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ৬নং গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলাট এবং ৫নং পুটখালী ইউনিয়নের খলসি ও রাজগঞ্জ গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যদিনের বিশুদ্ধ পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি এ বাওড়টি জবরদখলকারীদের হাত থেকে মুক্ত করে জনস্বার্থে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হোক। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল ছিল আর্সেনিক কবলিত এলাকা। এ এলাকায় আর্সেনিকের ভয়াবহতা দিন দিন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় সরকারের সহযোগিতায় বিদেশি সংস্থা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ইছামতি নদী থেকে আসা পুটখালী বাওড়ের সঙ্গে সংযোগ হয়ে প্রবাহিত হয় খলসি, পাঁচভুলাট এবং রাজগঞ্জ বাওড়। এ সময় পুটখালী বাওড়ের শেষ সীমানায় বেড়িবাঁধ দিয়ে তিন গ্রামের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে সংস্থাটি।
আর্সেনিক কবলিত এই তিনটি গ্রামকে পৃথক করে পুটখালী বাওড়ের একাংশ বাঁধ দিয়ে পাঁচ ভুলাট, রাজগঞ্জ ও খলসির রাওড়ের অংশ থেকে বিশুদ্ধ পানি পানের উপযোগী করে তোলে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক।। এ সময় বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে একটি পানির ট্যাঙ্কি স্থাপন করা হয়। বাওড়টি থেকে পাওয়ার মেশিনে ট্যাঙ্কিতে পানি তুলে আর্সেনিকমুক্ত করে তিনটি গ্রামের মানুষের মাঝে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সকাল-সন্ধ্যা সরবরাহ করা হয়।
এ সময় থেকেই নিষিদ্ধ করা হয় বাওড়ের এ অংশে মাছ চাষ। বলা হয়, বিশুদ্ধ পানির জন্য উন্মুক্ত থাকবে বাওড়। কিন্তু এ তিন গ্রামের কয়েকজন সরকারি এ বাওড়টি জবরদখল করে মাছ চাষ করছেন। মাছ চাষে তারা সার, রাসায়নিক দ্রব্য, জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
পাইপ লাইনে পানি ব্যবহারকারী পরিবারগুলো জানান, মাছ চাষ করায় দিন দিন এ বাওড়ের পানি পান ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। আস্তে আস্তে আবারও আর্সেনিকের মতো কঠিন রোগ এ এলাকার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা জানান, পুটখালী বাওড়ের এক অংশে বেড়িবাঁধ দিয়ে তিনটি গ্রামের মানুষের পানি পানের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এ অংশে মাছ চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কিন্তু দখলকারীদের হাত থেকে এটি মুক্ত করা অতি জরুরি।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ জানান, সরকারি জলাশয় থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নজরুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/