ময়লা থেকে রিসাইক্লিং প্রসেসে জ্বালানি তৈরি করা যায়। একটি সাসটেইনেবল সিটির জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ময়লা আমাদের সম্পদ। আজ যে ডিজেলের সংকট চলছে। এই ময়লা থেকে আমরা গ্রিন ডিজেল তৈরি করতে পারি। নেদারল্যান্ড বিদেশ থেকে ময়লা আমদানি করে। আর আমরা কি করি? জানালা দিয়ে ময়লাগুলি খাল-নালায় ফেলে দিই। নালা থেকে তা রাস্তায় যায়। কর্নফুলীতে যায়। নদী ভরাট ও দূষণ হয়। চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার(১৭ মার্চ) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া ও দুষণমুক্ত শহর গড়ে তুলতে শতভাগ ময়লা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এজেন্ট নিয়োগ করেছিলাম। নাগরিকদের আর্থিক আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়েছে। এখন চসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তারা দিন রাত পরিশ্রম করে, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে রাতের বেলায় ময়লা অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে এখনও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া, যানবাহন দ্রুত চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
মেয়র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই শহর আমাদের সবার। আপনারা যদি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।
মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা প্রমুখ।
এবার চসিকের মোট ৩,২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে ঈদ উপহার পেয়েছেন। এর আগে গত রবিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ঈদ উপহারের অর্থের চেক সংশ্লিষ্ট মেয়র ও প্রশাসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এসএন/