বর্ষার আগেই কালজানী নদীর ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় গত এক সপ্তাহে শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়েছে নদীতে।
দ্রুত ভাঙনরোধ করা না গেলে আরও শতশত বাড়িঘর, আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।
উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১৪০০ মিটার জুড়ে ভাঙন চলছে। এ এলাকার প্রায় ৮০ টি পরিবার ভিটে হারিয়েছে। দক্ষিণ ঢলডাঙ্গার চিত্র একই রকম। প্রায় ৩০টির বেশি বাড়ি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে।
উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের ময়েন উদ্দিন বলেন, জায়গা জমি আর নাই। কেউ তো জায়গা দিতে চায়না। এখনও ঘর তুলতে পারি নাই।
গোলজার হোসেন জানান, আমাদের বাড়ি তিনবার ভাঙা হয়েছে। এবারও যেকোন মুহুর্তে বাড়ি নদীত পড়ে যেতে পারে। নতুন করে ঘর তোলার জায়গা না থাকায় ঘর দূরে নিতে পারছি না।
শনিবার (৬ জুন) ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী বলেন, বর্ষার আগেই যেভাবে ভাঙছে, এলাকাটি থাকবেনা মনে হচ্ছে। গত এক বছরে এক হাজারের মতো পরিবার ভিটে হারিয়েছে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে বলেছিলেন। তদন্ত করে গেছেন। দ্রুত কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবিতে শনিবার (৬ জুন) বিকেলে নদী পাড়ে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ করে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। আর যেন নতুন করে কেউ ভাঙনের শিকার না হয় সে ব্যবস্থা করা হবে। ভাঙনরোধে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে দুই হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ ঢলডাঙ্গায় জরুরী কাজ শুরু হয়েছে। অন্য ভাঙন কবলিত পয়েন্টগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপর বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।
সিরাজ/আমান