দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজার অপারেশনের সময় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বীরগঞ্জ ক্লিনিকের আশেপাশে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে কাহারোল উপজেলার সরঞ্জা এলাকার বাসিন্দা ও আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী সমেজা খাতুন (২৮)-কে বীরগঞ্জ উপজেলার বীরগঞ্জ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার আগেই তার সিজার অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
তবে অপারেশনের সময়ই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মো. বকুল হোসেন ও অ্যানেসথেশিয়া প্রদানকারী শরিফুল ইসলাম যথাযথ ও সময়োপযোগী চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন। তাদের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রোগীকে দ্রুত অন্যত্র পাঠিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অবস্থার অবনতি হলে প্রসূতিকে দ্রুত জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পরপরই ক্লিনিকের মালিক বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা ক্লিনিক বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে ক্লিনিকে ভর্তি অন্যান্য রোগীদেরও নীরবে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর ক্লিনিকের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়। দফায় দফায় ভাঙচুর, হট্টগোল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে। বিক্ষুব্ধরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকার এবং বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মন জানান, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকার বলেন, ‘সিজার অপারেশনের সময় রোগীর অবস্থার অবনতি হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করলে পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুলতান মাহমুদ/অন্তরা