ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু
Nagad desktop

সোনারগাঁয়ে ৫ চুনা কারখানা গুড়িয়ে দিল প্রশাসন

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
সোনারগাঁয়ে ৫ চুনা কারখানা গুড়িয়ে দিল প্রশাসন
সোনারগাঁ পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকায় অবৈধ চুনা কারখানা গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৫টি চুনা কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সোনারগাঁ পৌরসভা ও পিরোজপুর এলাকায় এসব অবৈধ চুনা কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তরিফ আল তাওহিদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দলও অভিযানে সহায়তা করে।

এছাড়াও অভিযান চলাকালে পিরোজপুর এলাকার হিরাঝিল হাইওয়ে হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে মালিক আল আমিনকে ২৫ হাজার টাকা এবং তার চাচা দুলাল মিয়াকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের মুজাফ্ফর আলী ফাউন্ডেশনের পাশে দুটি, সোনারগাঁ পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকায় দুটি এবং দৌলরবাগ এলাকায় একটি চুনা কারখানা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে আসছিল। এসব কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ৫৬ হাজার ঘনফুট গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।

এর আগেও এসব কারখানায় গুলোতে তিতাস কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরদিনই সংযোগ নিয়ে পুনরায় এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে ব্যবসা করে থাকেন। খবর পেয়ে এসব কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভাট্টিগুলো গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তরিফ আল তাওহিদ জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে সরকার নিয়মিত রাজস্ব হারাচ্ছে। অভিযানের সময় কারখানার মালিকরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মো. ইমরান হোসেন/অন্তরা

শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা
শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার গতকাল রবিবার সকালে স্কুল ফটকে এলে কয়েকজন তরুণ তার ওপর হামলা চালায়।ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর মব করে হামলা চালানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে প্রবেশকালে কয়েকজন তরুণ তাকে প্রথমে বাঁধা দেন। পরে মারধর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন। এ ঘটনার বেশকিছু ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ওই শিক্ষক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সুজিত কর্মকার। চাকরিরত অবস্থায় দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তোলেন। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যালয়ে না গিয়ে তিনি বিভিন্নভাবে ছুটি কাটাচ্ছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার (৭ জুন) সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিশায় করে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বিদ্যালয়ের ফটকে আসেন। এ সময় তিনি অটোরিকশা থেকে নামার পর কয়েকজন তরুণ তাকে টেনেহিঁচড়ে মারধর শুরু করেন। মারধর শেষে কয়েকজন তরুণ তাকে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন। সুজিত কর্মকার প্রথমে চিকিৎসার জন্য ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে নিরাপত্তার অভাববোধ করায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে যান। সেখানে ভর্তি হন।

এদিকে ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। নাজমুল হক সবুজ নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ করে আসছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই আমরা প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের অপসারণ চাই।’

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোছা. ফারহানা বলেন, ‘সুজিত কর্মকার নামের এক ব্যক্তিকে আমরা ভর্তি করেছি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছে। মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।’

ভুক্তভোগী ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার অভিযোগ করে বলেন, ‘২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ডামুড্যার একটি মহল আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল উদ্দিন ওই পক্ষটিকে মদদ দিতেন। নিরাপত্তার অভাবে আমি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে যেতে পারছিলাম না। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে জানিয়ে রবিবার বিদ্যালয়ে যাই। ওই চক্রের সদস্যরা বিদ্যালয়ের গেটে আমাকে মারধর করেছেন। আমি চিকিৎসা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব।’

অভিযোগের বিষয়ে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। আজ ইউএনও স্যারের অনুমতি নিয়ে বিদ্যালয়ে এলে অভিভাবকরা তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। আমার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কোনো বিরোধ নেই। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক কারণে তাকে আসতে দেয়নি কিছু লোক। তিনি মনে মনে ভেবেছেন আমি লোকজন দিয়ে এগুলো করিয়েছি।’

ডামুড্যা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে এমন ঘটনা শুনেছি। ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসেননি। আজ উনি এলে কিছু অভিভাবকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। যেহেতু বিদ্যালয়ের সবকিছু দেখভাল করেন ইউএনও, হয়তো ওই শিক্ষক ইউএনওকে বিষয়টি অবগত করেছেন। তবে ওই শিক্ষক এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বিষয়টি নিয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, ‘ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার আমাকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন তিনি বিদ্যালয় ফটকে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি ওসিকে জানিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিধান মজুমদার/রিফাত/

চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল গেইট এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে এনসিপি কর্মীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) বিকালে এই ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি জানায়, হামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব আশিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ চৌধুরী এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন আক্রান্ত হন। 

এনসিপি নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও রোগী হয়রানির প্রতিবাদে ৭ জুন বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেইটে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। জনস্বার্থে আয়োজিত এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে সিন্ডিকেটের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। রবিবার সকালে নোয়াখালীগামী রোগীর জন্য ১২ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করা হলে তারা এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স শ্রমিক ও মালিক সমিতির লোকজনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একইভাবে এর আগে ফেনীর জন্য ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার পরিবর্তে ৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল চারটায় চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপি। তবে সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগেই তাদের ওপর হামলা চালানো অভিযোগ করে দলটি। 

সংবাদ সম্মেলনে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো মানবিক খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের প্রভাব চলতে পারে না। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক টিপু বলেন, জনগণের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে এনসিপি কোনো আপস করবে না। স্বাস্থ্যখাতকে সকল প্রকার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অসুস্থ মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলায় এই হামলা আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী। এনসিপি অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চমেককে সম্পূর্ণ দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ বলেন, কেউ বেশি ভাড়া নিয়ে থাকলে প্রশাসনে অভিযোগ করতে পারে। এনসিপি নেতা কেন ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চায়। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট কারো বাপের না। ৫ আগস্টের দোহাই এখন আর চলবে না। একবার সুযোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। আগস্টের প্রভাব খাটিয়ে কেউ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে চাইলে তা আমরা করতে দেব না।

এসএন/

গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রবিবার (৭ জুন) নগরের টাইগারপাসস্থ বিন্নাঘাস প্রকল্প এলাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

এ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চসিকের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নগরীর কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড-আইল্যান্ডে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হবে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।’

কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল-নদীতে গিয়ে জমা হয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয়, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা প্রমুখ।

রিফাত/

চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সিরাজউদ্দৌল্লা রোডের সাব-এলিয়া হয়ে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

রবিবার (৭ জুন) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

চসিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসানোর কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এ অবস্থায় জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সাব-এলিয়া হয়ে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসা প্রায় ১৫০টি ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থান দখলমুক্ত করা হয়।

এ সময় ফুটপাত ও সড়কে দোকানের মালামাল ও নির্মাণসামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিফাত/

ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব
ছবি: খবরের কাগজ

ভোলা সদর উপজেলার গোরস্থান মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় আলোচিত গৃহবধূ মিতুর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

নিহতের পরিবারের দাবি, মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে আত্মহত্যার মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামকে তলব করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকন।

রবিবার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

নিহত মিতুর স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার ছিলেন। বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার আগের দিন রাতেও পারিবারিক কলহের জেরে তাকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঘটনার রাতে মিতুর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে মিতুর মা ও খালাতো বোনের ইমো নম্বরে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। সেই বার্তায় উল্লেখ করা হয়, মিতুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাঁচতে দেবে না। পরদিন সকালে মিতুর স্বামী সোহাগ তার শাশুড়িকে (মিতুর মা) ফোন দিয়ে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে বাসায় এসে মিতুর নিথর দেহ খাটে পড়ে থাকতে দেখে তার চিৎকারে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিতুর মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মরদেহ উদ্ধারের সময় মিতুর কপাল, বুক, হাত ও পায়ে ব্যাপক জখমের চিহ্ন দেখা গেছে বলে দাবি স্বজনদের। এ সময় মিতুর শ্বশুরবাড়ির কাউকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

নিহতের মা ও অন্যান্য স্বজনরা বলেন, ‘আমাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ সঠিক তদন্ত না করেই আত্মহত্যার মামলা রেকর্ড করেছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে পরিবারের আরও অভিযোগ, হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। তারা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

পরিবার আদালতে আবেদন করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য তলব করেছেন বলে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংকালে মিতুর আইনজীবী এ তথ্য জানান। আদালত পুলিশের ভূমিকা এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান বলেও জানিয়েছেন ওই আইনজীবী।

এ বিষয়ে জানতে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি ফোন নম্বরে কল দিলে ওসি (তদন্ত) জিয়াউদ্দিন জানান, ‘আদালতের তলবের আদেশ আমরা এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

উল্লেখ্য, গোরস্থান মাদরাসা-সংলগ্ন বাসা থেকে গৃহবধূ মিতুর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি ভোলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শুরু থেকেই নিহতের পরিবার ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে। আদালতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর মামলাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং এখন সবার নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

ইমতিয়াজুর/রিফাত/