ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জবাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সামার ২০২৬ শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত এনআইএলএস এআইইউবি চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে প্রিমিয়ার ব্যাংক নিয়ে এলো অত্যাধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ২৮ ঘণ্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার ইতালির স্বপ্নে লিবিয়ায় নিখোঁজ টাঙ্গাইলের শহিদুল চট্টগ্রামে পিডিবি প্রকৌশলী লাঞ্ছিত সর্বত্র রাজস্ব জাল বিছানো হয়েছে খেলোয়াড়ের চেয়ে কম বয়সী কোচ নিয়ে বিশ্বকাপ চ্যালেঞ্জ জার্মানির ফেনীতে গ্যাসবোঝাই ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষ, নিহত ২ চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু নড়াইলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল স্বাস্থ্যকর্মীর পুলিশি অভিযানে পণ্ড আ.লীগ নেতা-কর্মীদের খিচুড়ি পার্টি, আটক ২ স্বপ্ন, উন্মাদনা আর বিশ্বজয়ের লড়াই, বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ ৯ লাখ লোকের স্বপ্নের  ‘বামনী ক্লোজার’ এখন দৃশ্যমান মেহেরপুরে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু দেশের পোশাক খাতের নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ওয়ানডে আজ ভৈরবে প্রায় ৬ লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই দম্পতি আটক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুশইন ঠেকাতে রাতেও বিজিবির মাইকিং সেরা করদাতাদের সম্মাননা দেওয়া হবে ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা রাজত্ব কার, লাতিন না ইউরোপের? নড়াইলে যুবদল নেতাকে  কুপিয়ে গুরুতর যখম ক্রিকেট খেলে প্রস্তুতি ইংলিশ ফুটবলারদের ফ্রিল্যান্সিং খাতে কর অব্যাহতি
Nagad desktop

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেন চালু হবে: এমপি বাবর

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেন চালু হবে: এমপি বাবর
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।

চলতি মাসের (এপ্রিল) শেষ সপ্তাহে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ এবং গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে মন্তব্য করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। 

তিনি বলেন,‘আর পহেলা বৈশাখ থেকে ঢাকা-বেনাপোলগামী ট্রেন মুকসুদপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। এতে এ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। অল্প খরচে এ জেলার মানুষ ট্রেনে চড়ে রাজশাহীর পাশাপাশি ঢাকা ও বেনাপোল যাতায়াত করতে পারবে। এতে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে এ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।’

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিরোধী দল অনেক বাজে মন্তব্য করেছিল। অথচ হাতের কালি মোছার আগেই ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ ভাবে বিগত সরকার গোপালগঞ্জকে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে রেখেছে। কিন্তু আমরা জানি, বিগত সরকার গোপালগঞ্জের তেমন কোনো উন্নয়ন করেনি, যাতে এ জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিগত শেখ হাসিনার সরকার গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহী ট্রেন চালু করেছে। তারা কি পারত না গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চালু করতে? তারা কি পারত না গোপালগঞ্জে একটি ইপিজেড স্থাপন করতে? তাহলে তো আমার জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান হতো। তারা মুখে বললে তো সব হতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার দেশ শাসন করেছে। এ জেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারপরও গোপালগঞ্জ পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার। পৌরসভার পানি মুখে নেওয়া যায় না। নতুন সংযোগ দিতে পারছে না। যে পানি সরবরাহ করে, তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তখন শুনেছি, গোপালগঞ্জ পৌরসভা নাকি টাকার বন্যায় ভেসে গেছে। তাহলে ওই টাকা গেল কোথায়? জনগণের জন্য কি একটি পানির প্ল্যান্ট নির্মাণ করা গেল না, যাতে জনগণ বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারে? ইতোমধ্যে পানির প্ল্যান্ট করার জন্য ডিও লেটার দিয়েছি।’

ডা. বাবর বলেন, ‘আমরা তিনজন এমপি মিলে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। আমাদের ব্যক্তিগত কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দিন-রাত কাজ করছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, হাতের কালি শুকানোর আগেই তা বাস্তবায়ন করেছেন। আগামীতে সারা দেশের সঙ্গে গোপালগঞ্জেরও উন্নয়ন হবে।’

চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্যে ডা. বাবর বলেন, ‘আপনারা সমাজের নিরীহ, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করবেন। নির্বাচনে ভোটের আশায় তাদের ঠকিয়ে প্রভাবশালী পক্ষ নেবেন না। এলাকায় মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থাকবেন। তাহলে আল্লাহ চাইলে আপনারা পুনরায় নির্বাচিত হবেন। আর মেহনতি মানুষের পক্ষে থাকলে আল্লাহ আপনার সঙ্গে থাকবেন।’

উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এমপি বাবর বলেন, ‘আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন না, যা জনগণের কোনো কাজে আসবে না। আপনারা এমন প্রকল্প নেবেন, যাতে জনগণ উপকৃত হন। আপনারা নির্ভয়ে কাজ করবেন, যাতে আমার এলাকার মানুষ সুবিধা পায়। আমার সঙ্গে যারা সব সময় থাকেন (নেতা-কর্মী), তাদের কোনো অনৈতিক কাজেও সহযোগিতা করবেন না। আমার সঙ্গে থাকা কেউ যদি আমার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতে চায়, আমাকে জানাবেন আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এমপি বাবর আরও বলেন, ‘গোপালগঞ্জের প্রতিটি মানুষের এমপি আমি। তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমি একটি বাসযোগ্য গোপালগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো গডফাদার বা বাহিনী থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক গডফাদারও থাকবে না। আমার কাছে সবাই সমান। এভাবেই আমরা মিলেমিশে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন করতে চাই।’

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বাবলী শবনাম, সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহীদুল ইসলাম লেলিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন হিরা, জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপটন, গোবরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, হরিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস হোসেন, উরফি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির গাজী, করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম আহমেদ, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম, কাজুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইউব আলী ফকির, শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রানা মোল্লা, সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিনয় সরকার আনাদি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাদল/রিফাত/

শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
শেরপুরে মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস
মেসির প্রতিকৃতি আর আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে বাস। ছবি: খবরের কাগজ

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সমর্থকদের নানা আয়োজন। প্রিয় দলের পতাকা টাঙানো, বাড়িঘর রঙ করা কিংবা ব্যানার-পোস্টারে সাজানোর দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। তবে, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক পরিবহন ব্যবসায়ী নিজের ভালোবাসার দল আর্জেন্টিনাকে ভিন্নভাবে সাজিয়ে তৈরি করেছেন এক ব্যতিক্রমী নজির।

উপজেলার পরিবহন উদ্যোক্তা ও মাকসিম ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী গোলাম কিবরিয়া মাকসিম তার প্রতিষ্ঠানের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সাজিয়েছেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের আদলে।

নীল-সাদা রঙে মোড়ানো বাসটির গায়ে ফুটে উঠেছে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির বড় আকৃতির প্রতিকৃতি, যা সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বাসটির নকশায় আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ থাকলেও দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মাঝামাঝি অংশে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

স্থানীয়রা জানান, বাসটি সড়কে চলাচল শুরু করার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ অনেকেই বাসটির ছবি তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। ফলে বিষয়টি দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, মাকসিম ট্রাভেলসের বাসটি প্রতিদিন দুপুর ১২টায় নালিতাবাড়ী থেকে ঢাকার মহাখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আবার রাত ৮টায় মহাখালী থেকে নালিতাবাড়ীর পথে যাত্রা শুরু করে। ফুটবল দলের থিমে পুরো একটি যাত্রীবাহী বাস সাজানোর এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রথম হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

আর্জেন্টিনা সমর্থক বাবু চক্রবর্তী বলেন, বিশ্বকাপ এলেই নানা ধরনের সাজসজ্জা চোখে পড়ে। কিন্তু একটি যাত্রীবাহী বাসকে এভাবে পুরোপুরি আর্জেন্টিনার পরিচয়ে সাজানো সত্যিই ব্যতিক্রমী। বাসটি দেখেই ফুটবল উৎসবের আবহ অনুভব করা যায়।

আরেক সমর্থক তারিকুল ইসলাম বলেন, মেসির ছবি ও আর্জেন্টিনার রঙে সাজানো বাসটি প্রথম দেখেই ভালো লেগেছে। এটি শুধু সমর্থনের প্রকাশ নয়, ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও একটি আকর্ষণীয় উদ্যোগ। এমন আয়োজন এলাকার মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করেছে।

সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল মান্নান সোহেল বলেন, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন দেখা গেলেও এই বাসটি বিশেষভাবে মানুষের নজর কাড়ছে। এটি এখন শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ও আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

উদ্যোক্তা গোলাম কিবরিয়া মাকসিম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। বিশ্বকাপের সময় ফুটবল ঘিরে মানুষের যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়, সেই আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতেই তিনি বাসটিকে নতুন রূপ দিয়েছেন। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি আমি চেয়েছি যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবের অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে। বাসটি সড়কে নামার পর মানুষের ইতিবাচক সাড়া আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও দেশের পরিচয়ই সবার আগে। সে কারণেই বাসে বাংলাদেশের পতাকা এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বার্তাটি বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

শাকিল মুরাদ/অন্তরা

চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
চট্টগ্রামে ট্রেন দুর্ঘটনায় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু
নিহত বড় ভাই শাহাবুদ্দিন (বামে) ও ছোট ভাই মোহাম্মদ পেয়ারুল ইসলাম (ডানে)। ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

চট্টগ্রাম নগরীর ২নং গেইট এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনায় শাহাবুদ্দিন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার এবং বাঁশখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন রবির বড় ভাই। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ছোট ভাই মোহাম্মদ পেয়ারুল ইসলামও (৬৪) মারা গেছেন। একই দিনে দুই সহোদরের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বুধবার (১০ জুন) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহাবুদ্দিন ও মোহাম্মদ পেয়ারু বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চাঁপাছড়ি এলাকার মৃত ছাবের আহমদের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় শাহাবুদ্দিন চট্টগ্রাম নগরীর ২নং গেইট এলাকায় পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই ও বাঁশখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন রবি জানান, বড় ভাই শাহাবুদ্দিনের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পর অসুস্থ মোহাম্মদ পেয়ারুল ইসলাম গভীরভাবে মর্মাহত হন। একপর্যায়ে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম শহরের রহমান নগরস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

একই দিনে দুই সহোদরের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। দুই ভাইয়ের করুণ মৃত্যুতে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

শফকত/নাঈম

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে আরও ২১ শিশু ভর্তি
ছবি: খবরের কাগজ

হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও ২১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন মোট ৮৮টি শিশু।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ১১ জুন সকাল পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ২৫টি শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬টি শিশু। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৮৮৯টি শিশু। সেখানে এ পর্যন্ত মোট ৪৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কামরুজ্জামান/আমান

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম
৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে নামবেন হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে
জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘ ৫৮ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে ছুটছেন নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার লক্ষাধিক জেলে। সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেপল্লীগুলোতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবের আমেজ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১২টার পর থেকে শেষ হবে এ নিষেধাজ্ঞা।

উপজেলার বিভিন্ন ঘাট, ডকইয়ার্ড ও মাছ অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে জেলেদের। কেউ ট্রলারের শেষ মুহূর্তের মেরামত করছেন, কেউ জাল গুছিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ বরফ, জ্বালানি তেল, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ট্রলারে তুলতে ব্যস্ত রয়েছেন।

জানা গেছে, হাতিয়ায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা সরাসরি মৎস্য আহরণের সঙ্গে জড়িত। গভীর সমুদ্র ও মেঘনা মোহনা থেকে মাছ আহরণই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনের ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

নিষেধাজ্ঞার এই দীর্ঘ সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়েন হাজারো জেলে। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ধার-দেনা করে পরিবার চালিয়েছেন। ফলে আবারও সাগরে নামার সুযোগ পাওয়ায় নতুন আশার আলো দেখছেন তারা।

স্থানীয় জেলে মো. আবুল কাশেম খবরের কাগজকে বলেন, দুই মাসের বেশি সময় কোনো আয় ছিল না। অনেক কষ্টে সংসার চালিয়েছি। এখন আশা করছি সাগরে ভালো মাছ পাব। তাতেই যদি ঋণ শোধ করতে পারি, তাহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।

আরেক জেলে সৌরাভ হোসেন বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা আমরা মেনে চলেছি। এখন আল্লাহর রহমতে যদি ভালো মাছ পাওয়া যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে আবার সচ্ছল জীবনে ফিরতে পারবো।

তবে নিষেধাজ্ঞাকালে সরকারি সহায়তা বিতরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক জেলে। তাদের অভিযোগ, হাতিয়ার কার্ডধারী ৪ হাজার ৮৭৩ জন জেলেকে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃত অনেক জেলে সেই সহায়তা পাননি। বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তারা। এরপরও দেশের স্বার্থে এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে কেউ সাগরে যাননি বলে দাবি করেন জেলেরা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী স্থানীয় জেলেরা। তাদের প্রত্যাশা, জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে। ভালো মাছ পাওয়া গেলে চলতি মৌসুমে আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ধার-দেনা পরিশোধ করে পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে থাকার স্বপ্নও দেখছেন তারা।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রমও চালানো হয়েছে।

হাতিয়ার নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিস চন্দ্র সাহা খবরের কাগজকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছি। জেলেদের সচেতন করা হয়েছে এবং অধিকাংশ জেলে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেছেন। আশা করছি, এর সুফলে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি পাবে।

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সময় মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রায় ২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত মাছ ধরার ট্রলার গভীর সমুদ্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন হাতিয়ার জেলেদের একটাই প্রত্যাশা জালে ধরা পড়ুক ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ, ফিরে আসুক কর্মচাঞ্চল্য ও অর্থনৈতিক স্বস্তি।

সাকিব/নাঈম

২৮ ঘণ্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
২৮ ঘণ্টা পর মেঘনায় নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাবার জন্য খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হওয়া ছয় বছর বয়সী শিশু তামিমের মরদেহ ২৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের চর আতাউরের দক্ষিণে মেঘনা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর প্রায় পৌনে ২টার দিকে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশে মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তামিম ওই গ্রামের জেলে শাহাদাত হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও মাছ ধরতে মেঘনা নদীতে যান শাহাদাত হোসেন। দুপুরে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় তামিম। খাবার খাওয়ার পর শাহাদাত নদীর পাড়ে উঠে চা পান করছিলেন। এ সময় তামিম তার সমবয়সী এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে নদীর তীরে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে নদীতে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখে সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই দৌড়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে স্বজনরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি।

এরপর বুধবার (১০ জুন) সকালে ভোলা থেকে আসা ডুবুরি দল মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের চর আতাউরের দক্ষিণে মেঘনা নদী থেকে কোস্টগার্ড তামিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের নিজস্ব কোনো ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে বুধবার (১০ জুন) বিকেলে কোস্টগার্ড শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

হানিফ উদ্দিন সাকিব/অন্তরা