সিলেটে বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ করে তীব্র লোডশেডিংয় শুরু হয়েছে। প্রতি ১ ঘন্টা পরপর লোডশেডিংয় করার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়ায় সিলেটে গতকাল ৪০ শতাংশ লোডশেডিং করা হয়েছে। তবে আজ শুক্রবার হওয়াতে স্কুল কলেজ, অফিস-আদালতসহ সব বন্ধ থাকায় লোডশেডিং কম আছে।
এদিকে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষ বলছেন, সারা দেশজুড়েই এই সমস্যা হচ্ছে। সিস্টেম টিকিয়ে রাখতে এই লোডশেডিং করা হচ্ছে।
অপরদিকে এই তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব পড়েছে। গরম আর লোডশেডিংয়ে সিলেটের মানুষজনকে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রেস্তোরা , কফিশপ, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন খাবার দোকানের ব্যবসায়ীরা।
সিলেটের কুমারপাড়া, নয়াসড়ক, জিন্দাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার খাবার ব্যবসায়ীদের জানান, একদিকে ৭টার ভিতরে সব কিছু বন্ধ হওয়ার কারণে খাবারের দোকানে ক্রেতা অনেক কম। তারমধ্যে স্বল্প সংখ্যক ক্রেতারা রেস্তোরায় আসলেও তাদের অর্ডার ঠিকমত দেওয়া যায় না বিদ্যুৎ না থাকার ফলে। কারণ ভালমানের রেস্তোরাগুলোতে খাবার তৈরি হয় বিদ্যুৎ চালিত মেশিনারিজ দিয়ে। দেখা যায় গ্রাহক অর্ডার করেছেন আর বিদ্যুৎ চলে যায়। ১ থেকে দেড় ঘণ্টার লোডশেডিং হয় তাই গ্রাহকরা অর্ডার করেও চলে যায়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় সিলেটে পিডিবির চার জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২২৫ মেগাওয়াট। সাপ্লাই ছিল ১৮৫ মেঘাওয়াট। এবং লোডশেডিং ছিল ৪০ শতাংশ। প্রতি ঘন্টায় আমরা এই ডাটা পাই। এছাড়া লোডশেডিং কত ঘণ্টা হবে এটা আগে ঠিক করা যায় না। কারণ যদি পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ থাকে বা কিছু সমস্যা হয় তখন লোডশেডিং দেওয়া লাগে। আবার চাহিদার চেয়ে সাপ্লাই কম থাকলেতো লোডশেডিং করতেই হয়। কারণ আমাদেরকে সিস্টেম টিকিয়ে রাখতে হয় তা না হলে কান্ট্রিওয়াইজ ব্ল্যাক আউট হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এখন কি পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে আর কি পরিমাণ ঘাটতি আছে সেটা আমার জানার সুযোগ নেই।
আমি প্রতি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে যেহেতু বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে এলএনজি ব্যবহার করা হয় এবং সেটাও বাইরে থেকে কিনতে হয়। জ্বালানি তেল আসতেও পারছে না। এসব ক্রাইসিসের কারণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য আমাদের লোডশেডিং কিছু করতে হচ্ছে। এবং এই লোড ম্যানেজমেন্ট আমাকে করতে হয়।
শাকিলা ববি/অন্তরা