জামালপুরে দুই কিশোর-কিশোরীর প্রেমঘটিত বিবাদ এখন ২৫ পরিবারের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই পরিবারের দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘ ৫০ বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তায় ইটের দেয়াল তোলা হয়েছে। এতে গত ২৪ দিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ওই এলাকার ২৫টি পরিবারের অন্তত আড়াই শ মানুষ। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও সমাধান মিলছে না। তবে প্রশাসন বলছে, বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।
জানা গেছে, জামালপুর শহরের বেলটিয়া খুপিবাড়ী পলিসা এলাকায় মোকাদ্দেস হোসেনের ১৫ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে প্রেম ছিল একই এলাকার কবির হোসেনের ১৬ বছর বয়সী এক ছেলের। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ওই দুই কিশোর-কিশোরী পালিয়ে যায়। মেয়েকে না পেয়ে ১৪ ডিসেম্বর মোকাদ্দেসের স্ত্রী শারমিন আক্তার ওই কিশোরসহ তার বাবা-মাকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় অপহরণ মামলা করেন। পরে পুলিশ কিশোর-কিশোরীকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। আদালত মেয়ের জবানবন্দি শেষে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয় এবং ছেলের বাবা-মাকে কারাগারে পাঠায়। পরে ছেলের বাবা-মা তিন মাস জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে বের হয়েই বাড়ির সামনের রাস্তার ওপর দেয়াল তৈরি করেন। তার দাবি রাস্তাটি তার ব্যক্তিগত জমি।
এদিকে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাস্তা বন্ধ করায় স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছেন না। কেউ অসুস্থ হলেও সহজে হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না। মসজিদে যেতে সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক নারী বলেন, ‘রাস্তাটি বন্ধ থাকায় আমরা নারী ও শিশুরা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছি। স্কুল, হাসপাতাল কিংবা মসজিদ কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। তাদের পারিবারিক কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই। প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচারের দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘বেলটিয়া এলাকায় এক ব্যক্তির রাস্তা অবরোধ করার ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীরাও আমাদের অভিযোগ দিয়েছেন। এই বিষয়ে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এরই মধ্যে শুনানি করেছেন। আমাদের যে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তদন্ত করেছেন। বিষয়টির আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’