ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের এই বৃহত্তম যৌথ পরিবারে দৈনিক লাগে ৯০ কেজি চাল প্রতিশ্রুতি প্রদানে মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন স্পিকার ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক গানে আর ফিরবেন না রিংকু ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ শাড়ির নিচে লুকিয়েও রক্ষা পেলেন না তৃণমূল নেতা কুষ্টিয়ায় ধর্ষককে গণধোলাই নোয়াখালীতে জেলি মিশ্রিত চিংড়ি ধ্বংস, লাখ টাকা জরিমানা টেসলার রোবোট্যাক্সি সেবায় ধীরগতি সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং শত্রু-মিত্র খেলা
Nagad desktop

জামালপুরে প্রেমঘটিত বিবাদে ২৫ পরিবারের রাস্তা বন্ধ

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫ এএম
জামালপুরে প্রেমঘটিত বিবাদে ২৫ পরিবারের রাস্তা বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরে দুই কিশোর-কিশোরীর প্রেমঘটিত বিবাদ এখন ২৫ পরিবারের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই পরিবারের দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘ ৫০ বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তায় ইটের দেয়াল তোলা হয়েছে। এতে গত ২৪ দিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ওই এলাকার ২৫টি পরিবারের অন্তত আড়াই শ মানুষ। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও সমাধান মিলছে না। তবে প্রশাসন বলছে, বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে। 

জানা গেছে, জামালপুর শহরের বেলটিয়া খুপিবাড়ী পলিসা এলাকায় মোকাদ্দেস হোসেনের ১৫ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে প্রেম ছিল একই এলাকার কবির হোসেনের ১৬ বছর বয়সী এক ছেলের। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ওই দুই কিশোর-কিশোরী পালিয়ে যায়। মেয়েকে না পেয়ে ১৪ ডিসেম্বর মোকাদ্দেসের স্ত্রী শারমিন আক্তার ওই কিশোরসহ তার বাবা-মাকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় অপহরণ মামলা করেন। পরে পুলিশ কিশোর-কিশোরীকে উদ্ধার করে আদালতে পাঠায়। আদালত মেয়ের জবানবন্দি শেষে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয় এবং ছেলের বাবা-মাকে কারাগারে পাঠায়। পরে ছেলের বাবা-মা তিন মাস জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে বের হয়েই বাড়ির সামনের রাস্তার ওপর দেয়াল তৈরি করেন। তার দাবি রাস্তাটি তার ব্যক্তিগত জমি। 
 
এদিকে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাস্তা বন্ধ করায় স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছেন না। কেউ অসুস্থ হলেও সহজে হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না। মসজিদে যেতে সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক নারী বলেন, ‘রাস্তাটি বন্ধ থাকায় আমরা নারী ও শিশুরা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছি। স্কুল, হাসপাতাল কিংবা মসজিদ কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। তাদের পারিবারিক কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই। প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচারের দাবি জানাই।’
 
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘বেলটিয়া এলাকায় এক ব্যক্তির রাস্তা অবরোধ করার ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীরাও আমাদের অভিযোগ দিয়েছেন। এই বিষয়ে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এরই মধ্যে শুনানি করেছেন। আমাদের যে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তদন্ত করেছেন। বিষয়টির আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রবিবার (৭ জুন) নগরের টাইগারপাসস্থ বিন্নাঘাস প্রকল্প এলাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

এ লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চসিকের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নগরীর কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড-আইল্যান্ডে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হবে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।’

কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল-নদীতে গিয়ে জমা হয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয়, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা প্রমুখ।

রিফাত/

চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সিরাজউদ্দৌল্লা রোডের সাব-এলিয়া হয়ে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

রবিবার (৭ জুন) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

চসিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসানোর কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এ অবস্থায় জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সাব-এলিয়া হয়ে দেওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসা প্রায় ১৫০টি ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থান দখলমুক্ত করা হয়।

এ সময় ফুটপাত ও সড়কে দোকানের মালামাল ও নির্মাণসামগ্রী রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিফাত/

ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব
ছবি: খবরের কাগজ

ভোলা সদর উপজেলার গোরস্থান মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় আলোচিত গৃহবধূ মিতুর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

নিহতের পরিবারের দাবি, মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে আত্মহত্যার মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামকে তলব করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকন।

রবিবার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

নিহত মিতুর স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার ছিলেন। বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার আগের দিন রাতেও পারিবারিক কলহের জেরে তাকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঘটনার রাতে মিতুর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে মিতুর মা ও খালাতো বোনের ইমো নম্বরে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বার্তা পাঠানো হয়। সেই বার্তায় উল্লেখ করা হয়, মিতুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাঁচতে দেবে না। পরদিন সকালে মিতুর স্বামী সোহাগ তার শাশুড়িকে (মিতুর মা) ফোন দিয়ে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে বাসায় এসে মিতুর নিথর দেহ খাটে পড়ে থাকতে দেখে তার চিৎকারে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিতুর মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মরদেহ উদ্ধারের সময় মিতুর কপাল, বুক, হাত ও পায়ে ব্যাপক জখমের চিহ্ন দেখা গেছে বলে দাবি স্বজনদের। এ সময় মিতুর শ্বশুরবাড়ির কাউকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

নিহতের মা ও অন্যান্য স্বজনরা বলেন, ‘আমাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ সঠিক তদন্ত না করেই আত্মহত্যার মামলা রেকর্ড করেছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে পরিবারের আরও অভিযোগ, হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। তারা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

পরিবার আদালতে আবেদন করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য তলব করেছেন বলে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংকালে মিতুর আইনজীবী এ তথ্য জানান। আদালত পুলিশের ভূমিকা এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান বলেও জানিয়েছেন ওই আইনজীবী।

এ বিষয়ে জানতে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি ফোন নম্বরে কল দিলে ওসি (তদন্ত) জিয়াউদ্দিন জানান, ‘আদালতের তলবের আদেশ আমরা এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

উল্লেখ্য, গোরস্থান মাদরাসা-সংলগ্ন বাসা থেকে গৃহবধূ মিতুর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি ভোলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শুরু থেকেই নিহতের পরিবার ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছে। আদালতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর মামলাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং এখন সবার নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

ইমতিয়াজুর/রিফাত/

রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মো. আয়াছ (৬৫) খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধেচুয়াপালং তেলখোলা এলাকার মৃত আমিন মোহাম্মদ আলীর ছেলে। অভিযুক্ত তার বড় ছেলে মো. জুবায়ের (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জুবায়ের তার পিতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে মো. আয়াছ গুরুতর আহত হন।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুত্রের হাতে পিতার মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনায় তারা হতবাক। তারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “পিতাকে গুলি করার ঘটনাটি পুলিশ জেনেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জুবায়ের পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তারেকুর রহমান/এসএন

পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় পুকুরের পানিতে গোসল করতে গিয়ে আব্দুর রহিম (১৪) ও রাজিব হোসেন লাবিব (১৬) নামে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 

রবিবার (৭ জুন) দুপুরের উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহেবীজোত দশমাইল এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। 

নিহত আব্দুর রহিম ওই ইউনিয়নের শিতলী হাসনা এলাকার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে এবং লাবিব ওই ইউনিয়নের সাহেবীজোত এলাকার আশরাফুল ইসলামের ছেলে। 

তারা ওই ইউনিয়নের দশমাইল নুরানি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সাতমেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘রবিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার দক্ষিণ সাহেবীজোত দশমাইল এলাকায় সাড়ে ১২ টার দিকে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে তারা সাঁতার না জানায় পুকুরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা পুকুরের গভীর পানি থেকে ডুবন্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’  

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম পুকুরের পানিতে গোসল করতে গিয়ে দুই মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।’

রনি মিয়াজী/রিফাত/