নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ডাকাতি নয়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ড কোনো ডাকাতি বা দস্যুতা ওই রকম ঘটনা মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি পরিবার সংক্রান্ত বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হতে পারে। যে গৃহবধূ মারা গেছেন তার কানে এখনো গহনা (দুল) রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিআইডি ও পিবিআইসহ পুলিশের তিনটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।’
এদিকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন, বোন ডালিমা ও হালিমা এবং ভাগনে সবুজ রানা।
এর আগে, গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মরদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে আগেও তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন। তিনি জানান, রাত ৯টার দিকে খাবার খেয়ে আলাদা একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করতে উঠে দেখেন বাড়ির আঙিনায় পুত্রবধূ পপি সুলতানার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। এরপর ছেলের শোবার ঘরের ভেতর গিয়ে দেখেন ছেলে হাবিবুর, নাতি পারভেজ ও নাতনি সাদিয়ার গলাকাটা মরদেহ পড়ে আছে। এরপর বাড়ির বাইরে এসে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন তিনি।
কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানাসহ আরও কয়েকজন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা তার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
শফিক/এসজি/