তীব্র গরমের মধ্যে কুষ্টিয়ায় চলছে বিরামহীন লোডশেডিং। শহরে কিছুটা সহনীয় থাকলেও গ্রামের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, ব্যবসা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চরম লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ।
এদিকে এখন বোরো মৌসুমের ভরা সময়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ডিপ টিউবওয়েল চালানো যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজেলসংকট। ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বোরো আবাদে বিরুপ প্রভাব পড়ছে।
পৌর এলাকা পেরোলেই ভয়াবহ পরিস্থিতি। জেলার মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর ও কুমারখালী উপজেলায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ার গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, আমরা তো গ্রামে বাস করি, তাই আমাদের মানুষ মনে করে না? দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘরের ভেতরে টেকা যায় না, আবার বাইরে গেলেও স্বস্তি নেই।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে মনিরুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, ‘বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায়, তার কোনো ঠিক নেই। একবার গেলে অনেক সময় পর আসে। তীব্র গরমে ছোট বাচ্চা আর বয়স্কদের নিয়ে চরম বিপদে আছি।’
মিরপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দীন বলেন, ‘মাঠে বোরো ধানে নিয়ম করে পানি দিতে হয়। কিন্তু বিদ্যুতের যে আবস্থা, তাতে ঠিক মতো পানি দিতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে মাটি শুকিয়ে ধান গাছের গোড়া মরে যাবে।’
পাশের গ্রাম গোপালপুরে ছোট একটি দোকানে চা-বিস্কুট ও কিছু মুদি পণ্য নিয়ে ব্যবসা করেন হায়দার আলী। তিনি বলেন, ‘কারেন্ট না থাকলে বাজারে লোক আসে না। এই গরমে একেবারে নিরুপায় হয়ে কিছু মানুষ আসে প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে। কারেন্ট থাকলে দোকানে এসে লোকজন আড্ডা দেয়, বেচাকেনাও হয়।’
লোডশেডিংয়ের কারণে পোলট্রি খামার, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এদিকে জেলার তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ সেলসিয়সের মধ্যে ওঠানামা করছে। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিএম আরিফুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। এতে গ্রিড উপকেন্দ্রগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এলাকাভিত্তিক সুষম বণ্টন বজায় রাখতে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ না বাড়লে এ সংকট পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। আশা করছি, আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।