খুলনার জ্বালানি তেল পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল পাওয়া গেছে। গতকাল সকালে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল চালকদের কিছুটা ভিড় দেখা যায়। বেলা ১১টার পর থেকে গ্রাহকের সংখ্যা কমতে থাকে। পরে ফিলিং স্টেশনে তেল থাকলেও তেমন আগ্রহী গ্রাহক দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ডিজেলের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কিছু জায়গায় ডিজেলের ঘাটতি রয়েছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। গত দুই দিনে তারা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পেরেছেন। ফলে আগের মতো চাপ নেই। গ্রাহকের সংখ্যাও কমেছে। তাদের মতে, গ্রামাঞ্চলের প্যাকড পয়েন্টগুলোতে আগের মতো সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।
জানা যায়, খুলনার তিনটি ডিপো থেকে স্বাভাবিক সময়ে খুলনা, যশোর ও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ১৩টি জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৩৮ লাখ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে ১৭ থেকে ১৮ লাখ লিটার তেল গ্রামাঞ্চলের প্যাকড পয়েন্টে যেত। যেখানে ফিলিং স্টেশন নেই, সেখানে এসব পয়েন্ট থেকে তেল বিক্রি হতো। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক মাস বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সিদ্ধান্তে প্যাকড পয়েন্টে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়া শুরু হয়। ফলে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে প্রতিদিন দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে চালকদের।
পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ডিপো থেকে সরবরাহও বাড়ানো হয়। এখন আবার প্যাকড পয়েন্টগুলোতে তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। ফলে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাপ কমেছে।
নগরীর মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ডিপো থেকে গ্রামাঞ্চলে প্যাকড পয়েন্টগুলোতে তেল সরবরাহ না করায় পরিস্থিতি জটিল হতে থাকে। শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় বাড়ে। এখন ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে।’