মৌলভীবাজারের চা-শিল্পে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ছায়া বৃক্ষ নিধনের ঘটনা। চা-গাছের সঠিক বৃদ্ধি ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সম্প্রতি এগুলো নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে করে দীর্ঘ মেয়াদে বাগানের উৎপাদনশীলতা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা-বাগানে একের পর এক ছায়া বৃক্ষ চুরি ও কাটার ঘটনা ঘটছে, যা বাগান কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেউন্দি টি কোম্পানি লিমিটেডের অধীন এই বাগানটি স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও অবদান রাখে।
বাগান সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এই বাগান থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব চুরির ঘটনায় বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। চলতি বছরের ২ এপ্রিল তিনটি এবং ১৬ এপ্রিল একটি ছায়া বৃক্ষ চুরি হয়। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার গভীর রাতে বড় ঘটনা ঘটে। বাগানের ১৮ থেকে ২০ নম্বর সেকশনের প্রধান সড়কের দুই পাশ থেকে সদ্য লাগানো ৭১টি একাশিয়া প্রজাতির ছায়া গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তবে রহস্যজনকভাবে গাছগুলো না নিয়ে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকিদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তারা কোনো সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেনি। পরে বাগান কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের নামের তালিকাসহ কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।
বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বাগানটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী সালাহউদ্দিন শুভ বলেন, ‘একটি ছায়া গাছ বড় হতে কয়েক বছর লাগে। কিন্তু কেটে ফেলতে লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। এই ধরনের অপরাধ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, পরিবেশের জন্যও বড় হুমকি।’ তাই জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মিরতিংগা চা-বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী জানান, চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
মিরতিংগা চা-বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) জানান, ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বাগান পঞ্চায়েত ও শ্রমিকরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন। তিনি বলেন, ‘চা-শিল্প রক্ষায় দ্রুত ছায়া বৃক্ষ নিধন বন্ধ করা জরুরি।’