ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে হাসপাতালের সরবরাহ করা নিম্নমানের খাবার ও ওষুধসংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- সরকারি বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এতে নির্ধারিত বেডের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ফলে অনেককেই মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি খাদ্যের মান নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- ভাত মোটা, মাছ নিম্নমানের এবং অনেক সময় খাবার খাওয়ার উপযোগী থাকে না।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর অভিভাবক আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চা তিন দিন ধরে ভর্তি। খাবার যা দেয়, সেটা ঠিকমতো খাওয়ানো যায় না। ভাত শক্ত, মাছের মান খুবই খারাপ।’
বিরল থেকে আসা আরেক স্বজন ময়মনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চার দিন ধরে হাসপাতালে আছি। সকালে ডিম-রুটি দেয়, কিন্তু মান ভালো না। ভাত-মাছও নিম্নমানের। রোগীর জন্য এসব খাবার একদমই উপযুক্ত না।’
এদিকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের রোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খাবারের মান খারাপ, ভাত মোটা আর মাছ ঠিকমতো রান্না করা হয় না। অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার আনতে হয়।’ একই অভিযোগ করেন মহিলা ওয়ার্ডের রোগী হাসিনা বেগম। তার ভাষ্য, কোনোরকম চিকিৎসা চলছে। খাবারের মানও সন্তোষজনক না।
শুধু খাদ্য নয়, ওষুধ সংকটের অভিযোগও রয়েছে। অনেক রোগীকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করি। বড়দের জন্য ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, রুটি, কলা এবং শিশুদের জন্য দুধ, ডিম, রুটি দেওয়া হয়। রান্না হাসপাতালের নিজস্ব রান্নাঘরেই করা হয়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি রোগীর জন্য সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আমরা নিয়মিত খাবারের মান তদারকি করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মান বজায় রাখা হয়, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।