ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাপ্তাহিক ২দিন ছুটিসহ নগদে চাকরির সুযোগ আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন How to learn English বিষয়ক Writing Paragraph, ৩০তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ তারার দেশে সাইকেল যাত্রা মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা জিরা জব্দ সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফাইনালে যে একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন রবিবার
Nagad desktop

দিনাজপুরে নিম্নমানের খাবার ও বেড-সংকটে চলছে চিকিৎসাসেবা

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০০ এএম
দিনাজপুরে নিম্নমানের খাবার ও বেড-সংকটে চলছে চিকিৎসাসেবা
দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের ভিড়। মায়ের কোলে বসে অক্সিজেন গ্রহণ করছে অসুস্থ এক শিশু। ছবি: খবরের কাগজ।

ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে হাসপাতালের সরবরাহ করা নিম্নমানের খাবার ও ওষুধসংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- সরকারি বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। এতে নির্ধারিত বেডের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ফলে অনেককেই মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি খাদ্যের মান নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- ভাত মোটা, মাছ নিম্নমানের এবং অনেক সময় খাবার খাওয়ার উপযোগী থাকে না।

শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর অভিভাবক আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চা তিন দিন ধরে ভর্তি। খাবার যা দেয়, সেটা ঠিকমতো খাওয়ানো যায় না। ভাত শক্ত, মাছের মান খুবই খারাপ।’

বিরল থেকে আসা আরেক স্বজন ময়মনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চার দিন ধরে হাসপাতালে আছি। সকালে ডিম-রুটি দেয়, কিন্তু মান ভালো না। ভাত-মাছও নিম্নমানের। রোগীর জন্য এসব খাবার একদমই উপযুক্ত না।’

এদিকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের রোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খাবারের মান খারাপ, ভাত মোটা আর মাছ ঠিকমতো রান্না করা হয় না। অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার আনতে হয়।’ একই অভিযোগ করেন মহিলা ওয়ার্ডের রোগী হাসিনা বেগম। তার ভাষ্য, কোনোরকম চিকিৎসা চলছে। খাবারের মানও সন্তোষজনক না।
শুধু খাদ্য নয়, ওষুধ সংকটের অভিযোগও রয়েছে। অনেক রোগীকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করি। বড়দের জন্য ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, রুটি, কলা এবং শিশুদের জন্য দুধ, ডিম, রুটি দেওয়া হয়। রান্না হাসপাতালের নিজস্ব রান্নাঘরেই করা হয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি রোগীর জন্য সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আমরা নিয়মিত খাবারের মান তদারকি করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মান বজায় রাখা হয়, তবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
বাসচালক ঝন্টু আলী। ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮) ও হেলপার শাকিব হোসেনকে (২২) আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীরা নেমে ফেরির দিকে হাঁটতে থাকেন।

এরপর চালক ঝন্টু আলী বাসটি বেপরোয়াভাবে চালিয়ে নির্ধারিত ফেরির পরিবর্তে পাশের ‘করবী-অক্সফ্যাম’ ফেরিতে তুলে ফেলেন। পরে ফেরির শেষ প্রান্তের র‍্যাম্পে সজোরে ধাক্কা লাগলে র‍্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

ঘটনার সময় সুপারভাইজার ও হেলপার লাফিয়ে ফেরিতে উঠে প্রাণ রক্ষা করেন। পরে চালককে নদী থেকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এতে ফেরির র‍্যাম্প, ক্যাবল ও যাত্রীদের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবমিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তিন আসামিকে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

মেহেদী হাসান/রিফাত/

শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য
মাটির নিচ থেকে ধোঁয়া উঠছে। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে অন্তত ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জায়গাটিতে মাটি খোঁড়া হলে সেখান থেকে ধোঁয়া ওঠা শুরু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি অংশে মাটি স্পর্শ করলেই তীব্র তাপ অনুভূত হয়। পরবর্তীতে তাপমাত্রা না কমলে এবং স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা প্রাথমিকভাবে তারা ওই এলাকায় মাটির নিচে গর্ত করে পানি দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে এখন পর্যন্ত তাপের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলের আশপাশে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, প্রথমে বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, খবর পেয়ে আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে বিদ্যুতের কোনো ত্রুটি বা লিকেজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। উত্তপ্ত স্থানে বারবার পানি দিয়েও তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মাটির নিচ থেকে তাপ অনুভূত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে তাপের উৎস সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, রহস্যজনক এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান করা হবে।

বিধান/নাঈম

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পড়ে মিছিলকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডবলমুরিং থানা পুলিশ। অভিযানে দুইটি যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

তিনি বলেন, গত ৫ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে বন্দর থানাধীন বারেক বিল্ডিং এলাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে একটি মিছিলের তথ্য পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা যাত্রীবাহী বাসে করে এসে মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে সমবেত হয় এবং মিছিল শুরু করে।

পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অংশগ্রহণকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি যাত্রীবাহী বাস, ১০টি লাঠি, ৪টি সাদা কাপড়ের টুকরা এবং ১৩টি ইটের টুকরা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান এসি আমিনুর রশিদ।

পুলিশ জানায়, মিছিলে অংশ গ্রহণকারী, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডসহ রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

প্রেপ্তাররা হলেন, হালিশহর থানা যুবলীগের সভাপতি মো. ওমর ফারুক(৪৪)। যুবলীগ নেতা সাকিবুল ইসলাম(২২), ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ রেজাসহ (৩২) যিশু দাশ(৪৫), মো. সাইফুল আলম রুবেল (৪১), মো. শরিফুল ইসলাম(২৩), মো. ইব্রাহিম খলিল(৩৩), মোহাম্মদ মিন্টু (৪৫), জোবায়ের আহমেদ নীরব (২৫), মো. মনিরুল ইসলাম (৪৩), মো. হান্নান (৪৩), মো. জুনাইদুল আলম তাসনুপ (২৩) ও কর্ণফুলি থানা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ও ইউপি মেম্বার পদপ্রার্থী মো. ইরফান (৩২)। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাঈম/

দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮) ও হেলপার শাকিব হোসেনকে (২২) আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীরা নেমে ফেরির দিকে হাঁটতে থাকেন।

এরপর চালক ঝন্টু আলী বাসটি বেপরোয়াভাবে চালিয়ে নির্ধারিত ফেরির পরিবর্তে পাশের ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরিতে তুলে ফেলেন। পরে ফেরির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা লাগলে র্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

ঘটনার সময় সুপারভাইজার ও হেলপার লাফিয়ে ফেরিতে উঠে প্রাণ রক্ষা করেন। পরে চালককে নদী থেকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এতে ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও যাত্রীদের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবমিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তিন আসামিকে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

মেহেদী হাসান/এসএন

আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তসংলগ্ন মায়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির গুলিতে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। পরে তিনি সীমান্তে এসে পৌঁছালে বিজিবির সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (৬ জুন) বিকেল ৫টায় উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে উখিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন টেকনাফের হোয়াইক্যং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ছোটবিল পোস্টের কাছে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উপস্থিত হন মো. আইয়ুব (২৮)। তিনি উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৪-এর ব্লক-৪-এর বাসিন্দা।

আহত আইয়ুব বিজিবিকে জানান, গত ৫ জুন মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে মায়ানমারের অভ্যন্তরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের বগারদিয়া এলাকায় যান। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি আহত হন। পরে আহত অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালে বিজিবির সহযোগিতায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিজিবি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে কেউ যেন মায়ানমারে প্রবেশ না করে, সে বিষয়ে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও নজরদারিতে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে।

শাহীন/রিফাত/