ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল যে বই কেউ ছাপতে চায়নি সেই বইয়ের বুকার জয় ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড় গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক কর্মস্থলে গরমে হাঁসফাঁস ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা ভূঞাপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, মাইকিং করে ফের সংঘর্ষের ঘোষণা পর্যটন খাতে তাপের প্রভাব বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি নাটোরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ফেনীতে প্রখর রোদে দুর্ভোগে খেটে খাওয়া মানুষ বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
Nagad desktop

লক্ষ্মীপুরে মাদককে কেন্দ্র করে এক বছরে ২০ খুন

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ এএম
লক্ষ্মীপুরে মাদককে কেন্দ্র করে এক বছরে ২০ খুন
লক্ষ্মীপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস। ইনসেটে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন। ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুরে মাদক কারবার ও সেবনকে কেন্দ্র করে গত এক বছরে (গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত) শিশুসহ ২০ জন খুন হয়েছে। একই সময়ে গুলিবিদ্ধসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন ৫০ জন। জেলার এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে মাদক পাওয়া যায় না। বলা যায়, মাদকের ওপর ভাসছে লক্ষ্মীপুর। যতই দিন যাচ্ছে জেলায় মাদকসেবী ও বিক্রেতার সংখ্যা ততই বাড়ছে। আর মাদককে কেন্দ্র করে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংসহ নানা ধরনের অপরাধ। মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারের ফলে সচেতন বাবা-মা তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। 

লক্ষ্মীপুরের থানা ও ডিবি পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে প্রতিদিনই মাদক উদ্ধার ও কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে থাকে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয় না। আইনের নানা ফাঁকফোকর দিয়ে মাদক কারবারিরা বেরিয়ে এসে আবার একই কারবারের জড়িয়ে পড়ে। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৪৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১১৬টি এবং ১২৫ মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে আটক করেছে। অন্যদিকে গত এক বছরে (গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত) অসংখ্য অভিযান চালায় এবং ২৮৪টি মামলা করে ৩৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

তথ্য অনুসন্ধানকালে জানা যায়, জেলায় রাজনৈতিক শেল্টারে মাদক বিক্রি হচ্ছে। মোবাইল ফোনে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপর বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়ে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার গ্রামগুলোয় ফেরি করে, রিকশায়, মোটরসাইকেলে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। এসব সেবনে নেশায় ডুবছে তরুণরা। 

লক্ষ্মীপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে মাদকের কারবার নিয়ে জেলায় ২০ জন খুন হয়েছে। তাদের হিসাবমতে, জেলায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ৪২ জন। এদের মধ্যে গডফাদার আটজন। এজেন্ট ১৩ জন আর পাইকারি বিক্রেতা রয়েছে ১৯ জন। এদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। 

অপর একটি সূত্রে জানা যায়, জেলায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত এক বছরে কমপক্ষে গুলিবিদ্ধসহ ৫০ জন আহত হন। 

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় একসময় গাঁজা ও ফেনসিডিলের আধিক্য থাকলেও এখন ফেনসিডিল নেই বললেই চলে। সে স্থান দখল করে নিয়েছে ইয়াবা। কক্সবাজার থেকে সড়ক ও নদীপথে আসে ইয়াবা। আর ভারত থেকে কুমিল্লা বর্ডার দিয়ে আসে গাঁজা। লক্ষ্মীপুর পৌঁছাতে এ মাদক কয়েক হাত বদল হয়ে থাকে। 

মাদক কারবারিদের একটি সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ভোলা ও চাঁদপুরেও পাচার হয়। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের সড়কপথে কোনো প্রকার তল্লাশি না থাকায় এবং রাত ১০টার পরে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি না থাকায় মাদক কারবারিরা নিরাপদে মাদক পরিবহন করতে সক্ষম হচ্ছে।

গত জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মোট ৫৪৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এতে মোট মামলা হয়েছে ১১৬টি এবং ১২৫ জন মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৪ হাজার ১৩২ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ২৫ বোতল মদ, ২০ হাজার টাকা, ৯টি মোবাইল, ১টি মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত একটি রিকশা, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ ও ৪টি কার্তুজসহ ১টি দেশীয় পাইপগান।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ বিভাগ জানান, গত এক বছরে অভিযানে ১৮ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা, ৫ মণ গাঁজাসহ বেশকিছু বিদেশি ও চোরাই মদ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ২৮৪টি মামলায় ৩৭৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

এদিকে গত ১২ এপ্রিল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় একাধিক সদস্য মাদকের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থাপন করেন। রাজনৈতিক মদদ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘ম্যানেজের’ কারণে আশানুরূপ সুফল আসছে না বলেও সভায় অভিযোগ করা হয়।

গত এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সম্প্রতি খুন হন রায়পুর কলেজের এক ছাত্র। এ ঘটনার শুরু হয়, রায়পুরের হায়দারগঞ্জ এলাকায়। পুলিশ ওই এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এই গ্রেপ্তারে ইনফরমারের ভূমিকা পালন করেছেন ওই কলেজছাত্র, এমন সন্দেহে আসামিরা জামিনে এসে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুরে ঘরের দরজা তালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দুই সন্তানসহ মাকে হত্যা, রামগতির চরকলাকোপা গ্রামে পুত্রবধূ ও শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা অন্যতম। তা ছাড়া সদর উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামে ছেলের হাতে মা, উত্তর টুমচর গ্রামে ভাইয়ে হাতে ভাই খুন হন। গত বছরের ১৫ নভেম্বর চন্দ্রগঞ্জে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির নেতা জহিরকে গুলি করে হত্যা এবং উত্তর জয়পুরে মাদকের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৭ জানুয়ারি ফজলে রাব্বি বাবু বন্ধুদের হাতে খুন হন। এছাড়া মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে তেয়ারীগঞ্জ এলাকায় নিজের কন্যাশিশুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বাবা।

এছাড়া গত বছরের ১ জুনে মাদক কারবারের দ্বন্দ্বে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুরে আজাদ হোসেন বাবলু নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। ১১ জুন রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী গ্রামে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা আলী দেওয়ানকে কুপিয়ে হত্যা করে তার ছেলে মামুন। ১১ এপ্রিল সদরের পূর্ব চৌপল্লী গ্রামে মাদক কারবারি রুবেল হোসেন নামে একজনকে গুলি করা হয়। গত ৯ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর উত্তর তেমুহনীর নিউ মার্কেটের ছাদে গাঁজা সেবনকালে কলেজছাত্র সিরাজকে নিচে ফেলে দেয় তার তিন বন্ধু। ঢাকায় নেওয়ার পথে সে মারা যায়। স্বামীকে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় ১৫ মার্চ রাতে পৌরসভার কালু হাজী সড়কের ভাড়া বাসায় ঘুমন্ত স্ত্রী রিনা বেগমের দুই পায়ের রগ কেটে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম ও পাথর দিয়ে হাত-পা থ্যাঁতলে দেয় তার স্বামী আলমগীর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রায়পুর ও সদর উপজেলার তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান ও চারজন রাজনৈতিক ব্যক্তি জানান, গ্রামেও এখন রাজনৈতিক মদদে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা বিক্রি হচ্ছে। মোবাইলফোনে বিক্রেতার সঙ্গে চুক্তি করে চলার পথে মাদক হাতবদল হয়। বিকাশেও টাকা লেনদেন হচ্ছে।

রায়পুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম মিন্টু বলেন, মাদক কারবারিরা রাতারাতি কোটিপতি হয়। এ লোভ অন্যদেরও টানে। মামলার দুর্বলতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে ফের কারবার করছে। এ নিয়ে আমরা লেখালেখি করলেও লাভ নেই।

লক্ষ্মীপুর জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, মাদকরোধে আইনের শাসন আর রাজনীতিবিদদের অঙ্গীকার প্রয়োজন। এ কারবারর সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই জড়িত থাকার কথা শোনা যায়। মাদক কারবারিরা রাতারাতি কোটিপতি হয়। এ লোভ অন্যদেরও টানে। এ সংকট রুখতে পারিবারিক-সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি নৈতিকতা-মূল্যবোধ জাগ্রত করার তাগিদ দিতে হবে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন বলেন, লক্ষ্মীপুরে মাদকের ব্যবহার ও বিক্রি আগের চেয়ে তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে। রাজনৈতিক মদদে অনেকে এ কারবার করছেন। তবে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। পাশাপাশি বর্ডার এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি মাসেই আমরা স্কুল-কলেজে আলোচনা সভা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা করছি। তবেই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লক্ষ্মীপুরে মাদক নির্মূল সম্ভব হবে মনে করছি।

পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দিলেও মানুষ আদালতে সাক্ষ্য দেয় না। মাদক নির্মূলে পুলিশ আপসহীন। 

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি  আরও ১৯ শিশু
ছবি: খবরের কাগজ

হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও ১৯টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোট ৮৯টি শিশু।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ৫ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৮৭১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৩টি শিশু। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৭৩৬টি শিশু। সেখানে এ পর্যন্ত মোট ৪৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কামরুজ্জামান/আমান

বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল
হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাতে ব্রয়লার মুরগির শরীরে ঠাণ্ডা পানি স্প্রে করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

জ্যৈষ্ঠের খরতাপে পুড়ছে পাবনা। প্রখর রোদ, তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কয়েক দিন ধরে চলা এই তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ খেটে খাওয়া মানুষ। গত সোমবার পাবনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ছিল ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৫০ শতাংশে পৌঁছালে গরমের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নেয়।

এমন অবস্থা গত এক সপ্তাহ ধরে। বাতাসে যেন আগুনের হলকা বইছে। তপ্ত রোদে মাঠে এক বেলার বেশি কাজ করতে পারছেন না কৃষি শ্রমিকরা। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পাবনায় অসহনীয় ভ্যাপসা গরমের মূল কারণ বাতাসে আর্দ্রতার উচ্চ পরিমাণ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তখন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫০ শতাংশ। পরদিন মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলেও বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪ শতাংশে, যার ফলে গরমের অস্বস্তি আরও প্রকট হয়। সর্বশেষ বুধবার তাপমাত্রা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

এদিকে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় দিনভর দাবদাহের পর রাতেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। তীব্র গরমে ঘাম ঝরছে অবিরাম। বিদ্যুৎচালিত পাখার বাতাসেও স্বস্তি মিলছে না। দুপুরের দিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষি শ্রমিক ও দিনমজুররা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিল গ্যারকা পাড়ের চাষি আবুল হোসেন কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘সকাল ১০টার পর আর মাঠে কাজ করতে পারছি না। অতিরিক্ত গরমে অনেক কৃষক ও শ্রমিক ফসলের মাঠে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফসল বিক্রির সময় নানা কথা ওঠে, কিন্তু এই কষ্টের দাম কেউ দেয় না।’

সাঁথিয়া উপজেলার কৃষি শ্রমিক বাবু আলী বলেন, ‘যে তাপমাত্রা, তাতে এক বেলা কাজ করাই কঠিন। আমরা দিনমজুর মানুষ, কাজ করতে না পারলে সংসার চলে না।’

তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যেও। শহরের কাপড় ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন বলেন, ‘ক্রেতারা দোকানে এসে বেশিক্ষণ থাকতে চান না। গরমে অনেক সময় তারা না কিনেই ফিরে যান।’ একই সুর শোনা গেল মুদি দোকানি রফিকুল ইসলামের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘বেচাকেনা আগের চেয়ে অর্ধেক কমে গেছে।’

তবে এই গরমে চাহিদা বেড়েছে ডাব, শরবত ও হাতপাখার। পাবনার পাঁচমাথা মোড়ের ডাব বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, ভ্যাপসা গরমে ডাব ও ঠাণ্ডা শরবত বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। জেলার অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র কাশীনাথপুরের হাতপাখা বিক্রেতা আফজাল হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক দিনে গরমে অতিষ্ঠ মানুষের কাছে তার হাতপাখা বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে।’ অন্যদিকে বনগ্রাম বাজারের ওষুধ বিক্রেতা আবু জাফর খান জানান, বাজারে এখন খাবার স্যালাইন, জ্বর ও ডায়রিয়ার ওষুধের বিক্রি অনেক বেশি। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরম বিঘ্নিত হচ্ছে। কাশীনাথপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন হাসান আক্ষেপ করে বলে, সকাল-বিকেল বা রাতে যখনই পড়তে বসি, তখনই ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হতে হয়। ঘামতে ঘামতে পড়ার টেবিলে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আতাইকুলার মুরগি ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন জানান, মুরগিগুলো রাতে ছটফট করে। ফলে আমাদেরও জেগে থাকতে হয়। দিনের গরমও মারাত্মক। তাই সব সময় বৈদ্যতিক পাখা চালাতে ও পানি স্প্রে করতে হচ্ছে। বামনডাঙ্গা গ্রামের গো-খামারি আরজু প্রধান বলেন, ‘খামারের গরুকে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাতে বারবার পানি দিয়ে গোসল করাচ্ছি। পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা পানি ও স্যালাইন খাওয়াচ্ছি।’

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস পদ্মায় পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাসের চালক ও তার সহযোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে  বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস থেকে যাত্রী নামানো অবস্থায় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। 

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বাস পদ্মায় ডুবে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৩ নম্বর পল্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাঈম/

চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ওমর আলী (৫৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর ৪টার দিকে নতিপোতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওমর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ মে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিশু সন্তানকে নিয়ে আসার কথা বলে শ্বশুর ওমর আলী পুত্রবধূর ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের কাছে ঘটনার বিচার না পেয়ে ওই নারী ২১ মে বাবার বাড়ি রংপুরে চলে যান। পরদিন ২২ মে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

১৫ দিন পর বুধবার (৩ জুন) রাতে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় শ্বশুর ওমর আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়। মামলার পরপরই বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

তবে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই নারী মিথ্যা মামলা করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে কন্যা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে হয়রানি করেছিলেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে ওমর আলীর ছেলে আব্দুস সালাম ওই নারীকে তালাক দেন। এরপরও তিনি জোরপূর্বক স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। এ ছাড়াও কিছুদিন আগে ওই নারী আলমডাঙ্গা এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মিজানুর রহমান/থিও

খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়
ছবি: খবরের কাগজ

তীব্র তাপপ্রবাহে খুলনায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হিটস্ট্রোকের মতো গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। উপচে পড়া রোগীর চাপ সামলাতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি শ্রমজীবী ও বয়স্কদের মধ্যে হিটস্ট্রোকের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জানা যায়, খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের শয্যা সংখ্যা ২৭৫টি। প্রতিদিন সকালে ২০-২৫টি শয্যা খালি হলেও অপেক্ষমাণ রোগী থাকে ৪০-৫০ জন। দুপুরের পর আর কোনো শয্যা খালি পাওয়া যায় না। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেককে ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। এর বাইরে বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে আরও ৭০০-৮০০ শিশুরোগী। তাদের অধিকাংশই জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগীর চাপ বাড়ছে। হিটস্ট্রোকজনিত অসুস্থতা সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ জানান, গরমে শিশু ও বয়স্করা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এতে জ্বর ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গরমের কারণে ঘাম বেশি হচ্ছে, ফলে শরীরে পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। শিশুদের শরীরে জ্বর থাকছে ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত। গরমে ফুড পয়জনিংয়ের কারণে ডায়রিয়া হচ্ছে।

এদিকে গরমের সময় শারীরিক সুস্থতায় প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, শিশুদের রোদে যেতে না দেওয়া ও পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন পান করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ২০২৩ সালে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালে তিন ধাপে সেই রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, ভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহারে তাপ নিঃসরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলেও তাপমাত্রা বাড়ছে।