লক্ষ্মীপুর জেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৯টি ইউনিয়নের নিজস্ব ভবন না থাকায় পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ভাড়া বাসা ও দোকান ভাড়া নিয়ে। সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
ইউনিয়নগুলোর কোনটির ৩০ বছর আবার কোনটির ২০ বছর ধরে নিজস্ব ভবন নেই।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারসূত্রে জানা যায়, বার বার ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের ভবনগুলো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।
ইউনিয়ন পরিষদগুলো হলো- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া, দক্ষিণ হামছাদী, দালাল বাজার, চর রুহিতা, বাঙ্গাখাঁ, শাকচর, টুমচর, চর রমণী মোহন, কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি, সাহেবের হাট, চর লরেঞ্চ, পাটোরীর হাট, হাজিরহাট, তোরাবগঞ্জ, রামগতি উপজেলার চর আলগী, চর আবদুল্লাহ, চর বাদাম, বড়খেড়ী এবং রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন।
গত ৩০ বছর ধরে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের কার্যক্রম চলছে একটি দোকানে। একই অবস্থা টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের। ২০ বছর থেকে চেয়ারম্যানের বাড়ির দরজার টিনের কাচারি ঘরেই চলছে কার্যক্রম।
পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই, নথিপত্র রাখার নিরাপদ ব্যবস্থাও নেই। শৌচাগার পর্যন্ত নেই কার্যালয়টিতে। গ্রাম আদালত পরিচালনার সময় দেখা যায়, বাদী-বিবাদীসহ ১০ জন ভেতরে অবস্থান করছেন। বাইরে অপেক্ষা করছেন ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ।
দালাল বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পরিষদের কার্যালয় বলতে বাজারের ভেতর ছোট একটি দোকানঘর। যাতে মানুষের দাঁড়ানোর জায়গাও ঠিকমতো হয় না। সেবা নিতে রোদ-বৃষ্টিতে বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। শৌচাগারে যাওয়ার জরুরি প্রয়োজন হলে আশপাশের বাসাবাড়ি খোঁজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। দ্রুত আমরা এর সমাধান চাই।
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বহুবার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। চার হাজার টাকায় দোকানঘর ভাড়া নিয়ে পরিষদ কার্যালয় চালাচ্ছি। গ্রাম আদালত চলাকালীন অধিকাংশকেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়গুলোয় ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা কোনোরকমে ছোট কক্ষ নিয়ে চালাচ্ছেন তাদের কার্যক্রম। এতে জন্ম ও মৃত্যু সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে গ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেবাগ্রহীতাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই আমরা রিপোর্ট পাঠাব। ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সরকার কোনো জমি অধিগ্রহণ করে না। এটা পরিষদের কিংবা স্থানীয়দের দিতে হয়, জায়গা পেলে সরকারের প্রকল্পের অধীনে ভবন করা হবে।
রফিকুল/আমান