মেহেরপুর জেলার ৭২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রান্তিক অঞ্চলের অসচ্ছল মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। একসময় যে ক্লিনিকগুলো ছিল তাদের একমাত্র ভরসা, এখন সেই সেবাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরকারিভাবে এসব ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ২৭ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে জেলার সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার ক্লিনিকগুলোতে একটি ওষুধও নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে নিয়মিত সেবা মিললেও এখন দায়সারাভাবে চলছে। বেশির ভাগ ক্লিনিক বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। এ ছাড়া কোথাও খোলা থাকলেও ওষুধ নেই। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা।
রামনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন গৃহবধূ শেফালী খাতুন। তিনি বলেন, ‘ঠাণ্ডা, জ্বরসহ ছোটখাটো অসুখ হলে এখান থেকেই আমি ওষুধ নিতাম। অনেক দিন ধরে আর ওষুধ দিচ্ছে না। ওষুধের খোঁজ নিতে মাঝেমধ্যে এলেও বলা হয়, এখনো আসেনি।’
গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রতিনিয়ত সেবা নেন আজাদ প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘সাড়ে ছয় মাস ধরে এখান থেকে কোনো ওষুধ পাই না। ওষুধ নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়। কবে ওষুধ আসবে তাও বলতে পারে না।’
একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেবাপ্রত্যাশী সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘আগে বিনা পয়সায় ওষুধ পাওয়া যেত। এখন শুধু রোগ শুনে প্রেসক্রিপশন দেন। পরে বাইরে থেকে কিনতে হয়।’
এদিকে ওষুধের সংকটের পাশাপাশি নিজেদের বেতন নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি)। জানা গেছে, গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তারা কোনো বেতন পাননি।
ভবানীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আমিরুল ইসলাম বলেন, ওষুধ না থাকায় মানুষ এসে নানা কথা বলে। অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। কয়েক মাস বেতন না পেয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেলিনা পারভীন নামের আরেক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘ওষুধ নিতে এসে মানুষ ফিরে যান। তবে তাদের রোগ শুনে আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু ওষুধ লিখে দিই।’
কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সমিতির মেহেরপুর জেলা সভাপতি ফরিদুজ্জামান বলেন, ২৭ প্রকারের ওষুধের বরাদ্দ থাকলেও এখন সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অনেক ক্লিনিকের বেশির ভাগ ওষুধ গত ফেব্রুয়ারিতেই শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় সদর উপজেলায় ২৬টি, গাংনীতে ৩৫টি ও মুজিবনগরে ১১টি মিলিয়ে মোট ৭২টি ক্লিনিক রয়েছে। শুরুতে কয়েকটি ওষুধ সংকট থাকলেও গত ৬ মাসের বেশি সময় ধরে সব ধরনের ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ স্বীকার করেন, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ২৭ ধরনের ওষুধের সরবরাহ বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। তিনি বলেন, ‘ওষুধ না থাকায় বিভিন্ন ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’