ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায়
Nagad desktop

কাউয়াদীঘি হাওরে চলছে ধান বাঁচানোর যুদ্ধ

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
কাউয়াদীঘি হাওরে চলছে ধান বাঁচানোর যুদ্ধ
ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরে ভোর হতেই বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে নেমে পড়েন কৃষকরা। কোথাও বাবা-ছেলে মিলে ধান কাটছেন, কোথাও ধানের আঁটি গুছিয়ে রাখছেন স্ত্রী। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও পাহাড়ি ঢলের শঙ্কায় ফসল বাঁচাতে পুরো পরিবার নিয়ে ধান বাঁচাতে যেন যুদ্ধ করছে একেকটি পরিবার।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে জেলার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওর পাড় ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার মৌসুম এলেও এবার কৃষকের মুখে নেই স্বস্তি। আকাশে মেঘ জমলেই বাড়ছে দুশ্চিন্তা। শ্রমিক সংকট, বাড়তি মজুরি আর অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই নেমেছেন ধান কাটার কাজে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাওরজুড়ে এখন একটাই ভয়, আবার যদি পানি বাড়ে! পাকা ধানের খেত তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। কোথাও ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজাতে শুরু করেছে।

বিরইমাবাদ গ্রামের কৃষক আবদুল কাদির আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের এখন আর কোনো শান্তি নাই। ১০ কিয়ার ধান পানির নিচে চলে গেছে। অনেক কষ্ট করে চার কিয়ার মতো ধান তুলছি। শ্রমিক পাই না, নৌকাও পাই না, যা পাই ভাড়া অনেক বেশি। তাই পরিবারের সবাই মিলে মাঠে কাজ করছি। এই ধান যদি বাঁচাতে না পারি, তাহলে সারা বছরের কষ্টই শেষ।

আরেক কৃষক রমেন দাস জানান, পানিতে চালিয়ে যাওয়া ধানের মধ্যে যা তোলা গেছে তা খুবই সামান্য। তার ওপর সময়মতো শুকাতে না পারায় অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, শ্রমিক ঠিকমতো পাওয়া যায় না। যারা আসে, তাদের মজুরিও অনেক বেশি। তাই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়েই মাঠে নামছি। এই ধানটাই আমাদের সারা বছরের ভরসা। ধান নষ্ট হলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাবে।

রমেন দাসের পাশে দাঁড়িয়ে ধানের আঁটি বাঁধছিলেন তার স্ত্রী সুমি রানি দাস। ক্লান্ত চোখে তিনি বলেন, ভোর হইতে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই থাকি। বাপ-পুঁতে ধান কাইটা নৌকায় করে আনে, আমি আঁটি বাঁধি আর গুছাই। এখন একদিন দেরি মানেই বড় ক্ষতি। আকাশে মেঘ দেখলেই ভয় লাগে আবার যদি বৃষ্টি নামে।

হাওরের মাঠে নারীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো, কেউ ধান শুকাচ্ছেন, কেউ গুছিয়ে রাখছেন, কেউ আবার নৌকায় ধান তুলতে নামাতে সাহায্য করছেন। অনেক জায়গায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও দেখা গেছে পরিবারের সঙ্গে মাঠে সাহায্যে করতে।

কথা প্রসঙ্গে সবিতা, সুমি ও রনি জানায়, বৃষ্টি আসলে সবাই ভয় পায়। ধান ভিজে গেলে অনেক ক্ষতি হবে। তাই আমরাও বড়দের সঙ্গে কাজ করি। ধান না তুলতে পারলে মা বাবার অনেক কষ্ট হবে।

সীমা সূত্রধর বলেন, ঘরের কাজ শেষ করেই মাঠে আসি। ধান না তুলতে পারলে সারা বছরের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। তাই স্বামীর সঙ্গে আমরাও কাজ করছি। এখন বৃষ্টি নামলেই বুক কেঁপে ওঠে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধানের সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে আমাদের জরিপের কাজ চলছে। জরিপ শেষ হলে চূড়ান্ত ক্ষতিটা জানা যাবে।

মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওড়পাড়ের বিরইমাবাদ এলাকায় বৃষ্টি-ঢলের শঙ্কায় পরিবার-পরিজন নিয়েই মাঠে কৃষক। ছবি: খবরের কাগজ

পুলক পুরকায়স্থ/নাঈম

দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
গ্রেপ্তার হওয়া বাস চালক, হেলপার ও সুপার ভাইজার। ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ পুলিশ। এ দুর্ঘটনায় ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক মো. ঝন্টু আলী (৪৮), কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার সুপারভাইজার মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং আলামপুর এলাকার চালকের সহকারী শাকিব হোসেন (২২)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে কুাষ্টিয়া থে‌কে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুসারে বাসের যাত্রীরা নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই ঘটে বিপত্তি। চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ফেরি 'বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর'-এ না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত 'করবী অক্সফ্যাম' ফেরির ওপর উঠে যায়। এরপর ফেরিটির শেষ প্রান্তের র‌্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র‌্যাম্পের শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

নৌ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে সুপারভাইজার ও হেলপার কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় করবী অক্সফ্যাম ফেরির র‌্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি বড় অংশ পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে যায়। এতে সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, নৌ পুলিশের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পেনাল কোডের ২৭৯, ৪২৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ এপ্রিল একই নৌরুটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এবারের ঘটনায় চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বারবার এই ঘাটে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সুমন/নাঈম

মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ
আলম হোসেন মোল্যা। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদী ইউনিয়নের বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. আলম হোসেন মোল্যার বিরুদ্ধে জাল সনদে দীর্ঘ ৯ বছর চাকরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি বিধি মোতাবেক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, যার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।

জাল সনদের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ২০১৯ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. আলম হোসেন মোল্যা ২০০৮ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তিনি কখনো কওমি মাদরাসার কিতাব বিভাগে অধ্যয়ন না করেই জাল সনদ দাখিল করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভ করেন। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন এক সহকারী পরিচালক তদন্ত পরিচালনা করেন। ওই তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক, মসজিদ কমিটির সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুনরায় ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক গঠিত ছয় সদস্যের একটি তদন্ত বোর্ড অভিযুক্ত শিক্ষকের সনদ যাচাই-বাছাই করে। যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন। যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত বোর্ডে দাখিল করা সনদ জাল বলে প্রমাণিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও তিনি শিক্ষক পদে বহাল থাকার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ গ্রহণ করেছেন তিনি। তার এ জালিয়াতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, চাকরি থেকে অব্যাহতি, সরকারি অর্থ ফেরত আদায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আলম হোসেন মোল্যার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তিনি যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য। সেখানে আমি কতটুকু ন্যায়বিচার পেতে পারি? আমার সনদপত্র জাল নয়। আমার সনদে একই ব্যক্তির একই ধরনের স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযোগকারীরা কোথা থেকে একই ব্যক্তির দুই ধরনের স্বাক্ষরসংবলিত সনদপত্র পেয়েছেন, তা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে সনদ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মুফতি কামরুজ্জামান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আলম হোসেন মোল্যাকে তার কাগজপত্রসহ কমিটির সামনে হাজির করা হলে সনদ অনুযায়ী তিনি কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, তা জিজ্ঞাসা করা হয়। কিন্তু তিনি সন্তোষজনকভাবে উত্তর দিতে পারেননি। এতে বোর্ডের সদস্যদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে তার সনদগুলো সঠিক নয়।’

ফরিদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মো. ইয়াসিন মোল্যা বলেন, ‘মো. আলম হোসেন মোল্যার সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তার সনদ ও প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান বলেন, ‘এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার দপ্তরে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশনই ভালো জানে।’

নয়ন/রিফাত/

গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:২০ পিএম
গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

গাইবান্ধার সাঘাটায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর রিপন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ‎

শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কলেজ মোড় সিগন্যাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎নিহত রিপন মিয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ‎হরিরামপুর ইউনিয়নের ধুনদিয়া গ্রামের মৃত্যু দুদু মিয়ার ছেলে।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি বোনারপাড়া স্টেশন ছেড়ে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কলেজ মোড় সিগন্যাল এলাকায় ট্রেনটি এলে ট্রেনের নিচে পড়ে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

‎দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও বোনারপাড়া রেলওয়ে (জিআরপি) পুলিশ তাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

আহত যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বিকেলে ‎বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে জানান, আহত যুবকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে রংপুরে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

‎মিলন/নাঈম

দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান
‘মাওলানা রশীদ আহমদ প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করছেন দৈনিক খবরের কাগজের সিলেট ব্যুরো অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক শাকিলা ববি। ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক খবরের কাগজের সিলেট ব্যুরো অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৪ সাংবাদিকে দেওয়া হয়েছে ‘মাওলানা রশীদ আহমদ প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড’। এরই সঙ্গে আরও দুজন সাংবাদিককে দেওয়া সম্মাননা।

 শুক্রবার (৫ জুন) রাতে নির্ভানা ইন হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার এবং সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

মাহমুদ হোসাইন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রবর্তিত মাওলানা রশীদ আহমদ প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রিন্ট ক্যাটাগরিতে পেয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের সিলেট ব্যুরো অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক শাকিলা ববি, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরের সিলেট প্রতিনিধি আজহার উদ্দিন শিমুল, ফটো সাংবাদিকতায় স্থানীয় দৈনিক একাত্তরের কথার মোহিদ হোসেন ও মফস্বল ক্যাটাগরিতে দৈনিক যুগান্তরের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি হারিছ আলী।

পাশাপাশি প্রবীণ সাংবাদিক সম্মাননা পেয়েছেন মুহম্মদ বশিরুদ্দিন ও মরণোত্তর ক্যাটগরিতে সম্মাননা পেয়েছেন ২৪ এর আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শহীদ সাংবাদিক এ.টি এম তুরাব।

বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের উপদেষ্টা( ফরেন অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল) ইংল্যান্ডের টাওয়ার হ্যামলেটস বারা’র প্রথম নির্বাহী ডেপুটি মেয়র অহিদ আহমদের সভাপতিত্বে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিথি শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো ভাইস চেন্সলর অধ্যাপক সাজেদুল করিম, সিটি করপোরেশন প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএমএর সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা.শামিমুর রহমান, ইংল্যান্ডের জজ ব্যারিস্টার নাজ খসরু,স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক মাহবুবুল আলম, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, বাংলাদেশ স্কাউট সিলেটের আঞ্চলিক কমিশনার মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নারজিস, দৈনিক সিলেট মিররের প্রধান সম্পাদক জিয়াউস শামস শাহীন, সিলেট ভয়েসের প্রকাশক সেলীনা চৌধুরী, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুবর্ণা হামিদ, সিলেট উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পা, সিনিয়র সাংবাদিক সেলিম আউয়াল প্রমুখ।

‘মাওলানা রশীদ আহমদ প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড’ এর আয়োজক অহিদ আহমদ বলেন, মরহুম মাওলানা রশীদ আহমদ আমাদের ভাই ছিলেন। আমরা আমাদের ভাইর স্মৃতি ধরে রাখতে এ উদ্যোগ নিয়ে।  কারণ তিনি জীবদ্দশায় সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চেয়েছিলেন। আমরা তার স্বপ্নকেই প্রাধান্য দিয়েছি। প্রথম এমন কিছু আয়োজন। তাই অনুষ্ঠান পরিচালনায় আমাদের অনেক ঘাটতি ছিল। তবে এটাই শেষ নয়। এই পুরস্কার অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আমরা অনেক সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠান করবো।

শাকিলা ববি/এসএ

নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫
ছবি: খবরের কাগজ

নড়াইল-যশোর সড়কে যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নতুন টার্মিনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নড়াইল থেকে যশোরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নতুন টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে একটি ভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় বাসের অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন।

নড়াইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

শরিফুল ইসলাম/রিফাত/